উদ্যোক্তা সুমাইয়া কেয়া

মোঃ আল জাবেদ সরকার :: নারী মানেই দূর্বল। এই প্রথা এখন নারীরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে ভেঙে দিতে সক্ষম। আজকে কথা বলবো তেমনই একজন নারী উদ্যোক্তার সাথে। চট্টগ্রামের উদ্যোক্তা সুমাইয়া কেয়া। নিজের বিজনেস পেইজ এবং গ্রুপের পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তার খোঁজে ( IS of WE) নামক উদ্যোক্তা নির্ভর সংগঠন এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে আছেন সুমাইয়া কেয়া।

ইউনাইটেড নিউজ : আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন?
সুমাইয়া কেয়া: ওয়ালাইকুম আসসালাম।আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো।

ইউনাইটেড নিউজ : আপনার বাড়ি কোথায়?
সুমাইয়া কেয়া: ঢাকার আজিমপুরে।

ইউনাইটেড নিউজ : আপনি কি নিয়ে কাজ করেন?
সুমাইয়া কেয়া: আমার বিজনেস প্রতিষ্ঠানের নাম কাসিমাত।এটি একটি আরবি শব্দ যার অর্থ সৌন্দর্য।আমি কাজ করছি দেশীয় হস্ত শিল্প প্লেটেড গহনা নিয়ে।সব গহনার ডিজাইন আমি নিজেই করি।

ইউনাইটেড নিউজ : কেন মনে হলো উদ্যোক্তা হবেন?
সুমাইয়া কেয়া: আমরা পাঁচ বোন।খুব কম বয়সে বাবাকে হারাই।আম্মুকে প্রায় মন খারাপ করে থাকতে দেখতাম- একটা ছেলে নাই তাই।তখন থেকেই মনে স্পৃহা জাগে এমন কিছু করবো যাতে আমার মা কখনো আফসোস না করে তার কোন ছেলে নেই।

ইউনাইটেড নিউজ : গয়না নিয়ে কাজ করার আগ্রহ কেন হলো?
সুমাইয়া কেয়া: পড়াশোনার ফাকে ফাকে শখের বসে একসময় অল্পকিছু গহনা নিজেই ডিজাইন করে পরিচিত এক কারিগর দিয়ে বানিয়ে নিলাম। আশপাশের সবাই দেখে উৎসাহ দিল। সবাই খুব প্রশংসা করলো আর আমি পেলাম উৎসাহ। সেই থেকে শুরু। তারপর হাটি হাটি পা পা করে আজ আমি গড়ে তুলেছি আমার স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান কাসিমাত (Qasimat)।

ইউনাইটেড নিউজ : পরিবারে কে কে আছেন?
সুমাইয়া কেয়া: আমি বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একাউন্টিং এর উপর প্রফেশনাল মাস্টার্স করছি। আমার পরিবারে আমরা পাঁচ বোন।তেইশ বছর আগে বাবা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।২০১৭ সালে প্রিয় মাকেও হারাই।মোটামুটি কম বয়সেই মা-বাবার আদর থেকে বঞ্চিত আমি।এখন স্বামী সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়।

ইউনাইটেড নিউজ : উদ্যোক্তা জীবনে কি কোন বাঁধা পেয়েছেন?
সুমাইয়া কেয়া: আলহামদুলিল্লাহ্ এখন পর্যন্ত বৈবাহিক কারণে কোন বাঁধা আসে নাই।চট্টগ্রামে আমার স্বশুরবাড়ি। শশুর বাড়ির প্রতি নিজের সব দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন পুরনের পথে হাটছি।

ইউনাইটেড নিউজ : এই পর্যন্ত পৌছানোতে কার অবদান বেশি মনে করেন?
সুমাইয়া কেয়া: মূলত ইন্টারনেশনাল গহনা ডিজাইনাররাই আমার মূল অনুপ্রেরণার কারণ।তাদের কাজ দেখে আমি সব সময় অনুপ্রাণিত হই।আমার এই পর্যন্ত পৌঁছনোর পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান আমার স্বামী মোমিনুল হকের।সে তার সকল ব‍্যস্ততার মাঝেও আমার কাজে সহায়তা করছে। এছাড়াও আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি আর বোনেরাও অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

ইউনাইটেড নিউজ : ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
সুমাইয়া কেয়া: ভবিষৎ পরিকল্পনা হচ্ছে নিজের পণ্য কে ব্রান্ড পণ‍্যে পরিণত করা।নিজের একটা সোরুম প্রতিষ্ঠা করা।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here