ইমা এলিস/ বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক ::
‘আষাঢ়ে নববর্ষ’ পালন করে নতুন রেকর্ড করলেন নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। গত ২ জুলাই মঙ্গবার (১৮ আষাঢ়, ১৪৩১) স্থায়ী মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। বাংলা নববর্ষ শুরুর প্রায় ৩ মাস পর দিনটি উদযাপন করায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুষ্ঠানটি প্রায় গোপনেই হয়েছে বলা যায়। কারণ স্থায়ী মিশনের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নিয়মিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ কেউই আমন্ত্রণ পাননি উক্ত বাংলা নববর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে। এ নিয়ে প্রবাসীদের মঝে নানা কানাঘূষা।      
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গবার (২ জুলাই) উৎসব মুখর পরিবেশে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ ও তাঁদের স্পাউজগণের অংশগ্রহণে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে আয়োজিত এই আনন্দঘন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে মিলনায়তনকে আবহমান বাঙালির সংস্কৃতির নানা উপাদানে সাজিয়ে তোলা হয়। ঢাক-ঢোল-একতারা, পালতোলা নৌকা, ডালা-কুলা, তালপাতার পাখা, নকশী কাঁথা, মাটির পুতুল, মাটির থালা-বাসন, কাঁচের চুড়ি, আলপনা ও নানা-বর্ণের ব্যানার-ফ্যাস্টুন-বেলুনে বর্ণিল হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তন।
জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের স্থায়ী মিশনসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধি, কনসাল জেনারেল, সিনিয়র কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও তাঁদের স্পাউজগণ এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এর সহধর্মীনি মিসেস রুবি পারভিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বিদেশী অতিথিদের সামনে বাংলা নববর্ষের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরবণ তুলে ধরেন।
এসময় তিনি বাংলার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার  উপর আলোকপাত করেন যেখানে সকল ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সাথে বসবাস করে। এই চেতনা ও সম্প্রীতিই, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অনুপ্রেরণা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাচ, গান ও আবৃতির সমন্বয়ে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষন। নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস এর শিল্পীবৃন্দ এবং স্থায়ী মিশনের কর্মকর্তাগণের পরিবারের সদস্যগণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিবৃন্দকে পিঠা-পুলি, নাড়ু, মুড়ি-মুড়কি, সাজ-বাতাসা, পায়েস, চটপটি, ফুচকা, মিষ্টিসহ নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী বাঙ্গালী খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।
বাংলা নববর্ষ শুরুর প্রায় ৩ মাস পর প্রায় গোপনে এ দিনটি উদযাপনকে ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে স্থায়ী মিশনের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নিয়মিত অতিথি, গণমাধ্যমকর্মী, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরা আমন্ত্রণ না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজনৈতিক নেতা বলেন, বাংলা নববর্ষ উদযাপনের জন্য স্থায়ী মিশন প্রচুর পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ পান। বরাদ্দকৃত সেই অর্থ তছরুপ করার জন্যই প্রায় ৩ মাস পর দিনটি উদযাপন করেছে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন। তারা প্রকৃত খরচের বিপরীতে দ্বিগুণ ব্যয় দেখিয়ে মন্ত্রণালয়ে বিল পাঠাবেন। তাছাড়া আর অন্য কোন কারণ নেই।
তিনি উল্লেখ করে বলেন, বাংলা নববর্ষ শুরুর প্রায় ৩ মাস পর দিনটি উদযাপনের নজির বিশ্বে আর কোন মিশন বা দূতাবাসে নেই। এটিই প্রথম ঘটনা। এজন্য তাদের নাম গিনেজ বুকে পাঠানো দরকার। বিলম্বে অর্থাৎ আষাঢ় মাসে পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপনের কারণ কি? ইমেইল ও খুদে বার্তায় জানতে চাইলে নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের কেউই কোন সদুত্তর দেননি।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here