সরেজমিনে দেখা গেছে, গোলডাডাঙ্গী সড়কের জামাল সিকদারের বাড়ির কাছে ১০০ মিটার, জাফর প্রামাণিকের বাড়ির সামনে ৫০ মিটার, জলিল শেখের বাড়ির সামনে ১৫০ মিটার এবং নিকিলী হাওর এলাকার অন্তত ৫০০ মিটারসহ সড়কের ৮০০ মিটার অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।

পানিতে তলিয়ে গেছে নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের কাইমুদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী, বরান বিশ্বাসের ডাঙ্গী, বাসের মোল্লার ডাঙ্গী, শুকুর আলী মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামগুলো। এ ছাড়া পাশের ডিক্রির চর ইউনিয়নের আয়জদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রাম এবং চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের চর বালুধুম, বাঘের টিলা ও লালার গ্রমের এক হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

নর্থ চ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান বলেন, তাঁর ইউনিয়নে চার শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ডিক্রিরচর ইউপির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান জানান, তাঁর ইউনিয়নের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দী।

জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যাটা পর্যন্ত গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সেখানে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। দুদিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।

গতকাল দিনব্যাপী গ্রামগুলো নৌকা করে ঘুরে দেখেন দৌলতপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল হান্নান। তিনি বিকেলে বলেন, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নে অন্তত দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যসহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তালিকা করে দিতে বলা হয়েছে। আর পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আর এক–দুই ফুট পানি বাড়লে সব বাড়িঘর পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়বে।

পাউবো সূত্র জানায়, তিন–চার দিন ধরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্টে গতকাল সকাল ছয়টায় পদ্মার পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। প্রতিদিন গড়ে পদ্মায় ১০ সেন্টিমিটার করে পানি বাড়ছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউপির চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, পানিতে অন্তত ৬০ ভাগ বসতবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

দৌলতপুরের ইউএনও শারমিন আক্তার বলেন, গ্রামে পানি ঢোকার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে পিআইওর নেতৃত্বে একটি দল পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককেও জানানো হয়েছে। ওই এলাকাসহ আশপাশের ইউনিয়নগুলোতে নজর রাখা হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here