ইয়াছিন ইসলাম:: মহাসংকটকালে অবস্থান করছে দেশ। শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। ফলে প্রসঙ্গত কারণেই সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাত জন্য সরকার থেকে প্রদান করা হয়েছে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা।

এপ্রিল মাসের ৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা যা ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। এসময় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সীমিত পরিসরে স্বাভাবিক ছিল জীবনযাপন। তবে সংক্রমণের হার প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড গড়ায় সরকার কঠোর লকডাউনের ঘোষণা দেয়।

১৪ই এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন যা চলবে ২১ই এপ্রিল পর্যন্ত এবং এই সময়কাল আবার ২১ ই এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

লকডাউনের কারণে স্থবির হয়ে পরেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাহিরে বের হতে পারছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে দিনমজুর ও হতদরিদ্র এবং খেটে খাওয়া সাধারণ জনগন। একই সাথে রমজান মাস শুরু হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। ফলে খেটে খাওয়া সকল সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জীবনে নেমে এসেছে দুর্ভিক্ষের ন্যায় পরিস্থিতি।লকডাউন শুরুর কথা শুনতেই রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে হাজার হাজার পরিবার। আমরা পত্রপত্রিকা বা সংবাদ খুললেই দেখতে পাই অসহায় মানুষের আহাজারি। রাস্তার পাশে অভুক্ত মানুষের নিরব কান্না। জীবিকার তাগিদে যদিও বা কেউ বের হচ্ছে তাদেরও পড়তে হচ্ছে আইনি জটিলতায়। রিক্সাগুলো উল্টে রাখা হয় সড়কের উপর। তবে এই উল্টানো রিক্সায় চলে একটি পরিবার। সেখবর নেয়ার মতো লোক না থাকলেও ঠিকই তাদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।ফলে কর্মহীন হয়ে এসব মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।

সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে করোনার কারণে নতুন করে দরিদ্র হয়েছে প্রায় দেড় কোটি মানুষ।

করোনার কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান চলমান থাকলে শ্রমিক ছাটাই সহ নানাবিধ কঠিন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে টিকে আছে। ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সাথে দরিদ্রতার হারও।

প্রতিবেদনে আরো দেখা যায় যে করোনা দুর্যোগের কারণে চাকরি হারিয়েছে প্রায় ৩ শতাংশ শ্রমিক। শহর অঞ্চলে ইনফরমাল ইকোনমিতে
৬.৭৮ শতাংশ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এছাড়াও উচ্চপর্যায়ে ১ কোটি ১১ লাখ থেকে ২ কোটি ৫ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে।

সিপিডির তথ্যমতে কম আয়ের লোকেরা সবচেয়ে বেশি সংকটে পরেছে। বিশ্ব ব্যাংকের তথ্যমতে মানুষের আয় কমেছে ৩৭ শতাংশ যার মধ্যে ঢাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ৪২ শতাংশ এবং চট্রগ্রামে বসবাসকারীদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। বেতন নির্ভর মানুষের আয় কমেছে প্রায় ৪৯ শতাংশ।

এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মানুষের দারিদ্র্যের চিত্র সহজেই অনুমেয়। আর সরকার থেকে আবারও লকডাইনের সময়সীমা বর্ধিত করার ঘোষণা হয়েছে।

সুতরাং জাতির এই মহাসংকটকালে সরকার ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের উচিত এসকল দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সরকার থেকে বিভিন্ন আর্থিক সহযোগীতার ঘোষণা দেয়া হলেও তা এইসময়ে পর্যাপ্ত নয়। রমজান ও ঈদ এবং বর্তমান লকডাউনের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ধনবান এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থার উচিত দরিদ্র এসকল মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

কবি কামিনী রায়ের সেই চরণ সকলের মনে গেঁথে থাকা উচিত- “সকলের তরে সকলে আমরা
প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।”

সাহায্য, সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্বের অটুত বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বৈশ্বিক এই মহামারির সংকটকালে একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। তবেই সূচিত ধরায় আবার বাজবে মানুষের জয়গান।

শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here