ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডেস্ক :: নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৬তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সকাল ৯টা ২৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি চার্টার্ড ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী প্লেনটি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে অবতরণ করবে। সেখানে দুই দিনের যাত্রাবিরতি করবেন প্রধানমন্ত্রী। যাত্রা বিরতিতে প্রধানমন্ত্রী হেলসিঙ্কির হোটেল ক্যাম্প-এ (Hotel Kämp) থাকবেন।

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার দীর্ঘ ১৯ মাস পর এটিই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর।এ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ৮০ জন সফরসঙ্গী রয়েছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘আশা’। করোনা দূর করতে নতুন প্রত্যাশা নিয়ে এ প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে। এবারও প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন।
অধিবেশনে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে’ বিশ্বব্যাপী বৈষম্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) সংক্রান্ত বিষয়গুলো বড় ইস্যু হিসাবে আলোচনা করা হবে। গুরুত্ব পাবে রোহিঙ্গা ইস্যুও। তবে আলোচনায় আফগানিস্তান ইস্যু থাকছে না।
এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন হবে সীমিত আকারে। চলবে দুই সপ্তাহ ধরে। ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বনেতারা বক্তব্য দেওয়া শুরু করবেন। এ উদ্দেশে শুক্রবার সকালে প্রথমে ব্যক্তিগত কারণে ফিনল্যান্ড যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।১৯ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছবেন। এর পর ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবাহিক অধিবেশনের কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণ করবেন।
জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশ্বের প্রায় ৬১ দেশ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ঝুঁকিতে আছে। উন্নত দেশগুলোর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাদের আগ্রাসী উদ্যোগ নিয়ে সেখানে আলোচনা হবে।
উন্নত দেশগুলো ২০১৫ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল প্রতি বছর ১২০ বিলিয়ন ডলার তহবিলে জমা দেবে। ২০২০ সালে এ তহবিলে প্রতিশ্রুতির অর্থ জমা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে জোরালো আলোচনা করা হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন, নদীভাঙনসহ নানা কারণে বহুলোক ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। ২০৫০ সালে এটি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার কথা। এসব নিয়ে আলোচনা হবে।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়টি একটি বড় ইস্যু হিসেবে আলোচনা থাকছে। টিকা নিয়েও আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন কোনো শর্ত ছাড়াই সব দেশের টিকা পাওয়া উচিত। এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী গ্রুপের সঙ্গে পৃথক একটি বৈঠক করবেন। ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here