দরিদ্র মানুষকে সরাসরি অর্থ সহায়তার আহ্বান সুজনের

স্টাফ রিপোর্টার :: করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তার পরিবর্তে নগদ অর্থ সহায়তার পরামর্শ দিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের থাবায় বেকার হওয়া ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ও জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার সুজনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

সুজন সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রামণ সারা বিশ্বে মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশেও এর দ্রুত বিস্তার ঘটছে। এর সংক্রামণ কমিউনিটি বা স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে। জনগণ আসলে ভাল নেই। করোনাভাইরাসের কারণে অসংখ্য মানুষের শুধু জীবনের ঝুঁকিই সৃষ্টি হচ্ছে না, বেসরকারি খাতে বেকারত্বও ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ বেকারত্বের বিরাট অংশেরই উৎস অপ্রতিষ্ঠানিক খাত। এদের অধিকাংশই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দিনমজুর, যারা মূলত দিন আনে দিনে খায় এবং এদের সঞ্চয় বলতে নেই বললেই চলে। এদের বেকারত্ব ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। এমনি পরিস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে তাদেরকে বাঁচিয়ে রাখা এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ করোনাভাইরাসে না মরলেও অনাহারে তারা এবং তাদের পরিবার মৃত্যুবরণ করতে পারে। কিন্তু দেশের অপ্রতূল, দুর্নীতিগ্রস্থ ও অদক্ষভাবে পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচী হঠাৎ বেকার হয়ে যাওয়া বিরাট জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। ১০ টাকা দমে প্রদত্ত চাল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

সুজনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ভয়াবহ সমাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ ক্ষুধার্ত মানুষ সহজেই সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এরই মধ্যে অনেক জায়গায় ক্ষুধার্তরা জায়গায় প্রতিবাদী হয়ে উঠছেন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ত্রাণের দাবিতে একদল মানুষ চেয়ারম্যানের বাড়ি ঘেরাও করেন। লকডাউন অব্যাহত থাকলে এবং খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দ্রুত দূর করা না গেলে এ ধরনের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ ব্যাপক আকার ধারন করতে পারে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি বড় ধাঁধ হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দ্রুত লকডাউনের অবসান করোনাভাইরাসের সংক্রামণের বিস্তারে মৃত্যুর হার বাড়বে। আবার সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করার জন্য লকডাউন বেশিদিন অব্যাহত রাখলে দরিদ্র্য মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণে মারা যেতে পারে এবং এ থেকে সমাজে হানাহনি সৃষ্টি হতে পারে।

এমনি পরিস্থিতিতে নীতি নির্ধারকদের কাছে সুজনের পরামর্শ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্নিত উদ্যোগে জোরালো সহায়তা কর্মসূচি দ্রুত চালু করতে হবে; খাবারের পরিবর্তে বিকাশ কিংবা রকেট এর মাধ্যমে বেকার হওয়া ব্যক্তিওদেরকে সরাসরি অর্থ দিতে হবে; করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি সর্বদলীয় জাতীয় কমিটি গঠন করতে হবে; করোনাভাইরাস সংক্রমণের ব্যপ্তি জানতে সরাদেশে ব্যাপকভাবে পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ফ্রি-টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে ‘সাড়া’

স্টাফ রিপোর্টার :: যাত্রা শুরুর চার দিনের মাথায় প্রতিদিন গড়ে এক’শ মানুষ ...