ব্রেকিং নিউজ

নারী উন্নয়নে বিশ্বাসী একজন উপাচার্য

খাদিজা আক্তার :: মাত্র এক যুগ আগেও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল পরিচিত ছিল অনুন্নত ভৌগলিক অঞ্চল হিসেবে যেখানকার সাধারন মানুষ ছিল উচ্চশিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত। সেই অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ভাগ্যন্নয়নের জন্য ২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর রংপুর জেলার প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রথমে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে ২০০৯ সালে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামানুসারে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নামকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধীরে ধীরে উত্তরবঙ্গের বাতিঘর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর আশার আলো ছড়াতে শুরু করে উত্তরবঙ্গের মানুষের মনে। বর্তমানে উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সারা বাংলাদেশের ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয় অসামান্য অবদান রাখছে। তবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার মূল লক্ষ্য অর্জনের পথে হাঠতে পারছিলো তা নয়। দীর্ঘ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি ভুগছিল যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে। কিন্তু ১৪ জুন, ২০১৭ সালে সেই অন্ধকার স্থবির অবস্থার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি উন্নয়নের যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রফেসর এবং জানিপপ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের হাত ধরে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক উন্নতি সাধনের ব্রত নিয়ে।

দূরদর্শী এবং সময়োপযোগী চিন্তাধারা সম্পন্ন প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার বেরোবি, রংপুর তথা এর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নয়নের জন্য গতানুগতিক পথে না হেঁটে বেছে নেন ভিন্ন পথ। গ্রহণ করেন নানামুখী উদ্যোগ, করতে থাকেন নিত্য নতুন পরিকল্পনা, আর খুজতে থাকেন সৃজনশীল সব সুযোগ। স্যার যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য সৃষ্টি করে চলেছেন জীবনমুখী নানাবিধ সুযোগ-সুবিধার। মহীয়সী বেগম রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর বর্তমানে নারীর উন্নয়নকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নেয়ার পথে অনন্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে, যা নারী উন্নয়নের জন্য কাজ করা যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরনীয়। আর এই অবস্থান অর্জনের পেছনে যার ভূমিকা অনস্বীকার্য তিনি আর কেউ নন, মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। বিশ্ববিদ্যালয়তার পূর্ণতা পেয়েছে কেবল এই উপাচার্যের সময়ে এসে নারীদের উন্নয়নে স্যার এর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমেই।

বেগম রোকেয়া বাংলার নারীসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য, আর বেরোবিতে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে আসা নারীদেরকে স্যার উদ্বুদ্ধ করছেন নানামুখী কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে নিজেদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জনে। কারণ নারীর এগিয়ে চলার পথ সেদিনও বাধাহীন ছিলোনা, আজও নয়।  তাই নারী শিক্ষার্থীদের আত্ম শক্তিতে বলিয়ান করতে বাংলাদেশের প্রথম উপাচার্য হিসেবে নারীর উন্নয়নে তিনি রেখেছেন অসামান্য ভুমিকা। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর উপাচার্যদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইউএন উইমেন এর “এমপাওয়ার্ড উইমেন পিসফুল  কমিউনিটিজ” প্রকল্পের আওতায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিজ (সিপিজে) এর উদ্যোগে গত ১০ মার্চ ২০১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বেরোবি’র অন্যতম সংগঠনউইমেন পিস ক্যাফে (Women Peace Cafe)। যেহেতু নারীরা পিছিয়ে আছে সকল সেক্টরে, বেরোবি, রংপুর এর ছাত্রীদের যথাযথ বিকাশের সুযোগ করে দেয়ার অভিপ্রায়ে তিনি এই সুদূরপ্রসারীউদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়াও, তার সুপারিশক্রমে ময়মনসিংহের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়েও উইমেন পিস ক্যাফে চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় নারীর ক্ষমতায়ন, নারীদের উদ্ভাবনী চিন্তার বাস্তবায়ন, এবং নারী উদ্ধ্যোক্তা তৈরিতে একটি সৃজনশীল প্ল্যাটফর্মের সুচনা করেছেন যা নারী শিক্ষার্থীদেরকে সকল বাঁধা অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে যাবার জন্য একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

যদিও উইমেন পিস ক্যাফে এর পরিকল্পনা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস এন্ড জাসটিস থেকে এসেছে, এটিকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বেরোবি’র সম্মানিত উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যার। আর তার উদ্যোগ সফল করার জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন মূলত নারী শিক্ষার্থীদের। তিনি উপলব্দি করেছিলেন যে নারী শিক্ষার্থীরা যেন কাজ করতে পারে, কাজ শিখতে পারে তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্লাটফর্ম দরকার। শিক্ষাজীবন শেষে চাকরিজীবন শুরু করার প্রকট চ্যালেঞ্জগুলো নারী শিক্ষার্থীরা যেন সহজেই মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের প্রশিক্ষণ দরকার। আর সেই প্লাটফর্মটিই হলো উইমেন পিস ক্যাফে, যেখানে নারী শিক্ষার্থীদের আগ্রহ এবং দক্ষতা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ এর ব্যবস্থা করেছেন। সেখানে নিয়োগ দিয়েছেন কয়েকজন নারী মেন্টর যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন। তিনি চান উইমেন পিস ক্যাফে এর সহযোগিতায় নারী শিক্ষার্থীরা যেন জানতে ও বুঝতে পারে কিভাবে নতুন নতুন ভাবনা নিয়ে আসতে হয়, কিভাবে ভাবনাকে কাজে রূপান্তরিত করতে হয়, কিভাবে কাজটা তুলে ধরতে হয়, কিভাবে নিজেকে চাকরির বাজারের প্রতিযোগিতায় যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে টিকেথাকতে হয়, ইত্যাদি। তিনি আরও চান বেরোবি’র নারী শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র নিজেদের জন্যই কাজ করবে না, ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে উঠে দলে কাজ করবে এবং সমাজের অন্যান্য নারীদের উন্নয়নের জন্যও কাজ করবে।

তিনি নিয়মিত উইমেন পিস ক্যাফে’র মেন্টর এবং কমিটি মেম্বারদের সাথে সভা করেন এবং কাজের তদারকি করেন। প্রতিটি সভায় তিনি নারী শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ প্রদান করেন তাদের মেধা এবং দক্ষতাকে বিকশিত করে জীবনে এগিয়ে যেতে, এবং বৈষম্যমূলক প্রথাগত ছকের বাইরে গিয়ে বিকশিত হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে। তিনি মনে করেনসমাজ থেকে নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথার মত কালো ব্যাধি গুলোকে দূর করে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে দেশকে এগিয়ে নিতে নারী শিক্ষা ও নারীর স্বাবলম্বিতার ভূমিকা অপরিসীম।

স্যারের এইসকল উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে বেরোবি’র নারী শিক্ষার্থীরা উইমেন পিস ক্যাফে’র পক্ষ থেকে এখন সমাজের অবহেলিত নারীদের পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছে। তাদের উন্নয়নে কাজ করছে। উইমেন পিস ক্যাফে’রবিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে, সকল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি আত্মরক্ষামূলক সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ, সাইক্লিং, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, স্কিল ডেভলপমেন্ট ট্রেনিং অন এসাইনমেন্ট অ্যান্ড প্রেজেন্টেশন, বিএনসিসি ট্রেনিং ইত্যাদির সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি চান নানামুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বেরোবি’র নারী শিক্ষার্থীরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসুক।

প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও স্যারের মত একজন পরিশ্রমী, সৎ, অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ, আধুনিক, নির্ভীক ও মেধাবী মানুষের নেতৃত্ব পেয়েছিলো বলেই বেরোবি, রংপুর বর্তমানে সকল স্থবিরতা কাটিয়ে নতুন আলোর দিশারী হয়ে উঠছে। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্যারের এমন অগ্রণী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও স্যারের নেতৃত্বে বেরোবি, রংপুর বিশ্বের প্রথম সারির একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেসেই প্রত্যশা আজ সকলের।

 

 

 

প্রভাষক, জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ভারেতের জন্য দু:খ হয়, আপসোস হয় আমাদের তরুণদের কথা ভেবেও!

আরিফ চৌধুরী শুভ :: গায়ের চামড়া কেটে যদি জুতো বানিয়ে দাও ভারতকে, ...