আবু হোসাইন সুমন, মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি :: 
পদ্মা সেতুর সুফলে ঢাকার গার্মেন্টস পণ্য মোংলা বন্দর দিয়ে বিদেশে রপ্তানী শুরু হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে কন্টেইনারে পদ্মা সেতু হয়ে মোংলা বন্দরে আসা এ পণ্য যাচ্ছে পোল্যান্ডে। 
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, ঢাকা, গাজীপুর, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের ২৭টি ফ্যাক্টরীর ১৭ কন্টেনার গার্মেন্টস পণ্য পদ্মা সেতু হয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে আসে। এ গার্মেন্টস পণ্যগুলো এখন বোঝাই করা হচ্ছে মোংলা বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে অবস্থানরত পানামা পতাকাবাহী এম,ভি মার্কস নেসনা জাহাজে। এ গার্মেন্টস পণ্যের মধ্যে রয়েছে বাচ্চাদের পোশাক, জার্সি ও কার্ডিগান, টি-শার্ট, ট্রাওজারসহ বিভিন্ন পণ্য। এ সকল গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে বিদেশী জাহাজ মার্কস নেসনা বৃহস্পতিবার সকালে মোংলা বন্দর ত্যাগ করবে। মোংলা বন্দর থেকে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের ১৭টি কন্টেইনারে ৩৪ টিইউজ গার্মেন্টস পণ্য নিয়ে জাহাজটি যাবে পোল্যান্ডে। এর আগে এ গার্মেন্টস পণ্য নিতে বিদেশী জাহাজ মার্কস নেসনা সোমবার মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়ে।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সবচেয়ে বড় চালান হিসেবে পোল্যান্ডে যাচ্ছে ঢাকার এ গার্মেন্টস পণ্য। এর আগে পদ্মায় ফেরি সার্ভিসকালে যৎসামান্য পণ্য বিদেশে রপ্তানী হয়েছে এ বন্দর দিয়ে। মুলত পদ্মার ফেরি জটিলতার কারণে ঢাকার এ গার্মেন্টস পণ্যের সিংহভাগই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিদেশে রপ্তানী হতো।
কিন্ত পদ্মা সেতুর সুফলেই গার্মেন্টস পণ্যের বড় চালান আসতে শুরু করেছে মোংলা বন্দরে। পদ্মা সেতুর সুবাদেই মোংলা বন্দর দিয়ে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন ঢাকার ব্যবসায়ীরা।
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ঢাকা থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব এখন ১৭০ কিঃ মিঃ। আর ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম বন্দরের দূরত্ব ২৬০ কিঃ মিঃ। মোংলা বন্দরে জাহাজ হ্যান্ডেলিং দ্রুত ও নিরাপদ হওয়ায় একই সাথে ঢাকার সাথে দূরত্ব কমে যাওয়ায় সময় ও অর্থ দুইয়েরই সাশ্রয়ে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানী-রপ্তানীতে আগ্রহী হয়ে পড়েছেন।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা বলেন, মোংলা বন্দরের জন্য এই গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীর বিষয় একটি স্মরনীয় ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ১ মাসের মধ্যে এ সেতু হয়ে মোংলা বন্দরের মাধ্যমে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানীর নবযাত্রা শুরু হলো। বিভিন্ন গার্মেন্টস কোম্পানীর কন্টেইনার পণ্য নিয়ে সরাসরি এ বন্দর হতে পোল্যান্ডের উদ্দেশ্যে এ পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ভবিষ্যতে আমদানী-রপ্তানীর এ ধারা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তিনি।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here