জহিরুল ইসলমা শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি  :: বিয়ে আগে দুজনের প্রেম ছিলো। বিয়ের পর বেশিদিন টিকেনি সংসার। বিয়ের দুই মাসের মাথায় নববধূকে খুন করেন স্বামী। এ ঘটনার প্রায় তিন মাসের মাথায় খুনি রাশেদকে গ্রেফতার করে ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করে রায়পুর থানা পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়।

নিহত গৃহবধূ সীমা চরমোহনা গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে রাশেদের স্ত্রী এবং দক্ষিণ চরবংশী ইউপির ১নং ওয়ার্ডের ছৈয়াল বাড়ির দিনমজুর খোকনের মেয়ে।

শুক্রবার দুপুরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে নববধূকে হত্যার কথা স্বীকার করে রাশেদ। রাতে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার চরমোহনা ইউপির দক্ষিণ রায়পুর গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে সীমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় রায়পুর থানায় জিডি করেছিলেন সীমার মা সালেহা বেগম। বিয়ের দুই মাসের মাথায় গত ৪ মে রাতে নিজ ঘরে অন্ধকারে স্ত্রীকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে রাশেদ। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য অভিনয় করে পার পাওয়ার চেষ্টা করেছিল ঘাতক স্বামী রাশেদ। হত্যার প্রায় তিন মাস পর পুলিশ রাশেদকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা করার লোমহর্ষক ঘটনার কথা স্বীকার করে সে।

সীমার মা সালেহা বেগম জানান, রাশেদ-সীমার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। চারমাস আগে দুজনের বিয়ে হয়। উভয়ের পরিবার তাদেরকে মেনেও নেয়। বিয়ের পর রাশেদ জানতে পারেন সীমার বাবা সুইপারের কাজ করে সংসার চালান। এ নিয়ে প্রায় সময় দুজনের মধ্য মনোমালিন্য ও একাধিকবার সীমাকে মানসিক ও শারিরীক নির্যাতনও করে রাশেদ। পরে সে থানায় জিডি করেন। কিছুদিন পরে শ্বশুরবাড়িতে সীমার লাশ পাওয়া যায়। সীমার মরদেহ দাফনের পর রাশেদ পালিয়ে যায়।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, সীমাকে হত্যা করার পরের দিনই বাড়ি থেকে পলাতক ছিলো ঘাতক রাশেদ। এতে আমরা বুঝতে পেরেছি সীমাকে রাশেদ খুন করেছে। প্রেম করে বিয়ে করার দুই মাসের মাথায় শশুরবাড়িতেই স্বামীর হাতে খুন হন সীমা আক্তার। রাশেদকে তার এলাকা থেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ১৬৪ ধারায় বিচারকের কাছে সীমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here