আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম::
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা কর্তৃক নগরে বিশেষ করে দরিদ্র বসতিতে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। গর্ভবতী মায়ের যত্ন প্রসবকালীন সেবা, মাতৃদুগ্ধ পান এবং শিশুর যত্ন এসব ক্ষেত্রে গত দেড় দশকে ধারাবাহিক উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।
তবে সকলের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। গ্রামে পুষ্টি বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেলেও নগরে এর ঘাটতি রয়েছে। পুষ্টিমান বজায় রাখতে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচার এবং খাদ্যাভ্যাস এর উপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি, বাজেট বরাদ্দ এবং কার্যক্রম বাস্তবায়ন জরুরি। আজ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ কর্তৃক “আরবান নিউট্রিশন: ইমার্জিং ইস্যূজ” শিরোনামে একটি সেমিনারে বক্তারা একথা বলেন। বাংলাদেশ সরকার, এফসিডিও এবং ইউএনডিপি এর সহযোগিতায় স্থানীয় সরকারের অধীনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প, গেইন এবং ব্র্যাক এর সহযোগিতায় উক্ত আয়োজন করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন মোঃ সেলিম রেজা বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেই মোতাবেক এগিয়ে যাচ্ছে। এই আয়োজনে একটি সক্ষম জাতি গঠনে সমাজের সকল স্তরে সকলের জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং মাছ, মাংস, চাল, সব্জিসহ অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বে দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য স্থানে অবস্থান করছে। জনসাধারণের মাঝে পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা প্রদান এবং সকলের কাছে পুষ্টিকর খাদ্য পৌঁছানোর মতো সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে নগরে প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাস করে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ নগরে বাস করবে। ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সাল নাগাদ নগরে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ বাস করবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে নগরকেন্দ্রিক পুষ্টি কার্যক্রমকে সুসংহত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নিজেদের সেবাকেন্দ্র, প্রকল্প এবং সহযোগি সংস্থার সহযোগিতায় পুষ্টি কার্যক্রম চালু রেখেছে।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ এর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক জুবাইদা নাসরীন বলেন, গ্রামাঞ্চলে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সমন্বিত ব্যবস্থা চালু থাকলেও নগরে এর অভাব পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। এজন্য নগরে পুষ্টি কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সকল সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে হবে।
বক্তারা আরো বলেন, অনেক কম খরচে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিক করা সম্ভব। তবে সঠিক ধারণা না থাকায় অনেকের মাঝে পুষ্টি ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়। যেমন- দরিদ্র পরিবারেও শিশুদের চিপস, কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবারের খরচে পুষ্টিকর খাবারের যোগান দেয়া যায়। অস্বাস্থ্যকর খাবারের উপর কর বৃদ্ধি এবং অপপ্রচার বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে। স্বাস্থ্যসম্মত সতেজ ও পুষ্টিকর খাবারের জন্য উৎপাদন এবং বিপণন ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। এছাড়া খেলাধুলা, হাঁটা ও ব্যায়ামের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশ দরকার। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ঘুম, মোবাইল আসক্তি কমানো, প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার থেকে বিরত থাকাসহ স্বাস্থ্যসম্মত জীবনাচারের গুরুত্ব অপরিসীম।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি পরিষদ এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. আহমেদুল কবির এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার মোঃ জোবাইদুর রহমান। সেমিনারে বিএনএনসি, এনএনসি, ইউএনডিপি, গেইন এবং ব্র্যাকের প্রতিনিধিবৃন্দ বাংলাদেশ তথা নগরে পুষ্টি কার্যক্রম বিষয়ক উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এছাড়া নির্ধারিত আলোচকবৃন্দ অসংক্রামক রোগ, পুষ্টি ও বাজার ব্যবস্থা, পুষ্টি ও সুশাসন এবং হেলদি সিটি নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here