আবু সাঈদ অপু , নীলফামারী থেকে ::

নীলফামারীতে জমজমাট এখন সুদের ব্যবসা | ক’দিন আগেও যারা রিক্সা কিংবা পানের দোকান এবং হোটেল বয় হিসেবে যারা কাজ করে জীবন-যাপন করতো ; নুন আন্তে যাদের পান্থা ফুরার মতো অবস্থা- তারা এখন সুদের ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ | প্রয়োজনে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে অতিরিক্ত লাভের আশায় টাকা নিয়ে পুরো টাকাটাই  বিনিয়োগ করছেন সুদ ব্যবসায় পাশপাশি ব্যাংকের টাকা টাকাই থেকে যাচ্ছে। যদিও ব্যাংকের এক হাজার টাকায় মুনাফা অনেক কম। তাই এই পথে এখন ঝুকে পড়েছে অসংখ্য মানুষ। এছাড়া্র নামে-বেনামে রেজিষ্টেশন বিহীন এনজিও’র নাম করে- ঋাণ দেয়ার নামে চোখে ধুলো দিয়ে – আর সরকারকে রয়েটিলটি না দিয়ে – মাইক্রোক্রেডিট ফাংশনের নাম করে রীতিমতো প্রশাসনের নাকের ডগার উপর দিয়ে চালাচ্ছেন সুদ ব্যবসা।এ যেন দেখার কেউ নেই। তবে , এই জেলার অনেক শ্রমিক এখন এই সুদ ব্যবসা করে ;ফকির থেকে রাতারিত বুনে গেছেন লাখ-লাখ টাকার মালিক। তবে কোটিপতির সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। তবে , সচেতন মহলের প্রশ্ন তাহলে নীলফামারী জেলা সমবায় অফিস কি দিয়ে ঘুমাচ্ছেন? মতামত সচেতন মহলের। নাকি সব জেনে-শুনেও দেখে না দেখার ভান করছেন প্রশাসন বলেও ? এমন মতামত প্রকাশ করতে ভুলেননি সুদ বিরোধীরা।  

পৃথিবীতে সুখী থাকতে চায় না – এমন মানুষের সংখ্যা খুব কম। তাইতো অভাব-অনটন মোচনে আর সাময়িক লাভের আশায় ভুক্তভোগীরা এই সুদের ফাঁদে পা-দিয়ে দেওলিয়াও হওয়ারও ভুড়ি-ভুড়ি প্রমান রযেছে এই সমাজে। এবার আসা যাক বীপরীত চিত্রে।অতীব প্রয়োজনে অনেকে বাধ্য হয় এসব সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে বছরের পর বছর ।এমনকি মাথা গোঁজার শেষ ঠাঁই টুকুও বিক্রি করে অনেকে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে , ব্যাংকের চেক আর দলিল সুদ ব্যবসায়ী কাছে মূল কপি গচ্ছিত থাকায় প্রতিবছরেই পড়ে থাকতে হচ্ছেন প্রমীন ভাষায় সুদারু বা সুদ ব্যবসায়ীদের কাছে। রয়েছে টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অতীত সাতকাহনে আত্নহত্যার মতো ঘটনাও। যার অধিকাংশ শিকার হন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। বাদ নেই সরকারি কর্চারীরাও।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন জরুরী প্রয়োজনে – সুদের টাকা গ্রহন করতে হলে, অবশ্যই নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেক ও স্টাম্পের উপর  স্বাক্ষর করে এবং সুদ ব্যবসায়ীদের নিজস্ব বেতনভুক্ত স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে টাকা গ্রহন করতে হবে। আর পরিশোধে হের-ফের হলে , সরলতার সুযোগ নিচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীরা |হাতিয়ে নিচ্ছেন অধিক মুনাফা ।সপ্তাহিক, পাক্ষিক মাস ওয়ারী নয়। প্রতিদিন হাজারে দিন প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা সুদ গ্রহন করা হচ্ছে।যা প্রতিদিন উত্তোলনে একটি এলোপাথারী হোমড়া-চোমড়া বাহিনী রীতিমতো প্রম্তুতিও থাকে বলে নাম প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতিতে এসব জানান ভুক্তভোগীরা।

টাকা দিতে কোন প্রকার নয়-ছয় হলে ঘরের আসাবাদপত্র থেকে শুরু করে গরু-ছাগল এমনকি অনেকে লাঞ্চনার শিকার হলেও লোক লজ্জার ভয়ে অনেকে নিরবে সহ্য করছেন সুদ ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মনগড়া আইন মানতে |তবে ব্যাংকিং সেক্টরের হিসেব কষলেই অনুধাবন করা সম্ভব বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি কিংবা স্বায়ত্তশাসিত ব্যাংগুলোর চেয়ে তিগুন মুনফা হাতিয়ে নিচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীরা |

সরেজমিনে নাম প্রকাশ না করার দাবিতে এই প্রতিবেদককে জানান, জেলার ৬টি উপজেলায় ৬১টি ইউনিয়নেই এই সুদের ব্যবসা চলছে । বিশেষ করে- ডোমার-ডিমলা-জলঢাকা-কিশোরগঞ্জসহ জেলার সদর উপজেলার পাঁচমাথা, বাদিয়ারমোড়, কালিতলা, রামনগর, টেংগনমারী, ইটাখোলা, পঞ্চপুকুর  ইউনিয়নসহ প্রায় ৬১ টি ইউনিয়নের মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় সুদের এই ব্যবসা এখন জমজমাট।

এছাড়াও বিভিন্ন দোকানগুলো এখন বাকিতে মালামালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে সুদ অঙ্কে । যদিও সাংবাদিকদের সামনে নাম প্রকাশ না করার মৌখিক প্রতিশ্রুতিতে এসব মানুষ কথা বলতে নারাজ প্রতিবেদকের কাছে। এদিকে , সাম্প্রতিক সময়ে সরকার সুদ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে একটি পদক্ষেপ গ্রহন করলেও মাঝে-মাঝে দু’একজন প্রকাশ্যে আসলেও অধিকাংশ সুদ ব্যবসায়ী থাকছে ধরা ছোয়ার বাহিরে ।

তবে সচেতন মহলের অভিযোগ , রাজস্ব আদায় কতৃপক্ষ একটু সজাগ হলে  এই সিন্ডিকেড থেকে অনেক ভুক্তভোগী বেড়িয়ে আসা সম্ভব বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা ।এদিকে সুদের ব্যবসায় মাত্র ৬ মাসের মধ্যেই অনেকেই বুনে যাচ্ছেন রাতারাতি লাখপতি। তকে কোটিপতি কাতার এবার ঠেকেছে ৫০ জনের উপেরে ।আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তারা এবং সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে বেশ   ক‘জন চেয়ারম্যান জানান, সুদের টাকার বিচার করতে করতে তারা অনেকে হাঁপিয়ে গেছেন ।এজন্য প্রশাসনেরও হস্তক্ষেপ কামনা করেন নবাগত ইউপি চেয়ারম্যানরাও । আর এজন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এনএসআই, ডিজিএফআই, সিআইডিসহ অন্য সংস্থাগুলো সংবাদিকদের সাথে সমন্বয় করে – একটি একনিষ্ঠ কমিটি গঠন করা হলে আইনের আওতায় আনার সম্ভব বলেও জানান ভুক্তভোগীরা ।

যার বাস্তব প্রমান মিলবে মাসের শেষে সুদ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা অসংখ্য শিক্ষকের চেক বই নিয়ে হাজির হওয়ারও দৃশ্য অহরহ । এক সাথে ৪০ থেকে ৫০টি চেকের টাকা ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করে- চটের ব্যাগে নিয়ে যাচ্ছেন চুক্তিভিত্তিক টাকা।বিষটি হলো চাকুরী করেন ওরা ; আর বেতন তুলেন সুদ ব্যবসায়ীরা। এজন্য অভাবকেই দায়ী করেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে সুদ ব্যবসার বিষয়ট এখন যেন ওপেন-সিক্রেট ।

আবার অনেকে সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে পথের ফকির হওয়ার নজিরও অহরহ রয়েছে এই জনপদে আনাচে-কানাচে। একটি নির্রযোগ্য সূত্র দাবি করে বলছে, অনেক সুদ ব্যবসায়ীদের বাড়িতে মটর সাইকেলের যেন শো-রুম খুলে বসেছেন | টাকা দিতে না পারায় অনেকের মটর সাইকেল কেড়ে নিয়ে নিজে চালাচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীরা | তবে এর প্রতিবাদ করতে গেলে এনআই অ্যাক্ট বা নেগেসিয়েবল অ্যাক্ট (চেকের) মামলার ভয়ে দেখায় নিরবে নিভূতে কাঁদছেন ভুক্তভোগীরা | তবে যারা সুদের কালো থাবায় নি:স্ব হয়েছেন, তারা এখন অনেকে পথের ফঁকিরে পরিণত হয়েছেন |এজন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনেকেই।

আর এর ফলে, ব্যাংগুলোতে এখন টাকা সঞ্চয়কারীদের সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অনেক ব্যাংকের ম্যানেজাররা । এর ফলে দিন দিন লোকসানের দিকে ঝুকছে এসব ব্যাংকগুলো-বীমার মতো প্রতিষ্ঠানগুলো | তবে বেশ ক’জন সুদ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলতে চাইলে এড়িয়ে যান অনেকেই | কেউবা কথা বলতে চেয়েও ক্ষনিকের মধ্যে লাপাত্তা হয়ে যান।অপরদিকে এ জেলায় অনেক রেজিষ্ট্রেশনবিহীন অনেক এনজিও আবেদনের দোহাই দিয়ে নিবিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছেন মাইক্রোক্রেডিট ফাংশন। তবে নামমাত্র এনজিও হলেও টাকা কিন্তু নিচ্ছেন সুদ ব্যবসায়ীদের পারসেনটেন্স হারে। যার অনেক গল্পই জানা নীলফামারী জেলা সমবায় অফিস। তবে এ প্রসঙ্গ নিয়ে বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলেও দেখা মেলেনি প্রধান দায়িত্বে নিয়োজিত অফিসারের।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here