ব্রেকিং নিউজ

দোহারের নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি

মো. মিজানুর রহমান ::  সাপের  মত বেঁকে  চলা রাস্তার দু’ ধারে সবুজ মাঠ, কখনো সোনালী ধানের দোল খাওয়া আবার কখনো  জলরাশি। চোখে লেগে থাকার মত মনমাতানো  সৌন্দর্যের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে যে কারো মন কেড়ে নিত। রাস্তার মাথায় বিশাল জলরাশি (পদ্মা নদী) কখনো  ভয়ংকর রূপ নিত আবার কখনো বা রূপ নিত রমণীয় শোভার যা মুগ্ধ করতো  যে কাউকে।

বলছিলাম দোহারের মইনট ঘাটের পুর্বের রূপের কথা। একসময় বিশাল এক এলাকা জুড়ে বিস্তার ছিল এই ঘাটের।

যখন এর প্রসার বা প্রচার ছিল না বললেই চলে। সময়ের ব্যাবধানে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে ঢাকা জেলার অন্তর্গত  মইনট ঘাটের প্রসার লাভ করেছে ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে যা বর্তমানে মিনি কক্স’সবাজার নামে পরিচিত।

ঢাকা শহরের আশেপাশে যে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান রয়েছে তার মধ্যে দোহারের মৈনট ঘাট অন্যতম। প্রতি দিন এখানে ঘুরতে আসে বহু ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। কিন্তু দিন দিন ছোট হয়ে আসছে ঘাটের পরিধি। পদ্মার তীব্র ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে পদ্মার পার।

প্রায় ১০ বছর আগে ও এখানে ফরিদপুর জেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ের বেশ কিছু গ্রামের অস্তিত্ব ছিলো, যা এখন নদী গর্ভে। গত ১০ বছরে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে  ৫ কিলোমিটারও বেশি এলাকা। প্রতি নিয়তই চলছে পদ্মার ভাঙ্গন। এরফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কৃষি জমি, বিলীন হয়েছে বসত ভিটা, স্কুল, মসজিদ, রাস্তাঘাট, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন।  নদী পারের মানুষগুলো গৃহহীন ও ভূমিহীন হয়ে পরেছে । আবার অনেকেই হারিয়েছে তাদের জীবিকা অর্জনের সামান্য সম্বলটুকু।

ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে মৈনট ঘাটের বর্তমান অবস্থায় রূপান্তর ঘটেছে এবং পদ্মার ভাঙ্গন এখনো চলমান।এর প্রভাব আশেপাশের লোকালয়ে পরছে।  ভাঙ্গন রোধে সরকারের দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ চোখে পরছেনা। এই ভাঙ্গন যদি অব্যাহত থাকে এবং আরও যদি কয়েক কিলোমিটার ভাঙ্গে তবে লোকালয়ের কয়েটি গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

জীবিকার সামান্য সম্বলটুকু হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব এবং তাদের দুঃখ সীমাহীন । অনেকেই পুঁজি সঞ্চয় করে তাদের বসতভিটা তৈরি করেছে। কত স্বপ্ন  বুনছে  তার আশেপাশের অবস্থাকে কেন্দ্র করে। সেই স্বপ্নে আঘাত হানছে পদ্মার ভাঙ্গন। নিঃস্ব প্রায় মানুষগুলো ছুটে চলছে নদীর এপার থেকে ওপার । এইভাবেই চলছে তাদের জীবন সংগ্রাম। বসতভিটা হারানর সাথে সাথে অনেকেরই  পূর্বসূরীদের স্মৃতি বিজড়িত অনেক কিছুই ( যেমন বাপ- দাদার কবর)  নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে । বসতভিটার সাথে সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পূর্বপুরুষদের স্মৃতিচিহ্নটুকু।

পদ্মা নদী কত সুখ -দুঃখের সাথী নদী পারের মানুষের। এই এলাকার  মানুষেরা সুখের প্রত্যাশী পদ্মার কাছে এবং একে ঘিরেই  বেঁচে থাকতে চায়। তাইতো তারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও নদীকূল ছেড়ে  যেতে অনিচ্ছুক। নদীর ভাঙ্গনে কেবল এপার-ওপার করেই চলছে তাদের জীবন।

গবেষণা বলছে, দুর্যোগ প্রবণ এলাকার মানুষেরা তাদের আবাস্থল পরিবর্তন করছেনা কারণ অপেক্ষাকৃত কম দুর্যোগপূর্ণ এলাকার চেয়ে এখানে  জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং জীবিকা সহজলভ্য । এসব এলাকার লোকজন সংগ্রামী এবং নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেই এরা বেঁচে থাকে। সরলতার উপস্থিতি তাদের প্রতিটি কাজেই লক্ষ্যণীয়। যদি তাদের বসবাসের জায়গা স্থায়ী করা যেত অর্থাৎ যদি নদী ভাঙ্গন রোধ করা যেত, তাহলে তাদের দুঃখ-কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব করা যেত। নদীর করাল গ্রাস থেকে নদী পারের মানুষকে রক্ষা করা না গেলে বা তাদের দুঃখ দুর্দশা মোচন করা না গেলে টেকসই উন্নয়নে এসকল মানুষেদের অংশীদারত্ব নিশ্চিত অসম্ভব।

দোহারের নদী ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে টেকসই উন্নয়ন, স্বাবলম্বী ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে এ এলাকার নদী পারের মানুষ অনেকাংশে পিছিয়ে পরবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মুজিববর্ষ উপলক্ষে মঠবাড়ীয়া উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ

স্টাফ রিপোর্টার :: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে পিরোজপুর জেলার  ...