ধানক্ষেতে পড়ে থাকা শিশুর দায়িত্ব নিলেন বিচারক-শিক্ষক দম্পতি

ধানক্ষেতে পড়ে থাকা শিশুর দায়িত্ব নিলেন বিচারক-শিক্ষক দম্পতি

রওশন আলম পাপুল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি :: গত ১৬ এপ্রিল গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের খামার মামুদপুর গ্রামে পাকা রাস্তার পাশে ধানক্ষেতের আইলে একদিন বয়সী এক নবজাতক ছেলেশিশু কান্না করছিল। এসময় সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই গ্রামেরই মিনহাজুল ইসলাম সজিব (৩৫) নামের এক ব্যক্তি। তিনি ওই শিশুর কান্নার শব্দ শুনে স্থানীয় আবিদা খাতুন (৫৫) ও সাদা রানীকে (৪৫) নিয়ে গিয়ে শিশুটিকে ওই স্থান থেকে উদ্ধার করেন।

রবিবার এই শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহন করেন গাইবান্ধার এক বিচারক-কলেজশিক্ষক দম্পতি। দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে মিট দ্যা প্রেসে সাংবাদিকদের ডেকে এসব কথা জানান এসপি প্রকৌ. আবদুল মান্নান মিয়া। তাদের বাড়ী নীলফামারী জেলায় বলে জানা গেছে।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহম্মদ রাহাত গাওহারী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মইনুল হক, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান, সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. শাহরিয়ার, পলাশবাড়ী থানার ওসি হিপজুর আলম মুন্সি, গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান, সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি এস এম আবদুস সোবহান ও হরিণাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন এবং জেলা প্রবেশন অফিসার নাসির উদ্দিনসহ পুলিশের বিভিন্নস্তরের কর্মকর্তারা।

ধানক্ষেতে পড়ে থাকা শিশুর দায়িত্ব নিলেন বিচারক-শিক্ষক দম্পতি

মিট দ্যা প্রেসে পুলিশ সুপার প্রকৌ. আবদুল মান্নান মিয়া আরও বলেন, শিশুটিকে উদ্ধারের পর হরিণাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে খবর দিলে কেন্দ্রের ইনচার্জ কামাল হোসেন শিশুটিকে উদ্ধার করে তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান। সে রাতের বৃষ্টিতে শিশুটি ভিজে যাওয়ার পরও বেঁচেছিল নবজাতকটি। ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে পড়লে শিশুটিকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পর নবজাতক এই শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন পৌর এলাকার প্রফেসর কলোনীর শামীমা আক্তার সুমনা (৩০)।

পরে শিশুটির খবর সবখানে ছড়িয়ে পড়লে দেশ ও বিদেশের অনেকেই দায়িত্ব নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে বিভিন্ন দপ্তরের ১৬ সদস্য বিশিষ্ট এক কমিটির সিদ্ধান্তে সবদিক বিবেচনা করে শিশুটির দায়িত্বভার দেওয়া হয় যোগ্য এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে।

এসপি আরও বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশের পক্ষ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত শিশুটির খোঁজ-খবর রাখা হবে। তবে শর্ত থাকবে যে, শিশুটির পিতা-মাতা দাবি নিয়ে কেউ আসলে তখন ডিএনও টেস্টসহ পরিচয় নিশ্চিত হয়ে শিশুটিকে তার জন্মদাতা বাবা-মাকে দেওয়া হবে। শিশুটির পরিচয় উদঘাটনের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ক্ষুধার্ত মানুষ

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা ৮২ কোটি

ডেস্ক নিউজ :: ২০১৮ সালে বিশ্বের ৮২ কোটি মানুষ পেটে ক্ষুধা নিয়ে ...