নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা: বরিশালে প্রতিবাদ

সোহানুর রহমান :: নারী ও শিশুর প্রতি একের পর এক যৌন সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে । ধর্ষণ, ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা ও যৌন অত্যাচারসহ সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে নারীপক্ষ ও বরিশাল মহিলা কল্যাণ সংস্থা।

এ সময় নারীকে যথার্থ সম্মান প্রদান ও দ্রুততার সাথে উপযুক্ত শাস্তির মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবী জানানো হয়।

‘যৌন আক্রমণ আর নয়!!!’-এ স্লোগানকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১.০০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সম্মুখে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপত্বিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর কোহিনুর বেগম।

তারুণ্যের কন্ঠস্বর প্লাটফর্মের জেলা সমন্বয়কারী সোহানুর রহমানের সঞ্চলনায় কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বরিশাল শাখার যুগ্ম সম্পাদক প্রতিমা সরকার, এসইউভিও’র নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলা, বিএসডিপির প্রতিনিধি মো: জাহিদুল ইসলাম, তারুণ্যের কন্ঠস্বর প্লাটফর্মের সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ রাব্বী প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএমকেএস’র পরিচালক কাওছার পারভীন। এ সময়ে ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস, বাংলাদেশ মডেল ইয়ুথ পার্লামেন্ট এবং তারুন্যের কন্ঠস্বর প্লাটফর্মসহ বিভিন্ন যুব সংগঠন থেকে আগত তরুণ-তরুণীরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার, প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করে ।

এসময় বক্তারা বলেন, নারী ও শিশুর উপর সহিংসতা নতুন কোন বিষয় নয়। এর মোকাবেলায় সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগও চলমান আছে, তবে নারীর উপর সহিংসতা দমনে রাষ্ট্র এতটাই ব্যর্থ যে সহিংসতা এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সের নারী যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে; ছেলে শিশুরাও বলাৎকার থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যেন দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণ করে হত্যার মহোৎসব চলছে। ঘরে, বাইরে, রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষণ চেষ্টা বা যৌন হয়রানি, উত্যক্তকরণ, এসিড আক্রমণসহ নানাবিধ সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। পরিবার, সমাজ, এমনকি রাষ্ট্র এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তির কাছেও নিরাপদ নয়।

এসময় প্রতিবাদীরা বেশ কিছু ঘটনার তথ্য তুলে ধরেন যা থেকে দেখা যায়, পত্রিকাসূত্রে বিগত ৬ মাসে সারাদেশে ৬৩০ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যার মধ্যে গণধর্ষণের শিকার ১৫৩ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৭ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ জন নারী। ১০৫ জন নারীর উপর ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে যার মধ্যে একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং একজনকে হত্যা করা হয়েছে। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১২৭ জন যাদের মধ্যে ৮ জন আত্মহত্যা করেছেন। ধর্ষনের প্রতিবাদ করায় খুন হয়েছেন ৩ জন নারী এবং ২ জন পুরুষ।

বক্তারা হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়ন, দ্রুত বিচার নিশ্চিকরণ এবং জাতীয় পর্যায়ে কমিটি গঠন করে নারীর প্রতি সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ সংক্রান্ত সকল আইন বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও প্রতিবন্ধকতা নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও যথাযথ নির্দেশ দিতে সরকারের প্রতি জোর আহবান জানান।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

বিমানের ‘রাজহংস’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার :: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চতুর্থ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ ...