দুর্নীতি বিরোধী অভিযান ও একজন শেখ হাসিনা !

জি এম কামরুল হাসান :: একবার একটা গল্প শুনেছিলাম, গল্পটা ঠিক এমন- এক গরীব সৎ লোকের ছেলে, আর একজন বৃত্তবান প্রভাব শালীর ছেলে এক ক্লাশে পড়া লেখা করতো। পড়ালেখায় বরাবরই দরিদ্র লোকটির ছেলেটা ভালো। প্রভাবশালী লোকটি ছিলো স্কুল কমিটির সভাপতি। আর সে কারনে শিক্ষকরা সভাপতিকে বলতো স্যার আপনার ছেলেটি পড়াশুনা কম করছে, এসএসসিতে আমাদের হাতে নেই যে সেখানেও আমরা প্রথম করে দিবো। সেখানে কিন্তুু গরীব ঘরের ছেলে সারোয়ার পার হয়ে গেলেও আপনার ছেলে কিন্তুু বিপদে পড়বে। তখন সভাপতি বলেন এসএসসিতো দূরের কথা বশির মিয়ার ছেলে কিছুই করতে পারবে না।

দেখা গেলো বশির মিয়ার ছেলে ঠিকই ভালো ফল করলো সভাপতির ছেলে করলো ফেল। শিক্ষকরা তখন বল্লো- স্যার আমরা আপনাকে বলেছিলাম না….এই কথা শুনে তিনি বলেন ও এসএসসি করলে কি হবে এইচএসসিতে পারবে না, আমার ছেলে এখন সময় নস্ট করে কেন পড়বে ও ব্যাবসা করে এখন থেকে টাকা কামাবে। এর পর এইচএসসি র রেজাল্ট এলো দেখা গেলো বশির মিয়ার ছেলে সারোয়ার ঠিকই প্রথম হয়েছে। তখন সভাপতি এ কথা শুনে বলে, এটা পার হয়েছেতো কি হয়েছে সারোয়ার অনার্স পাশ করবে না।

এদিকে কি যে ব্যাবসা করে দুবছরে বেশ আয় শুরু করেছে। অনার্স ফলাফল বের হলো সারোয়ার হয়ে গেলো দেশ সেরা রেজাল্ট এর অধীকারী। একথা শুনে সভাপতি বল্লো, তাতে কি হয়েছে ও তো মাস্টার্স এ পাশ করবে না, দেখনা আমার ছেলে এই ছয় বছরে কত টাকার মালিক হয়েছে?

বছর পেরুতেই মাস্টার্স এর রেজাল্ট হলো সেখানেও সারোয়ার দেশ সেরা রেজাল্ট পেয়েছে। তখন সভাপতি বল্লো- ভালো কথা, লেখাপড়ায় ভালো করেছে তাতে কি, দেখে নিও, ওতো ভালো চাকুরী পাবে না।আমার ছেলেকে দেখো ৭জন বডিগর্ড নিয়ে ঘুরে। এর পর বছর পেরুতেই সারোয়ার বিসিএস ক্যাডার হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হলো। সে কথা শুনে সভাপতি একটু অখুশি হয়ে বল্লো চাকুরী হলে কি হবে ওর বিয়ে হবে না। কদিন পরে সারোয়ারের বাবা বশির মিয়া একটা বিয়ের কার্ড নিয়ে সভাপতির বাসায় দাওয়াত দিতে গেলে সভাপতি বলেন, বিয়ে হলে কি হবে বশির মিয়া তোমার ছেলে তো দূর্নীতি করে টাকা আয় করতে পারবে না। আমার ছেলে দেখনা কত টাকার মালিক। তখন সারয়ারের বাবা বশির মিয়া বলেন, সভাপতি সাব এতো দিনে একটা সত্যি কথা বলেছেন আমার ছেলে এই কাজটাই করতে পারবে না। এই একটা কথাই আপনার সত্যি হবে।

এর কয়েক বছর পরে এক অভিযানে সভাপতির ছেলের অফিসে অভিযান চালিয়ে ভিআইপি, ক্যাসিনো, মাদক দ্রব্যের এক মহা সম্রাজ্যের অবাক করা কাহিনী উন্মোচন করেন সেই বশির মিয়ার ছেলেটি। কোটি কোটি টাকার ঘুষ সেধেও কোন লাভ হয়নি। বশির মিয়া তখন বলেন সভাপতি সাব দেখেছেন আপনার কথাই সত্যি হলো, আমার ছেলে ওই একটা কাজই শুধু পারলো না!

আমাদের দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর যারা এমন সব মন্তব্য করেছিলেন তারাও দেখেছেন একজন শেখ হাসিনা একে একে জঙ্গী দমন, বিদ্যৎ খাতে উন্নয়ন ঘরে ঘরে বিদ্যৎ, সড়ক মহাসড়ক নির্মান, সমুদ্র জয়, মহাকাশে উপগ্রহ প্রেরন,ব ড় বড় ফ্লাই ওভার নির্মান, মেট্রোরেলের এগিয়ে যাওয়া, সব বাঁধা পেরিয়ে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মান এগিয়ে নেওয়া, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পাওয়া, এস ডি জি অর্জনে অগ্রগতি, সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনী গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যখাতে অভাবনীয় সফলতা কমিউনিটি ক্লিনিক, স্যানিটেশন সচেতনতা, দারিদ্রতা হ্রাস, শিক্ষা গবেষনায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, আবাসন খাতে উন্নয়ন, ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, গড় আয়ু বৃদ্ধি সহ নানা মূখী অগ্রগতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবই অর্জন করেছেন এবং একই সাথে বিরোধী দলের কার্যক্রম নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতেও সক্ষমতা লাভ।

কিন্তু অন্যদিকে মানুষের মধ্যে একটা ধারনা জন্মাতে থাকে দেশে মানবিক মূল্যবোধের ঘাটতি, এক শ্রেনীর মানুষের হঠাৎ বড়লোক হয়ে যাওয়া, দূরনীতির প্রভাব বেড়ে যাওয়া, শিক্ষা, নির্মানসহ বেশকিছু খাতে সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। দেশ চালাতে গেলে ঘরে বাইরে নানা রকম সমস্যা সৃষ্টি হবে এটা স্বাভাবিক তবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কি পদক্ষেপ গ্রহন করা হচ্ছে সেটায় দেখার বিষয়। আর সে জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে একে একে সব বিষয়ের মতো এবার সেই বিষয় গুলোর প্রতি দৃষ্টি রেখেছেন।

বিশ্বাস করে যাদের প্রতি দায়িত্ব দিয়েছিলেন এবার তিনি বুঝিয়ে দেবেন বিশ্বাস ভঙ্গের কি পরিনতি! দূর্নীতির বিরুদ্ধে এবার জোহাদ ঘোষনা করেছেন, এবার তাঁর এই অভি্যান ও সফলতার মুখ দেখবে এটাতে কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না। ভোট নিয়ে জনমনে একটা প্রশ্ন থাকলেও হয়তো আগামীতে একজন শেখ হাসিনাই পূর্ণ গনতান্ত্রিক দেশ উপহার দিতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার ও তিনিই দেবেন। কারণ জনগনের কাছে তার রয়েছে একটি শক্ত কমিটমেন্ট। এখন প্রয়োজন আরোকিছু সময়, সময় দিয়ে অপেক্ষা করা।

ওই গল্পের মতোই একজন শেখ হাসিনা একে একে সব পরীক্ষায় পাশ করে এলেও একটি বিষয়ে তিনি পাশ কখোনই করবেন না, আর সেটা হলো তিনি দূরনীতি করতে পারবেন না। এই কথাটাই হয়তো সেই সভাপতির কথার মতোই হবে। তবে তিনি দূরনীতি করবেন না আর তাঁর দলের অন্যরা দল মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা গনতন্ত্র ও চেতনার ব্যানার টানিয়ে দূরনীতি করবে আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেটা চেয়ে চেয়ে দেখবেন, এটা যারা ভেবেছেন তারা এখন ফল ভোগ করার জন্য প্রস্তুুত হন!

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত যর্থাতই বলেছিলেন “বাঘে ধরলে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে ছাড়েনা” দূর্নীতির বিরুদ্ধে এই অভি্যান যদি অব্যাহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়, তবে উন্নত দেশের কাতারে নিজেদের নাম লেখাতে খুব বেশি সময় লাগবে না।আর মালয়েশিয়ার ড. মহাথির হতে আমাদের প্রধান মন্ত্রীরও বেশি সময় লাগবে না।

বর্তমানের দুর্নীতি বিরোধী অভিযান সফল হলে সুবচন ও ফিরে আসবে, ফিরে আসবে সামাজিক সাম্যতা, মানবিক মূলয়বোধ, মানবতা মাথা তুলে দাড়াবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত দেশ হয়ে বিশ্ব মানচিত্রে একজন শেখ হাসিনার হাতে বিজয় পতাকা পত পত করে উড়বে।

 

 

 

 

লেখকঃ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক। gmkhasan@gmail.com

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইয়োগা রানী ‘শ্বেওতা ওয়ার্পে’ ঢাকা আসছেন

স্টাফ রিপোর্টার :: ভারতের ‘মিস এলিট এশিয়া’ ২০১৮, ‘মিস ইন্ডিয়া গুডউইল ইন্টারন্যাশনাল’ ...