ডেস্ক রিপোর্ট : : চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির বিরুদ্ধে মামলার পর এবার কড়া ভাষায় তার সমালোচনা করলেন নির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীঘিকে ‘দুই পয়সার মেয়ে’ এবং ‘বাজে মনোবৃত্তির মেয়ে’ বলেন ঝন্টু। বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঝন্টু বলেন, ওর কথা শুনে মনে হয় মেয়েটা মোটামুটি লেখাপড়া করছে। সুন্দর সুন্দর ইংরেজি শব্দগুলো ব্যবহার করে। জ্ঞান নেই তার, জ্ঞান থাকলে নিজের ছবি চলবে না এই কথা কেউ বলে!

এক প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা ঝন্টু বলেন, ওই বক্তব্য দেওয়ার পর আমার সঙ্গে আর দীঘির কথা হয়নি। আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নাই। উপস্থাপক প্রশ্ন করেন, আপনি কি দীঘিকে জিজ্ঞাসা করতে পারতেন না, কেন এমন হলো? ঝন্টু বলেন, কেন করব আমি? সে আমাকে জিজ্ঞাসা করে বলেছে? আমি কেন জিজ্ঞাসা করব? দুই পয়সার একটা মেয়ে।

নিজের সিনেমার নায়িকাকে ‘দুই পয়সার মেয়ে’ বলা কতটা সমীচীন উপস্থাপকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ঝন্টু বলেন, দুই পয়সার মেয়ে না হলে এমন কথা বলতে পারে না। চলচ্চিত্রের জন্য সে দুই পয়সার। লেট মি ফিনিস, দুই পয়সার মেয়ে বলছি এই জন্য, চলচ্চিত্রের জন্য সে দুই পয়সার। নিজের চলচ্চিত্রকে চলবে না যে বলে, সে দুই পয়সারও না। সে একটা বাজে মনোবৃত্তির মেয়ে। নয়তো এ কথা সে কী করে বলে? ওর নিজের ছবি। কেন বলবে?

নিজেরা কথাবার্তা তুলেই হাইপ সৃষ্টি করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে, ‘তুমি আছো তুমি নেই’ নিজের ৮৩তম ছবি উল্লেখ করে ঝন্টু বলেন, না আমার এত ঠেকা পড়ে নাই। আঙুল দেখায় কইতেছি। এইটা আমার ৮৩ নম্বর ছবি। আমি দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আমার নামে মানুষ ছবি দেখতে যায়।

একই সাক্ষাৎকারে নিজেকে কাহিনীকার বা চিত্রনাট্যকার হিসেবে সংখ্যার দিক থেকে এক নম্বর দাবি করেন এই নির্মাতা। তিনি ‘কোয়ালিটি’ আছে বলেই ২২৩টি গল্প লিখতে পেরেছেন বলেন। একপর্যায়ে উপস্থাপকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান ঝন্টু। পঞ্চাশ বছর আগে দর্শক যা চাইত এখনো সেগুলোই চায় কিনা প্রশ্নের জবাবে ঝন্টু বলেন, হ্যাঁ ওগুলোই চায়, প্রেজেনটেশনটা ভিন্ন।

উল্লেখ্য, মুক্তির আগেই দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত ‘তুমি আছো তুমি নেই’ সিনেমাটি নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সিনেমাটি নিয়ে অনেক জল ঘোলা করেছেন পরিচালক ঝন্টু ও প্রযোজক সিমি ইসলাম কলি। দিন দুয়েক আগে নায়িকা দীঘির বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেছেন বলেও জানিয়েছেন প্রবীণ নির্মাতা ঝন্টু।

মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দীঘির বাবা অভিনেতা সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, ‘মামলার বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। আমার কাছে কোনো কাগজপত্র আসেনি। তবে কয়েক দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে শুনছি তিনি (ঝন্টু) মামলা করবেন। এরপর আমরা তার সঙ্গে এবং সিনেমার প্রযোজকের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।’

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here