নারায়ণগঞ্জে শো ডাউন করেছে সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার তরান্বিত ও বিজয়ের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বিজয় র‌্যালির নামে তিনি এ শো ডাউন করে নিজের শক্তির মহড়া প্রদর্শন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পরাজয়ের পর নেতাকর্মীদের ভেঙ্গে যাওয়া মনোবল চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন।

শনিবার বিকেলে শহরের খানপুর ২০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সামনে র‌্যালির আগে জমায়েত হয় শামীম অনুগত নেতাকর্মীরা। তাদের উপস্থিতি ও সমাবেশের মাইকের বিকট শব্দে হাসপাতালে থাকা রোগীদের বেশ কষ্ট পোহাতে হয়। এছাড়া সমাবেশ চলাকালীন বেশকয়েকজন গুরুতর আহত রোগী বহনকারী অ্যাম্বলেন্স দীর্ঘসময় লোকজনদের ভীড়ের কারণে আটকা থাকে। হাসপাতালের অভ্যন্তরের মসজিদে আছরের নামাজ আদায়ের সময়ে সমাবেশের মাইকের শব্দ ও লোকজনের বাদ্য বাদজনায় মুসল্লীদের বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। সমাবেশের কারণে প্রায় ১ ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ শহর হতে আদমজী-ডেমরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে অফিস শেষ করে মানুষদের বাড়ি ফিরতে দুর্ভোগে পড়তে হয়।

সমাবেশে লোকজনদের জড়ো করতে নারায়ণগঞ্জ হতে শিমরাইল পর্যন্ত চলাকালকারী শীতলক্ষ্যা পরিবহন সহ বিভিন্ন পরিবহেনর যানবাহন বন্ধ রাখা হয়। এসব পরিবহনে করে নেতাকর্মীদের সমাবেশ স্থলে আনা হয়।

প্রসঙ্গত গত ফেব্রুয়ারী মাসে নারায়ণগঞ্জে যুবদলের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে শামীম ওসমানের নির্দেশে এক কলেজ ছাত্র হাইকোর্টে একটি রিট করেন। এতে তিনি উলেখ করেন, সমাবেশ যে স্থানে আয়োজন করা হয়েছে তার মাত্র কয়েক গজ দূরে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল, শিশু ও মাতৃ স্বাস্থ্য কেন্দ্র অবস্থিত। ওই স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে হাসপাতালে থাকা রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। তাছাড়া জরুরী কাজে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল বিঘ্নিত, জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। সমাবেশের কারণে শহরে দেখা দিতে পারে তীব্র যানজট। এসব কারণে জনস্বার্থে  সুজন সমাবেশের উপর স্থগিতাদেশ চায় রিট আবেদনে।

কিন্তু হাইকোর্ট সে রিট খারিজ করে দিয়েছিল। সেই শামীম ওসমান এবার হাসপাতালের সামনেই করলো সমাবেশ।

সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক প্রবীণ নেতা মফিজুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জেলা আহবায়ক চন্দন শীল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আইনজীবি ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সহ সভাপতি ওয়াজেদ আলী খোকন ও মাসুদুর রহমান খসরম্ন, জেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত বাদল, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান, হাজী ইয়াছিন, শওকত আলী, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এহসানুল হকত নিপু, যুবলীগ নেতা শাহনিজাম প্রমুখ।

র‌্যালির আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শামীম ওসমান তার বক্তব্যে আগামী ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের দিনের আগেই জামায়াত নেতা গোলাম আজমের গ্রেপ্তার দাবি করেন। তিনি বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকে সর্বপ্রথম এ জেলায় গোলাম আজম সহ যুদ্ধাপরাধীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছিলাম। আমাদের দাবির সাথে সবাই একমত হলে অনেক আগেই যুদ্ধারাধীদের বিচার হতো।

শামীম ওসমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, নেত্রী দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই তাকে গণতন্ত্র পদক এ ভূষিত করা প্রয়োজন। এজন্য তিনি দ্রুত শেখ হাসিনাকে এ পদক প্রদানের জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি করেন। একই সঙ্গে শামীম ওসমান দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় সেনাবাহিনীকে পুরস্কৃত করার দাবি করেন।

শামীম ওসমান বলেন, দেশে বিভিন্ন বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে। চারদিকে অনেক খেলা হচ্ছে। এ কারণে আগামী ৬ মাস বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরম্নত্বপূর্ণ। এ সময়ে অনেক কিছুই ঘটে যেতে পারে।শেখ হাসিনার উপরও আঘাত আসতে পারে।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, একটি ট্রাইবুন্যাল নয় প্রয়োজন অনেকগুলো ট্রাইবুন্যালের। প্রয়োজনে প্রত্যেক জেলায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।

যুদ্ধারাপরাধীদের বিচারের দাবিতে কেবল আওয়ামীলীগই নয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকল শ্রেণী ও পেশাজীবির মানুষদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তা না হলে দেশে আবারো বাংলা ভাই তৈরি হবে, মুফতি হান্নানরা দেশ চালাবে। বাংলাদেশ হবে আফগানিস্তান।

শামীম ওসমান বলেন, আমার ও আমাদের ভুল থাকতে পারে। আমাকে কারো পছন্দ নাও হতে পারে। মিডিয়ার দায়িত্ব আমার ও আমাদের সেসব ভুল শুধরিয়ে দেওয়ার। কিন্তু একজন শামীম ওসমানকে ক্ষতি করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জে স্বাধীনতা বিরোধীদের উৎসাহিত করবেন না।

তিনি বলেন, আমি আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ কর্মী। কিন্ত এ শামীম ওসমানকে পরাজিত করতে বিরোধীদলের নেত্রী সিটি করপোরেশরন নির্বাচনের আগের রাতের তার প্রার্থীকে কোরবানি দিয়েছেন। ওই ভোটগুলো অন্য জায়গায় পড়েছে।

শামীম ওসমান বলেন, জয় বাংলা সোগানকে কেউ কুক্ষিগত করে রাখেনি। জয় বাংলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম দিয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বকে তারুণ নির্ভর উলেখ করে তিনি বলেন, এ ১৬ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৬ মার্চ পর্যন্ত বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নানক, ওবায়দুল কাদের সহ কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে কোন ষড়যন্ত্রই হালে পানি পাবে না।

সমাবেশে বক্তব্য শেষে শামীম ওসমানের নেতৃত্বে একটি বিশাল র‌্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। খানপুর ২০০ শয্যা হাসপাতাল হতে বের হওয়া র‌্যালিটি চাষাঢ়া হয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে শহরের ম-লপাড়া এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/মাকসুদুর রহমান কামাল/নারায়ণগঞ্জ

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here