মামুনূর রহমান হৃদয় :: পদ্মা সেতু এখন শুধু স্বপ্ন নয়, বাস্তব। এক সময়ের স্বপ্নের এই সেতু নিজস্ব অর্থায়নে ৪১তম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃষ্টিসীমায় দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকল বাঁধা-বিপত্তি অতিক্রম করে দক্ষিণের ২১ জেলাকে করেছে মেলবন্ধন। একদিকে যেমন উন্নিত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক তেমনি বাড়তে চলেছে অর্থ ও বাণিজ্যর প্রসার।

পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণের জন্য নব্বই দশক থেকে দক্ষিণের মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছিল। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগ। আর উন্নয়ন-বঞ্চনা নয়, এবার আসছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুসময়। মোংলা বন্দরের সঙ্গে দ্রুতগতির যোগাযোগ, গ্যাস পাওয়ার সুবিধা, বিনিয়োগের পরিবেশ—সব কিছুই যেন চলে আসছে হাতের নাগালে। এক কথায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে। যার ফলে পদ্মা সেতু দক্ষিণের মানুষের মনে দিচ্ছে খুশির দোলা।

ঢাকা কলেজ অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, বর্তমান দক্ষিণাঞ্চলের অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঢাকায় বাস করছেন। যদিও এলাকায় তাদের জমি-জমা, বসত-বাড়ি আছে। পদ্মা সেতু চালু হলে অনেক পরিবার ঢাকা থেকে চলে যাবে। কারণ নিকটবর্তীরা নিয়মিত সেখান থেকে এসেই কার্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন। খুব স্বল্প সময়ে ঢাকা পৌঁছতে পারবেন। এতে করে ঢাকার উপর জনগোষ্ঠীর অধিক চাপ ক্ষণিকের জন্য হলেও শীতল হবে।

অপরদিকে , ঢাকা মেডিকেল কলেজে অধ্যায়ণরত শিক্ষার্থী রজনী আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “চিকিৎসাসেবার জন্য অনেক আধুনিক প্রযুক্তি ঢাকার বাইরে নেই। ফলে অনেকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা আসেন। বিশেষভাবে স্ট্রোক কিংবা হেড ইনজুরিতে পতিত রোগীরা ঢাকায় আসেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে , রাত্রিকালীন লঞ্চ কিংবা সড়কপথে পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘসমের যেরেই পথেই মারা যেত অনেক রোগী। এমনও হয়েছে যে, ফেরিঘাটে গিয়ে যথাসময়ে ফেরি না পাওয়া কিংবা কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকা অথবা নদীর মাঝপথেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েছেন অনেকে । পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে আসবে। হয়তো আমাদের এরকম অসহায় মৃত্যু আর দেখতে হবে না ।”

বিশেষ সূত্র অনুযায়ী, অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, “সেতুটি বাস্তবায়নের ফলে অর্থনীতিতে সরাসরি এর সুফল পাওয়া যাবে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নে অর্থনীতিতে সরাসরি তিন ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। প্রথমত, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে পাশাপাশি বিনিয়োগ বাড়বে । দ্বিতীয়ত, কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। তাদের উৎপাদিত পচনশীল পণ্য সরাসরি ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠাতে পারবেন। এতে পণ্যের ভালো দাম পাওয়া যাবে। তৃতীয়ত, এ সেতুর ফলে সামগ্রিকভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বিস্তার হবে। যেমন: তাত শিল্প, পাট শিল্প, সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। ”

সবমিলিয়ে এটি বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতার পর্যায়ে পৌঁছাতে পথ দেখাবে। পদ্মা সেতু ইট-পাথরের তৈরি কোন সাধারণ সেতু নয়, এটি হচ্ছে শত কোটি মানুষের হৃদয়ের ভালোবাসা। সকল বাঁধা-বিপত্তিকে জয় করার অদম্য স্পৃহা ও আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে অপার সম্ভাবনার দৃশ্য দেখতে প্রস্তুত এক অনন্য বাংলাদেশে ।

 

 

লেখক: শিক্ষার্থী, সরকারি তিতুমীর কলেজে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here