নাহারফরিদ খান

নাহারফরিদ খান :: কলিংবেলের শব্দ শুনে অনিন্দ্য দরজা খুলে অবাক।সলিলতো কখনো ফোন না করে আসেনা। হঠাৎ কি মনে করে, ‘এদিক দিয়েই যাচ্ছিলাম। তোদের সারপ্রাইজ দেবো তাই ফোন না করেই চলে এলাম।তাছাড়া ভাবীর হাতের এককাপ কফির লোভ সামলাতে পারলা না।’ ড্রয়িংরুমের এসিটা অন করতে করতে বললো “ঈশিতাতো অফিসিয়াল টুরে ম্যানিলা গেছে।আজই ফিরবে। হয়তো প্লেন এতক্ষণে ল্যান্ড করেছে।”

“একা, নাকি আরো কেউ আছে”? “অফিসের শারমিন, সুদীপ্ত, হারুন ওরা একটা গ্রুপ মিটিং এটেন্ড করে চলেও এসেছে’’

‘দ্যাখ অনিন্দ্য কিছু মনে করিসনা । আমিতো তোর বন্ধু তাই তোর ভালোর জন্য বলছি।ভাবীতো সুন্দরী, স্মাট তরুণী। মানে দিনকালতো ভালো নয়, একটু কেয়ারফুল থাকা কি ভালো নয়?’ ‘বুঝলাম না। কি বলতে চাচ্ছিস!’ ‘না মানে এসব অফিসিয়াল টুর তুই এলাউ করিস কেন?’ ‘এলাউ করার আমি কে! ঈশিতা এডাল্ট, ওর সিদ্ধান্ত ও নিজেই নিতে পারে। চাকুরী করলেতো টুর করার প্রয়োজন হলে করতে হবে’

‘বন্ধু খাঁচা খোলা রাখলে পাখিতো উড়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে’ ‘তা তুইতো খাঁচা শক্ত করেই বন্ধ করেছিলি।তোর পাখিটি উড়ে গেল কেন?’ ‘তাইতো বলছি বন্ধু’ আবার কলিংবেল বাজলো।দরজায় ঈশিতা।জড়িয়ে ধরলো অনিন্দ্যকে। ‘ভালো ছিলেতো।’ ‘তোমার ট্রিপ কেমন ছিলো?’ ‘আর বলোনা। দৌড়ের ওপর ছিলাম।সব বলবো।আগে ফ্রেস হয়ে আসি’ ‘সলিল এসেছে।ফ্রেস হয়ে ড্রয়িংরুমে এসো’ ‘আসছি’।

ঈশিতা ট্রলিব্যাগ হাতে বেডরুমে চলে গেল। অনিন্দ্য সলিলের পাশে এসে বসলো। ঈশিতা ফ্রেস হয়ে আসছে। ‘যাক, ভাবী তাহলে এসে গেছে’ ‘শোন বন্ধু ঘরটাকে খাঁচা না বানিয়ে ঘর বানাতে হয়।সম্মান, ভালবাসা আর বিশ্বাসের ঘর। তাহলে পাখিরা উড়ে যায়না।ফিরে আসে আপন নীড়ে, ঘরে। মেয়ে মানুষ নয় পাখি নয়।শুধু মানুষ ভাবতে শেখ।’ সলিল কি বিভ্রান্ত! উঠে দাড়ায়…..

 

 

লেখক : নিউজার্সি, আমেরিকা। 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here