নেত্রকোণায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নেত্রকোণায় নদ-নদীর পানি বাড়ছে। কোনো কোনো নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) রাত ৮টা পর্যন্ত জেলার কলমাকান্দা উপজেলার প্রধান নদী উব্দাখালীর পানি বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় পরিমাপক মোবারক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উব্দাখালী নদীর ডাক বাংলা পয়েন্টে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় পানি ১৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যদি টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকে তাহলে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে জেলার ১০ উপজেলার কিছু নিচু এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওইসব এলাকার সাধারণ মানুষ। জেলার দুর্গাপুর উপজেলার প্রধান নদী সোমেশ্বরীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকার কারণে নদীভাঙনের কবলে পড়েছে নদী তীরবর্তী ফারংপাড়া গ্রামসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। জেলার হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীর ধনু নদের পানি বৃদ্ধির ফলে নদের তীরের কৃষ্ণপুর এলাকার সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়েছে।

দুর্গাপুরের রাজেশ গৌর জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় ফারংপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং জিও ব্যাগ স্থাপন করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে।

খালিয়াজুরীর শুভ সরকার বলেন, নদ-নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ের কারণে কৃষ্ণপুর এলাকার সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়েছে এবং হাওর এলাকার অনেক গ্রামের বসতভিটা বিলীন হওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

জেলার কলমাকান্দা উপজেলার আগবগাজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজল কুমার ঘোষ বলেন, আমাদের কলমাকান্দা একটি বন্যাপ্রবণ উপজেলা। এ উপজেলার মানুষ প্রতি বছরই বন্যার কবলে পড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বছরও মনে হচ্ছে বন্যা আসন্ন। এরই মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়সহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে গেছে। এতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।

কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুল হাসেম বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও বন্যা মোকাবিলায় সচেতন করে তুলতে নানা রকম প্রচারণা চালানো হচ্ছে। যেকোনো দুর্যোগে প্রশাসন সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here