নজির আহমেদ’র একগুচ্ছ কবিতা

-নজির আহমেদ

 

কবি ও কবিতা-১

একটি কবিতা লিখব বলে
শত শত কবিতা লিখেছি;তবুও তৃষ্ণায় পুড়ে যায় মন।সারাক্ষণ একটি কবিতার করি অন্বেষণ।

একটি কবিতা লিখব বলে
জলে স্থলে অন্তরীক্ষে উড়াই ভাবের ঘুড়ি।একটি দুটি শব্দ লিখেই কাটাকুটি,বলছি নিজেই-ধুত্তোরি!


কবি ও কবিতা-২

কবিতা আমার ফুসফুসে হাওয়া,কবিতা পরিপার্শ্ব
কবিতা মায়ের আঁচলে রোদ,
মাচানে কুমড়ো ফুল,ঝিঙে-লাউ-সজনের ডাঁটা।

কবিতা আমার কাঙ্ক্ষিত জলের প্রসাদ,
সুন্দরী যুবতী কন্যার হাতে আরতির থালা
পৌষের উঠোনে পূর্ণিমা
ধান কুড়ানিয়া বিষন্ন শালিক-ক্লান্ত পথিকের হাঁটা।

কবিতা বাতাসে ভাসা মেঘ,বিধবার শুভ্র শাড়ী
প্রস্ফুটিত পুষ্প রঙ ও সৌরভ
কবিতা রক্তাক্ত ক্ষত,নিহত কৃষ্ণচুড়া দুঃখের দেহ
কবিতা দূরন্ত ক্রোধ ও যৌবনের গৌরব।

কবিতা হলো কদর্য ক্ষুধা শুয়োর ছানার মতো,
একপাল দূর্গন্ধ শিশু,আকাশজোড়া ঘৃণা,
মায়ের কবরের ঘাস ও ঘাসফুল
কবিতা আমার দুঃখ বিলাস অবচেতন ক্ষণের দীর্ঘশ্বাস।

কবিতা আমার সবুজ প্রান্তর
জোছনায় রোদ পোহানো নারী,বলা না বলা কথা
দখিনা হাওয়া-দোয়েলের শিষ,কবিতা আমার
বিরহ-যাতনা,তোমাকে ফিরে পাওয়া ফুসফুসের হাওয়া।


কবি ও কবিতা-৩

ব্যবসায়ীরা ঢুকেছে পাড়ায়,ওরাই মঞ্চ কাঁপায়
কবিতাকে বোঝেনা রাজনীতি।
নিশাচর শ্বাপদ বোঝে স্বার্থ আর লাভ-ক্ষতি
হোক না যতোই বিপদ-আপদ
প্রয়োজনে কূল-মান হোক শেষ,তাতে তার কী?

রাজনীতি কবিকে চেনেনা,কবিও চষতে চায়না
রাজনীতির মাঠ,ফলশ্রুতি____
নিজের তুলনায় নিকৃষ্টদের হাতে শাসিত হতে হয়
যা মূলতঃ একপ্রকার শাস্তি!

কবির বুকে থাকে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি,দলভুক্ত হয়ে
চাটুকারিতা করা তার সাজে না
সভাপতি,মহাপরিচালকের পদ
কিংবা চেয়ারম্যানগিরিতে তার বিবমিষা জাগে।
কবি সত্য সুন্দর ন্যায়ে হয় বিপ্লবী ভাবুক ও ভ্রমণকারী।


কবি ও কবিতা-৪

সন্ধ্যা থেকে একটি কবিতা লেখার চেষ্টা করছি,
রাত বারোটা বেজে যাচ্ছে;
যা লিখছি-তাতে তুমি শুধু তুমি।
এতদূর যাবার পর বুঝলাম,তুমিই আমার কবিতা।


কবি ও কবিতা-৫

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে,মানুষ মাত্রই কবি
স্বপ্ন’র নাম কবিতা।
ঈর্শাকাতর দুশমনের কথায় অমরত্ব লাভের আশায়
নিষিদ্ধ গন্ধম খাওয়া পিতা-মাতা
স্বর্গচ্যুত হয়েছিলেন;তাঁরা পৃথিবীতে এসে
সহবাস করেছিলেন শ্রম,ঘাম এবং দুর্ভাগ্য’র সঙ্গে।

মানুষ মাত্রই কবি,কারণ শুধু মানুষই
বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনা মিশিয়ে তৈরি করেন স্বপ্ন দ্রবণ
এই ক্ষমতা পশু-পাখি কারও নেই
মানুষের আছে,মানুষ স্বপ্ন দেখে,মানুষ মাত্রই কবি।

মানুষ ছাড়া আর কার মাটির পিন্জিরাতে
ফুঁৎকার করেছে প্রাণের সঞ্চার?
স্রষ্টার সৃষ্টির পরিচয় ঠিকঠাক দিতে ব্যর্থ ফেরেস্তারা,
পরিচয় দিয়েছিলেন পিতা আদম,তাঁর
ছিলো না অজ্ঞানতার অন্ধকার,সুতরাং মানুষ মাত্রই কবি।

মানুষ মাত্রই স্বপ্ন দেখে তার ফেলে আসা স্বর্গোদ্যান ফিরে পাওয়ার
মানুষের এই স্বপ্ন’র নামই কবিতা
এই স্বপ্ন দেখা মানুষ মাত্রই কবি,পৃথিবীটা কবি ও কবিতার।

কবি ও কবিতা-৬

কবিতা সুন্দরী পরিবেশ বোঝে না,
হঠাৎ টোকা দ্যায় কপাটে।
সাড়া দিতে একটু দেরী হলে ফিরে যায় রুদ্রকন্যা
আড়ি পাতে কবির সাথে।

শুতে গেলে গতরাতে—
এসেছিল কবিতার কয়েকটি লাইন বড় সুন্দর।
সকালে আর পাইনি—
বিগত রাতের মতই হয়ে গেল অতিক্রান্ত বন্দর।

অতন্দ্র প্রহরীর মত কবিতার জন্য কবিকে
জেগে থাকতে হয়।
কথিত আলস্য’র শস্য নয়,
দক্ষযোগ্য কৃষানের শ্রম ঘাম ভালোবাসার সৃষ্টি।

কবিতা আমার প্রেমাষ্পদ,
কবিতা আমার ফুসফুসের হাওয়া,পোষ্য এবং তপস্য!

কবি ও কবিতা-৭

কবিতা তোমার সতীন!
বাসর রাতে একথা শুনার পর সরীসৃপ স্ত্রী,
বিপরীতমুখী নাগিন;
রুদ্ররোষে জানতে চায়,ও কী আরও সুশ্রী?

বললাম,তোমার মতই
রহস্যের আকর,ডাকে চোখের ইশারায়।
আকাশের মত মনটা
ঘটনার সমারোহে তড়িৎ রং বদলায়!

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

হঠাৎ করেই নেহা কক্করকে চুম্বন

ডেস্ক নিউজ :: একটি রিয়েলিটি শোয়ের অডিশন চলছিল। সেই সময় হঠাৎ করেই ...