স্টাফ রিপোর্টার :: পটুয়াখালী জেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দু’ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির স্বেচ্ছাসেবক লিডার শাহআলম মীর (৫৫) ও গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু রাসাদ। শাহআলম মীর ৩০ বছর ধরে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার দুপুরে দায়িত্ব পালন কালে তিনি নৌকাসহ নদীতে ডুবে যান। রাতে তার লাশ উদ্ধার হয়।
এদিকে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাথমিক তথ্য মতে, জেলার ৭৩টি ইউনিয়ন এবং ৫টি পৌরসভায় আঘাত হানে আম্পান। ঘূর্ণিঝড়ে এসব এলাকার ৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৭০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার ৮টি উপজেলায় ৮১২১টি বাড়ি আংশিক এবং ২৩৫৫টি বাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সতর্ক সংকেত জারি করার পর পরই ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে ২০০ মেট্রিক টন জিআর চাল, জিআর ক্যাশ ৩ লাখ টাকা, ৩ হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার, ২ লাখ টাকার শিশু খাদ্য এবং গো খাদ্যের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়।
অপরদিকে, পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের অনেক এলাকায় বাঁধের উপরে পানি প্রবাহিত হয়। এ সময় বিপদ সীমার ১৭৬ সেন্টিমিটার ( প্রায় ৬ ফিট) উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়েছে।
জেলায় মোট আট কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা এবং দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের বুড়ির কান্দা এলাকার বাঁধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলায় বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সে সব তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে।
রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলার অন্তত ১৮ টি গ্রাম বৃহস্পতিবারও জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে। মরিচ, ডাল, চিনাবাদামসহ রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here