মো. ইসহাক ফারুকী:  চিত্রনাট্য ১

বিমান ৪ ঘণ্টা পর আসবে। আফজাল সাহেব কানাডার বিমানবন্দরে বসে আছেন। পরিচিত বাঙালী খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। পারলেন না। কি করবেন বুঝে উঠতে পারলেন না। একটা সিগারেট ধরানো যায় কিনা আগপাছ ভাবছেন। কানাডার এই বিমানবন্দরে ধূমপানের নির্দিষ্ট স্থান আছে কিনা, তা খুঁজছেন। পেলেন না। এক কোণায় গিয়ে দাঁড়ালেন। আশেপাশে কেউ নেই। ব্যাগ থেকে সিগারেট বের করে ধরিয়ে ফেললেন। হুট করে কোত্থেকে পুলিশ এসে হাজির। তারা তাকে বললেন, বিমানবন্দরে ধূমপান করা নিষেধ। আফজাল সাহেব বললেন, এখানে তো ডেজিগনেটেড স্মোকিং এরিয়া বা ধূমপানের নির্দিষ্ট স্থান নেই। পুলিশরা তাকে বললেন, বিমানবন্দরে ধূমপান করা একেবারেই নিষিদ্ধ।

চিত্রনাট্য ২

তপু (ছদ্মনাম) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাশ করেছে। তার বন্ধুমহলের প্রায় সবাই ধূমপায়ী। রাস্তাঘাটে, চায়ের দোকানে, দূরপাল্লার বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ধূমপান করাটা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। তাদের কারণে আশেপাশে যারা যাতায়াত করে, তারাই সবাই পরোক্ষভাবে বিষপানের শিকার। কে কি মনে করলো, কার কি ক্ষতি হলো-এটা নিয়ে ভাববার সময় নেই। কেউ একজন বলে ফেললো, ভাই পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।

প্রথমটি বহির্বিশ্বের একটি দেশ কানাডায় পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পরের চিত্র। অপরটি বাংলাদেশের পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ করার পরের চিত্র। বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় আমাদের অবস্থানেএখনও সন্তোষজনক নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। তার জন্য বন্ধ করা প্রয়োজন আইনের ফাঁক।

বাংলাদেশ গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে ২০১৭ অনুযায়ী ৩৫.৩% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (১৫ বছর বা তদূর্দ্ধ) তামাক ব্যবহার করেন, যার মধ্যে ৪৬ শতাংশ পুরুষ ও ২৫.২ শতাংশ নারী। প্রাপ্তবয়স্কদের ৪২.৭ শতাংশ আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্রে, ৪৯.৭ শতাংশ রেস্তোরাঁয় এবং ৪৪ শতাংশ মানুষ গণপরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।

ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ এবং ২০১৩ (সংশোধিত) আইনের ধারা ৪ (১) অনুসারে, কোনো ব্যক্তি কোনো পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করতে পারবেন না। আইনের ধারা ৭ (১) অনুসারে কোন পাবলিক প্লেসের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক উহাতে এবং কোন পাবলিক পরিবহণের মালিক, তত্ত্বাবধায়ক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি বা ব্যবস্থাপক উহাতে ধূমপানের জন্য স্থান চিহ্নিত বা নির্দিষ্ট করিয়া দিতে পারিবেন৷

পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিষিদ্ধ বলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি অফিস, আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও বেসরকারি অফিস, গ্রন্থাগার, লিফট, আচ্ছাদিত কর্মক্ষেত্র (ইনডোর ওয়ার্ক প্লেস), হাসপাতাল ও ক্লিনিক ভবন, আদালত ভবন, বিমানবন্দর ভবন, সমুদ্রবন্দর ভবন, নৌ-বন্দর ভবন, রেলওয়ে স্টেশন ভবন, বাস টার্নিমাল ভবন, প্রেক্ষাগৃহ, প্রদর্শনী কেন্দ্র, থিয়েটার হল, বিপণী ভবন, চতুর্দিকে দেয়াল দ্বারা আবদ্ধ রেস্টুরেন্ট, পাবলিক টয়লেট, শিশুপার্ক, মেলা বা পাবলিক পরিবহনে আরোহণের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য নির্দিষ্ট সারি, জনসাধারণ কর্তৃক সম্মিলিতভাবে ব্যবহার্য অন্য কোন স্থান অথবা সরকার বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক, সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, সময় সময় ঘোষিত অন্য যে কোন বা সকল স্থান এবং এ সমস্ত স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বিদ্যমান আইনে রয়েছে কিছু দূর্বলতা। বেশকিছু ক্ষেত্রে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহণে ধূমপানের অনুমতি দেয়া হয়েছে। যেমন: চার দেয়ালে আবদ্ধ নয় এমন রেস্তোঁরা, কোনো কোনো পাবলিক প্লেসে নির্ধারিত ধূমপান এলাকা, একাধিক কক্ষবিশিষ্ট গণপরিবহন (ট্রেন, লঞ্চে) ধূমপানের নির্ধারিত স্থানে, সব ধরনের অযান্ত্রিক পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করা যাবে। আসলে হওয়া প্রয়োজন ছিল ধূমপানের জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানও নয়। বর্তমানে অনেক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, কফিশপ ইত্যাদি রয়েছে, যেগুলোর চারপাশ দেয়াল দ্বারা আবদ্ধ নয়। সেসব জায়গাসহ সকল ধরনের পাবলিক প্লেস, কর্মক্ষেত্রে ও গণপরিবহণে ধূমপানসহ যেকোনো ধরনের তামাক ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি ধুমপানমুক্ত ভবন বলতে সেই ভবনের বারান্দাসহ সকল আচ্ছাদিত স্থানকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে, রেস্তোঁরাসহ সব পাবলিক প্লেসকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করা গেলে সেখানে আগতদের হৃদরোগের ঝুঁকি ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পাবে, শ্বাসতন্ত্র ভালো থাকবে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী যুক্তরাজ্য, অষ্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ইরান, মিশর, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, নেপালসহ বিশ্বের ৬৩টি দেশে ইনডোর পাবলিক প্লেসে ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নিষিদ্ধ করেছে। ৪২ টি দেশ তাদের বিমানবন্দরে পুরোপুরি ধূমপান নিষেধ করেছে।

গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, তামাক ব্যবহারকারীর প্রায় অর্ধেক মারা যান তামাকের কারণে। ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস-এর ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তামাকের কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১২৬,০০০ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে, যা দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৩.৫ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত। ৬১ হাজারেরও বেশি শিশু (১৫ বছরের নিচে) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে সৃষ্ট রোগে ভুগছে। কখনই তামাক ব্যবহার করেননি তাদের তুলনায় তামাক ব্যবহারকারীদের তামাকজনিত রোগ যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, সিওপিডি বা ফুসফুসের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৫৭ শতাংশ বেশি এবং তামাকজনিত অন্যান্য ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ১০৯ শতাংশ বেশি। এ কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ১ লাখ ৬১ হাজারেরও বেশি মানুষ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার জনিত রোগে মৃত্যুবরণ করেন।

রেডিয়েশন অনকোলজি বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেডিয়েশন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান এবং আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার এন্ড জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমি এক রোগীকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম-আপনি কেন ধূমপান করেন? তিনি উত্তরে বলেছেন, ধূমপান না করলে শরীরে শক্তি পাই না। মাথা কাজ করে না। এগুলো ভ্রান্ত ধারণা। এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূপানের ফলে ৯০ শতাংশ পুরুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। তাই প্রকাশ্যে ধূমপান বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি স্মোকিং জোন নিষিদ্ধ করার জন্য আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।

স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ ও হাসাপাতালের গাইনী ও অবস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নাসিমা আখতার বলেন, আমাদের দেশে বর্তমানে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ধূমপান করে। তা ছাড়া পরোক্ষভাবেও মহিলারা ধূমপানের শিকার হচ্ছে। এটা অনেক বেশি ক্ষতিকর। এতে করে বন্ধ্যাত্ব বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর প্রভাব পড়ছে। শিশুর আইইউজিআর (ইন্ট্রাইউটারিন গ্রোথ রেস্ট্রিকশন) হবে। ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাবে। অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দাসহ নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, স্মোকিং জোন করতে হলে বিদেশের মতো করা উচিত ছিল। ডেজিগনেটেড এরিয়া থেকে ধোঁয়া এমনভাবে বের হবে, যা অন্য কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে। আমাদের বিমানবন্দরসহ সকল পাবলিক প্লেসে যে স্মোকিং জোন কনসেপ্ট আছে, তা একেবারেই ভুল। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এজন্য যেভাবে আইন সংশোধন করা দরকার, সেই আইন করা উচিৎ। তা নাহলে সমস্যার সমাধান কখনও হবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর  রহমান বলেন, নির্দিষ্ট ধূমপান স্থানের কনসেপ্ট একদম ঠিক নয়। এতে মানুষ আরও বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। ধূমপান কখনও ভাল কিছু বয়ে আনে না। তাই আমাদের আরও সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চাইল্ড এডলেসেন্ট এন্ড ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর চাইল্ড এন্ড এডলেসেন্ট মেন্টাল হেলথের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট (ইলেক্ট) ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকাশ্য স্থানে তামাকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা উচিৎ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ঠেকাতে হবে। ধূমপানের জন্য আলাদা করে নির্দিষ্ট স্থানের প্রয়োজন নাই। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। অন্যদিকে আইনের কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কারণ ধূমপানের ফলে মানসিক ও শারীরিক নানান সমস্যা সৃষ্টি হয়। নিজের পাশাপাশি অন্যের ক্ষতির কারণও হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ বলেন, বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা থাকলেও সঠিক ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই। অনেকেই স্মোকিং জোনের বাইরে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছেন। অনেক জায়গায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার ফলে স্মোকিং জোন কোন কাজে আসছে না। রেস্তোরাঁয় একটি রুমে তিনটি টেবিল আছে। সেখানে একটি টেবিলের লোক ধূমপান করছে। এতে অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেন্টিলেশন সিস্টেমসহ স্মোকিং জোনের সঠিক ব্যবস্থা করতে অর্থ খরচ করতে হবে এই ভেবে অনেকেই সঠিক উপায়ে স্মোকিং জোন বানাচ্ছেন না। তাই আমরা বলছি, এভাবে স্মোকিং জোনের ব্যবস্থা না করে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিতে। কারণ, আপনি তো বিমানে, হাসপাতালে ধূমপান করছেন না। তাহলে আলাদা করে কেন ধূমপানের নির্দিষ্ট এলাকা থাকতে হবে?

ক্যাম্পেইন ফর টোবাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশের গ্র্যান্টস ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া বলেন, ট্রেনে একটি বগি থেকে অন্য বগিতে যাতায়াত করা যায়। মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে কেউ যখন ধূমপান করেন, তখন পরোক্ষভাবে যাতায়াতকারী ক্ষতির শিকার হন। আবার রেস্টুরেন্টে একটি কক্ষে ধূমপান করলে বাকি কক্ষেও সিগারেটের ধোঁয়া যাচ্ছে। না চাইতেও পরোক্ষভাবে ধূমপায়ী হয়ে উঠছেন অধূমপায়ীরা। বিমানের ভেতরে তো আর কেউ ধূমপান করছেন না। তাহলে কেন আলাদা ধূমপানের জায়গা থাকতে হবে?

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সমন্বয়কারী (অতিরিক্ত সচিব) হোসেন আলী খন্দকার বলেন, সঠিকভাবে ধূমপানের নির্দিষ্ট স্থানটি ব্যবহার করা হচ্ছে না। এতে সমস্যা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে স্মোকিং জোন বা ধূমপানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ জন্য সরকার আইন সংশোধনের চিন্তাভাবনা করছে। আইনের মধ্যে এই বিষয়টি আনা হয়েছে। পলিসি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করি, অতি শিগগিরই আইন সংশোধন হবে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ কাযক্রম বাস্তবায়ন নির্দেশিকা’ শিরোনামে একটি গাইডলাইন প্রণয়ন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্মোকিং ফ্রি গাইডলাইন, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাথে আলোচনা করে রেস্তোরগুলোকে ধূমপানমুক্ত রাখা, নো স্মোকিং সাইন ব্যবহার করা, ২৪টি জেলার রেস্তোরাগুলোর সাথে মিটিং, হোটেল সোনারগাঁও, হোটেল ওয়েস্টিনকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করা, রেস্তোরাগুলো পর্যবেক্ষণ করার কাজগুলো বাস্তবায়নে জাতীয় তামাক উন্নয়ন সেল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস বাংলাদেশ, ঢাকা আহছানিয়া মিশনসহ অন্যান্য তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান বিষপানের সামিল। বিদ্যমান আইনের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্মোকিং জোন বা নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকার ধারণাটিকে কাজে লাগিয়ে ধূমপানজনিত ক্ষতি দিন দিন বেড়েই চলেছে। নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। তাই আইনের ফাঁক বন্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা নিষিদ্ধ করাই এখন সময়ের দাবি। তা না হলে ২০৪০ সালের মধ্যে  নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আমরা পৌঁছাতে পারবো না।

 

 

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here