দুঃখানন্দ মণ্ডল’এর সমকালীন টুকরো কথা “হাতটা শক্ত করো ধরো”

 

হাতটা শক্ত করো ধরো

-দুঃখানন্দ মণ্ডল

তুমি হাত দেখতে জানো? একদম! মানুষকে দুর থেকে দেখেই বলে দেবো তার ভবিষ্যৎ। উফ্ আমি তো এমনি একজনকে খুঁজে বেড়াচ্ছি। তুমি যে কি উপকার না করলে তা বলে বোঝাতে পারবো না। তাহলে কাল সকালে আসি। না না এখন এসো না। আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার আসার পথে বিঘ্ন ঘটবে। গৌতম বুদ্ধ বলতেন Three things cannot be long hidden: the Sun,the Moon and the Truth. এটা ভাবো দেখবে তুমিও উৎরে গেছো। আচ্ছা। খুব বাস্তব না! আমি মর্মে মর্মে মানি। দেখো যেমন সত্য এটি; তুমি যেখানে রোজ খাওয়ার পর হাত ধুচ্ছো সেইখানে যে লঙ্কা চারাটি আছে তাকে বড় হতে দাও। তাকে উপড়ে ফেলে দিও না। একদিন সে তোমাকে ফল দেবে। ঠিক তেমনি তুমি ভাবছো তোমার স্বপ্নগুলো একদিন শ্মশানে স্থান পাবে। কিন্তু যদি ভাবে স্বপ্নগুলিকে স্বপ্নের জায়গায় রাখবো তাহলেই হবে। ঐ যে জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথায় রবে। আবার দেখো তোমার ভেঙে যাওয়া স্বপ্নগুলো কেমন সুন্দর ভাবে জোড়া লেগে গেছে। সর্বদা তোমাদের মধ্যে হাজারও বিবাদ লেগে থাকতো,হাজারও সমস্যা, সংসারের হাল ঠিকমতো ধরা থাকতো না বলে কখনও কখনও মাঝ নদীতে নৌকা চলে যেতো। তাতেও তোমাদের মধ্যে বিবাদ। সংসারের হালটাও ঠিক ধরতে পারছো না। কেন যে সংসার করেছিলে বুঝে পাই না! সন্ন্যাস ধর্ম নিতে পারতে। সেখানেও তুমি থাকতে পারতে না। তাহলে কোথায় থাকাটা সমুচিত হবে? উত্তর তোমার মুখে, তাহলে শ্মশানে। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখবে এখন আর কেউ শ্মশানের কথা বলছে না।বলছে সাবধানে থাকতে হবে। মানে তোমার ভাঙা সম্পর্ক ক্রমশ জুড়ে যাচ্ছে। তুমি এখন বলো লঙ্কা গাছটা বেশ ফুলে দিচ্ছে কয়েকদিন পর লঙ্কা ধরবে।মনে হয় ঝাল হবে! তুমি কি বলো? আসলে এটাই সম্পর্ক।

এই দেখো না! এখন সব দেবতার ইনকাম বন্ধ। ঠেলাঠেলিও হচ্ছে না। তুমি রোজ স্নানের পর বাড়িতে পুজা করছো আর চিনির দানা প্রসাদ হিসাবে দিচ্ছো।তোমার দেবতা ঠিক গ্রহন করছে। কিন্তু আগে কতই না আয়োজন। পটল দিয়ে পনির পস্তু, দেশি কাতলার জিরা দিয়ে নিরামিষ ঝোল, কলমী সাক ভাজা, আম আর কাজু দিয়ে চাটনি, সুগন্ধি গোবিন্দভোগ চালের পায়েস; তাতে আবার জল পড়ত না পুরোটাই আমুল দুধ দিয়ে আর সাথে খুব দামী সন্দেশ সেটা আবার সুগার ফি। কি না আয়োজন! ঠাকুর কিন্তু বলেনি। তবে ইনকামও আছে! সে কথা থাক। শুনেছি মন্দির থেকে কি সব জল ছিটিয়ে দেওয়া হয় রোগজ্বালা মুক্তির জন্য।আর তোমরা বিলাসিতা করে গলায় আঁচল দিয়ে হাত জড়ো করে বসো। কিন্তু কিসছু হয়নি। একটা গল্প মনে পড়ে গেল; একজন মালিক তাঁর বিশ্বস্ত এক কর্মচারীকে দিয়ে দেবতার কাছে ১০ টি স্বর্ণমুদ্রা পাঠান। রাস্তায় যেতে যেতে দেখে অসহায় মানুষগুলো লাইন দিয়ে বসে আসছে। একজনকে দেখে তার চোখে জল আসে নিজের কাছে কিছু নেই। কি করবে! কিছু না পেয়ে একটি স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দেয়। বাকি ৯ টি দেবতাকে পায়ে। স্বপ্নে দেবতা এসে ঐ মালিকে বলেন তোর দেওয়া একটি স্বর্ণমুদ্রায় আমি খুব প্রসন্ন হয়েছি। তুই ভাল থাক। ঘুম ভেঙে যায়! তাহলে বাকি ৯ টি কোথায় গেল! সাথে সাথে ঐ কর্মচারীকে মারধর শুরু করবেন। সব ছেড়ে চলে যায় ঐ সৎ কর্মচারী। একদিন ঐ মালিক মন্দিরে গিয়ে দেখেন ৯ টি স্বর্ণমুদ্রা পড়ে আছে ঠাকুরের পায়ের কাছে। কিছুক্ষণ হতবাক হয়ে গেলেন। তারপর ঐ রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে দেখেন পথের ধারে বসে থাকা ভিখারিরা নমস্কার করছে। তখনও বুঝে উঠতে পারেননি। পরে কাজছুট কর্মচারীটি সব বলে। আসলে তোমার অনেক আছে তুমি জানো। কিন্তু তুমি নির্বাচন করতে পারো না আসল দেবতা কে! তুমি শুধু জানো তোমার দেবতা বিলাসবহুল মন্দিরে থাকেন আর আমি ভাবি আমার দেবতারা রাস্তায় এসেছে! এখনও একমুঠো খাবার পায়নি। তাকিয়ে আছে খোলা আকাশের দিকে।

 

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

জন্মদিনের শ্রদ্ধাঞ্জলি: রাষ্ট্র প্রধানের লেখালেখির অনন্য পদরেখা

ছাইফুল ইসলাম মাছুম :: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা মাননীয় ...