ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গৌর নগর গ্রামে শনিবার সকালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওয়েদ মিয়া ও সোহেল মেম্বারের গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রবিউল আলম (৩২) নামে একজন নিহত ও ৩০ জন আহত, শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে বুলেট প্রুফ সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গৌর নগর গ্রামে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওয়েদ মিয়ার গ্রুপের সাথে সোহেল মেম্বার গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে সকালে সোহেল মেম্বারেরলোকজন ওয়েদ মিয়ার গ্রুপের উপর অতর্কিত হামলা চালালে উভয় গ্রুপের শত শত লোকের মধ্যে দেশীয় অস্ত্রশন্ত্র এবং মাথায় স্টিলের টুপি ও বুকে বুলেট প্রুফ স্টিল লাগিয়ে দিনভর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সোহেল মেম্বার গ্রুপের ছিরকু মিয়ার ছেলে রবিউল আলমের বুকে কিরিচের আঘাতে গুরুতর আহত হলে, হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় এবং ওয়েদ মিয়া গ্রুপের পলাশ (২২) ও ফরিদ মিয়া (৫৫) কে আশংকাজনক অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে সোহেল মেম্বারের লোকজন ওয়েদ মিয়ার লোকজনের উপর আক্রমণ, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটতরাজের ঘটনা ঘটায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং জিল্লু মিয়া (৪৫), মো. সাধন মিয়া (৩৫), মো. শাহ জাহান মিয়া (৪৫) কে আটক করে। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এই ব্যাপারে ওয়েদ মিয়া বলেন, সোহেল মেম্বারের নেতৃত্বে শত শত লোক পরিকল্পিত ভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করে। তাদের অস্ত্রে আঘাতেই রবিউল মারা যায়।

এই ব্যাপারে সোহেল মেম্বার বলেন, সকালে ওয়েদ মিয়ার লোকজন আমার গ্রুপের লোকের বাড়িতে কুপিয়ে লোকজনকে মারধর করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে রবিউলকে খুন করে।

ওসি মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১৮ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং দেশীয় অস্ত্রশন্ত্র সহ ৩ জনকে আটক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ডট কম/লিটন চৌধুরী/ব্রাহ্মণবাড়িয়া

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here