ডেস্ক রিপোর্ট::“শুধুমাত্র কোন আইন ও পলিসি দিয়ে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, এজন্য সর্বপ্রথম আমাদের ব্যক্তিগত মন ও মানসিকতার পরিবর্তন জরুরী এবং এ কাজে পুরুষদের ভূমিকা অগ্রগণ্য” কথাগুলো বললেন নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আয়োজিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের সকল আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বুধবার (২৫ নভেম্বর) ঢাকার মিরপুর প্রশিক্ষণ সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর আরবান প্রোগ্রাম এর আয়োজনে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ১৬ দিনের কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর পরিচালক, আইসিটি জনাব রফিক-উল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের আরবান প্রোগ্রাম এর উপপরিচালক মঞ্জু মারিয়া পালমা, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব চৌধুরী মোঃ মোহায়মেন, ব্যবস্থাপক শিশু সুরক্ষায় হেল্প লাইন-১০৯৮, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনাব নাছিমা আক্তার জলি-প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হাঙ্গার প্রজেক্ট ও সম্পাদক-জাতীয় কন্যা শিশু এ্যাডভোকেসি ফোরাম এবং জনাব টনি মাইকেল গোমেজ, পরিচালক-এাডভোকেসি এবং কমিউকেশন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ।
স্বাগত বক্তব্যে- আরবান প্রোগ্রাম এর টেকনিক্যাল ম্যানেজার জোয়ান্ন ডি রোজারিও সবাইকে স্বাগত জানান এবং বলেন’ আসুন আমরা নারী-পুরুষ সবাই মিলে আজ থেকে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করি এবং বাংলাদেশ সকলের জন্য রঙ্গিন করে তুলি।’
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে ওয়ার্ল্ড ভিশন আরবান প্রোগ্রাম এর এ্যাডভোকেসি এবং ক্যাম্পেইন কোর্ডিনেটর মীর রেজাউল করিম এর সঞ্চালনায় ঘন্টাব্যাপী বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য অতিথির সঙ্গে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেয় ইয়ুথ একটিভিস্ট এবং ঢাকা সিটি ইয়ুথ ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়মা আক্তার দিপ্তী।

অন্যতম আলোচক জনাব চৌধুরী মোঃ মোহায়মেন বলেন শিশুদের জন্য ১০৯৮ হেল্প লাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি সবাইকে সমস্যার সম্মুখীন হলে ১০৯৮ এবং ১০৯ কল করে অভিযোগ জানানোর আহবান জানান।

প্রধান আলোচক জনাব মোঃ রফিক-উল ইসলাম বলেন সকল ধর্মের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নির্দেশনা আমরা মানছিনা। তিনি বলেন সারা দেশে ইমাম এবং খাতদের সম্পৃক্ত করে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনের সাথে অংশিদারিত্বের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আরও কাজ করতে হবে।

প্যানেল আলোচনায় জনাব নাছিমা আক্তার জলি বলেন ‘বাংলাদেশ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে অনেক ভালো অগ্রগতি সাধন করেছে এবং এখনও আরও অনেক কিছু করার বাকী আছে।’
জনাব বুলি হাগিদক বলেন ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আগামী ৫ বৎসরে ৫০লক্ষ শিশুকে টার্গেট করে জেন্ডার ভিত্তিক ভায়োলেন্স প্রতিরোধে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে।’
‘আগামীতে আমরা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ নারী ও শিশুর প্রতি কোন প্রকার সহিংসতা দেখতে চাইনা।’ বলেন টনি মাইকেল গোমেজ।

সভাপতির বক্তৃতায় জনাব মঞ্জু মারিয়া পালমা বলেন নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আজ থেকে নারী ও কন্যা শিশুদেরকে এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রতিবাদী হতে হবে।
অনুষ্ঠান পরিচালনার সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ মিরপুর আরবান কর্মসূচির কর্মকর্তা সুব্রত রোজরিও।

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here