মোঃ আব্দুল হাকিম, নাটোর প্রতিনিধি :: নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ধর্ষণের অভিযোগে আরিফুল ইসলাম (৩৩) নামের এক প্রেমিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার সোনাপুর গ্রামে দুই সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভনে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষনের অভিযোগ এনে শনিবার সন্ধ্যায় প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে পুলিশ তাকে আটক করে। রোববার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

এর আগে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনেও বসেন ওই নারী। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের সোনাপুর হিজলী কান্ডাপাড়া গ্রামের আবুবক্কর এর ছেলে। ওই নারী পার্শ্ববর্তী রাজশাহীর বাঘা উপজেলার খোর্দ্দ বাউসা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, তার নিজের একটি মেয়ে ও একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে তার স্বামী মারা গেছেন। এরপর মাস খানেক পূর্বে আরিফুল তাদের এলাকায় একটি কাজে গেলে দু’জনের মধ্যে পরিচয় হয়। এর সূত্রধরে মোবাইল ফোনে আরিফুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং আরিফুল তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। গত শুক্রবার বিকালে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আরিফুল তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসেন। রাতে একই ঘরে দু’জনে রাত যাপন করেন এবং ওই রাতে আরিফুল তাকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। কিন্তু বিয়ে না করে পরদিন শনিবার ওই নারীকে কৌশলে কাজী অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে উপজেলার পেড়াবাড়িয়া এলাকায় রেখে আরিফুল পালিয়ে যান। পরে তিনি বিয়ের দাবিতে প্রেমিক আরিফুলের বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন। অনশনে কোন সুরাহা না হলে সন্ধ্যায় বাগাতিপাড়া মডেল থানায় আরিফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, আরিফুল এর আগেও দু’টি বিয়ে করেছেন এবং তার একটি সন্তানও রয়েছে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আরিফুলের ডিভোর্স হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তার বিরুদ্ধে নির্যাতনের মামলা দায়ের করে বাবার বাড়িতে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি নাজমুল হক জানান, ধর্ষণের মামলায় আরিফুলকে শনিবার সন্ধ্যায় আটক করে রোববার নাটোর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে এবং ভিকটিমকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নাটোর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here