দেশের প্রথম ‘রেড জোন’ কক্সবাজারে

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাদারীপুরের শিবচর প্রথম লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকটি উপজেলার পর পুরো দেশই লকডাউন করা হয়। পরে খুলেও দেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে শুক্রবার দেশে প্রথম ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কক্সবাজার জেলার কয়েকটি এলাকাকে। এরপর পর্যটন শহর কক্সবাজার পৌর এলাকাকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। গত এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার শহরে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, শুক্রবার বিকালে ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির জরুরি সভায় জেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো কক্সবাজার পৌরসভাকে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পৌর এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকবে।

এই সময়ে সবাইকে যার যার বাসায় অবস্থান করতে হবে। বন্ধ থাকবে সব ধরনের ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন। কাঁচা বাজার ও মুদিদোকান কেবল রবি ও বৃহস্পতিবার খোলা রাখা যাবে আট ঘণ্টার জন্য। অন্য সব দোকান ও হাটবাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হবে। তবে ফার্মেসি বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে না।

কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৮৭৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬৪ জন রোগী কক্সবাজার সদর উপজেলায়। এ ছাড়া মহেশখালীতে ৩৪, টেকনাফে ৪১, উখিয়ায় ১১০, রামুতে ৫৩, চকরিয়ায় ১৮৯, কুতুবদিয়ায় ৩ এবং পেকুয়ায় ৪৭ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে পরিণত হওয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও বাড়ছে করোনার প্রকোপ। সেখানে এ পর্যন্ত ৩৫ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। একজন মারা যাওয়ার খবরও এসেছে গণমাধ্যমে।

রেড জোনের ভেতরে কক্সবাজার পৌর এলাকায় লকডাউন চলাকালে কী কী বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে তা জানিয়ে শুক্রবার বিকালে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ‘ডেল্টা কাউন্সিল’ গঠন

ডেস্ক নিউজ ::  বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দিতে ...

0Shares