নিউইয়র্কে বন্ধু এভারের সাথে

নাজমুন নাহার :: নিউইয়র্কে যতবারই আসি ততবারই ভালো লাগে। সন্ধ্যায় যখন ম্যানহাটনের অন্য পাশে দাঁড়িয়ে এই শহরটাকে দেখি তখন মনে হয়- সবকিছুর মাঝে কি অপূর্ব মায়া। চারপাশে জলরাশি, রাতের নিয়ন আলো, উঁচু- নিচু রাস্তা, আকাশছোঁয়া ভবন, সারা পৃথিবী থেকে আসা মানুষের আনাগোনা সব মিলিয়ে সন্ধ্যার নিউইয়র্কে মনে হয় এক নির্ঘুম জীবন্ত রাজ্যের আস্তানা।

এই শহরে যত বারই এসেছি আমার কখনোই একা একা লাগেনি। রাস্তায় বেরোলেই কত স্বতঃস্ফূর্ত মানুষের দেখা মিলে, আমেরিকানরা হেসে কথা বলতে জানে। রাস্তায় কাউকে ছবি তুলতে দেখলে নিজের থেকে এগিয়ে এসে বলবে- “তোমাকে ছবি তুলে দিব’!

রেস্টুরেন্টে খেতে বসলে পাশ থেকে কুশলাদি জিজ্ঞেস করবে। যেকোনো ধরনের খাবার খেতে চাইলে এই শহরে তা মিলে যায়। আমাদের মত অতিথি পাখিদের কাছে এমনইতো ভালো লাগে।

আমি আর আমার প্রিয় বন্ধু এভার দুজন মিলে সারাদিন ঘুরে ফিরে ব্রুকলিন ব্রিজের কাছাকাছি থেকে ম্যানহাটনের দৃশ্য দেখার জন্য একটা হোটেলের ছাদ ভিউ রেস্টুরেন্ট উঠে পড়লাম। এভার আর আমি খুবই ভালো বন্ধু। ও অামেরিকান। যতবারই আমেরিকায় এসেছি ততবারই সে আমার সাথে দেখা করেছে। এবার দু’বছর পর দেখা হলো। গল্পের ঝুড়িটা তাই অনেক বড় ছিল। সেই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কিভাবে সময় কাটলো দুজনের টেরই পেলাম না। ।

মন খুলে কথা বলার মত মানুষের জীবনে কিছু বন্ধু থাকে সে আমার তেমনি একজন। সারা পৃথিবীর কথা বলতে বলতেই সারাদিন ম্যানহাটান, ব্রুকলিন ব্রিজ, টাইমস স্কয়ার, শহরের অলিগলি সব ঘুরে দেখা হয় ওর সাথে।

পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতেই একদিন এভারের সাথে আমার দেখা হয়েছিল। ব্যাংককের ইয়ুথ হোস্টেল আমি ঢুকে যখনই ব্যাকপ্যাক রেখে দাঁড়ালাম ওই সময় আমার বেডের উপরের বেড থেকে কেউ একজন আমার দিকে হেসে বলল তুমি কোথা থেকে এসেছো?

সেই থেকে আজ অবধি আমরা দু’জন যত দূরেই থাকি আমাদের বন্ধুত্ব অম্লান। আর যখন কাছে আসি তখন আমরা আড্ডা আর কথার ছলে হারিয়ে যাই পুরো পৃথিবী জুড়ে।

 

 

 

লেখক: বাংলাদেশের পতাকা হাতে ১৩৫ দেশ ভ্রমণ কারি।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

তাহমিনা কোরাইশী’র কবিতা ‘সম্পর্ক’

সম্পর্ক -তাহমিনা কোরাইশী একটি বীজ নিজ তাগিদেই মাটি ফুরে অবাক দৃষ্টিতে আঁখি ...