নদী ফায়ার স্টেশনের দাবি গাইবান্ধাবাসীর

নদী ফায়ার স্টেশনের দাবি গাইবান্ধাবাসীর

 

রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গাইবান্ধায় গত ছয় বছর চার মাসে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীতে এবং পুকুরসহ অন্যান্য জলাশয়ের পানিতে ডুবে ২৬ জন মারা গেছে ও নিখোঁজ রয়েছে দুইজন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ৩০ জনের বেশি। এ ছাড়া প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাসকারী ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনা নদীবিধৌত চার উপজেলার কোন চরাঞ্চলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিজস্ব স্পিডবোট না থাকায় ফায়ার সার্ভিস যেতে পারেনা ঘটনাস্থলে। ফলে ক্ষয়ক্ষতিও কমানো যায়না। তাই ফুলছড়ির বালাসীঘাটে একটি নদী ফায়ার স্টেশন নির্মাণের দাবি করেছে এ জেলার মানুষ।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত জেলার সাত উপজেলার পানিতে ডুবে মানুষ নিখোঁজ হলে গাইবান্ধা, গোবিন্দগঞ্জ ও ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি চেয়ে কল আসে ২২ টি। এসব ঘটনায় ২০১৩ সালে মারা যায় দুইজন, ২০১৪ সালে চারজন, ২০১৫ সালে তিনজন, ২০১৬ সালে একজন, ২০১৭ সালে আটজন, ২০১৮ সালে দুইজন এবং চলতি বছরে মারা গেছে ছয়জন। নদীতে ডুবে নিখোঁজ রয়েছে দুইজন ও এসব ঘটনায় আহত হয়েছে ৩০ জনের বেশি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর এ জেলায় ডুবুরি পদ সৃজনের জন্য তথ্য চেয়ে নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত আর কোন অগ্রগতি নেই ডুবুরি পদ সৃজনের। গাইবান্ধায় কোন ডুবুরি নেই। গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার জন্য রংপুর ফায়ার সার্ভিসে ডুবুরি রয়েছে মাত্র দুইজন। এই দুইজন ডুবুরি চষে বেড়ান আট জেলা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৬ মে ফুলছড়ির এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের হরিচন্ডির চরে অগ্নিকান্ডে কাজলী বেগম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সদর উপজেলার কামারজানী ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চরে গণ উন্নয়ন একাডেমিতে অগ্নিকান্ডে শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট ও বইসহ বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘর পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ দুটি ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে চরাঞ্চলগুলোতে অগ্নিকান্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নৌকায় করে যেতে দীর্ঘ সময় লাগায় ফায়ার সার্ভিসকে ডাকা হয়না।

সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের ধুতিচোরা গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, গত ৭ মে ব্রহ্মপুত্র নদে নৌকাডুবে আমার ভাগ্নি ও এক প্রতিবেশি নিখোঁজ হলে রংপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের আসতে সময় বেশি লাগায় তাদেরকে আজ পর্যন্ত আর পাওয়া যায়নি। নিজেরা নৌকা নিয়ে নদীতে খুঁজেও তাদের সন্ধান পাইনি। অথচ গাইবান্ধায় যদি ডুবুরি থাকতো তাহলে তাড়াতাড়ি উদ্ধার অভিযান শুরু করলে দুজনকেই পাওয়া যেত।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি এম সেলিম পারভেজ বলেন, এ জেলায় রয়েছে ব্রহ্মপুত্র নদসহ তিস্তা ও যমুনার মতো খর স্রোতা বড়-বড় নদ-নদী। অথচ নদীতে কেউ ডুবে গেলে তাদেরকে দ্রুত উদ্ধার করতে এ জেলায় কোন ডুবুরি নেই। নদীতে ডুবে কেউ নিখোঁজ হলে পরদিন মরদেহটি ভেসে ওঠার অপেক্ষায় থাকতে হয়। এটা স্বজন হারানো পরিবারের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। তাই নদীতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার এবং চরাঞ্চলে দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের জন্য এ জেলায় একটি নদী ফায়ার স্টেশন চালু করা প্রয়োজন।

গাইবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম সরকার বলেন, ফুলছড়ির বালাসীঘাটে যমুনা নদীতে একটা নদী ফায়ার স্টেশন চালু করলে সেখানকার ডুবুরি যেমন নদ-নদীগুলোতে উদ্ধার অভিযান চালাতে পারবে। তেমনি পুকুরসহ মেইনল্যান্ডের অন্যান্য জলাশয়ের পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে দ্রুত উদ্ধার করতে পারবে। এ ছাড়া চরাঞ্চলে লাগা আগুন নেভাতেও যেতে পারবে নদী ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় পালিত: মন্দিরে বাড়তি নিরাপত্তা

খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় পালিত: মন্দিরে বাড়তি নিরাপত্তা

আল-মামুন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:: ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে পালিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের ...