মহানন্দ অধিকারী মিন্টু, পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি ::

খুলনার পাইকগাছায় তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে কৃষক বোরো আবাদ করছে। তবে গত সপ্তাহে তীব্র শীত ও রাতদিন ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলা ও রোপনকৃত চারা টিকিয়ে রাখতে কৃষকদের হিমশীম খেতে হয়েছে। এখন আবার দিনে ঝলমলে রৌদ্রোজ্জ্বল তাপে কৃষক পুরোদমে বোরো আবাদ শুরু করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলার ৫ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চারা রোপন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ জমিতে বোরো রোপন সম্পন্ন হবে। বোরো আবাদের জন্য ৩২০ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরী হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড ৯৫ হেক্টর উফশি ২২৫ হেক্টর।

জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে উপকূল অঞ্চলের কৃষি কাজ অন্য এলাকা থেকে এক থেকে দেড়মাস পরে শুরু হয়। এর ফলে অন্য এলাকার সাথে উপকূলীয় এলাকার চাষাবাদ ব্যবধান তৈরী হচ্ছে। মৌসুম তারতম্যে চাষাবাদের সময় পরিবর্তন হয়েছে। এখনো আমন ধান কর্তন চলছে। ধান কাটার পর এসব ক্ষেত বোরো আবাদের জন্য প্রস্তুত করা হবে। তাছাড়া বৈরী আবহাওয়ার সাথে মোকাবেলা করে ফসল লাগাতে হয়।

উপজেলার হিতামপুর ব্লকের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগে তীব্র শীত ও কুয়াশায় ধানের চারা কিছুটা লাল হয়েছিলো। সেসময় পলিথিন দিয়ে ঢেকে, পানি বদলসহ নানারকম পরিচর্যা করে বীজতলা ও রোপনকৃত চারা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে শ্রমিকের উচ্চ মূল্যের পরে-ও চাহিদামত বোরো আবাদ করার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে বোরো আবাদ সম্পন্ন করতে সময় বেশি লাগছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার অসিম কুমার দাশ জানান, বোরো আবাদের মাঝে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা পড়লেও বীজতলা কোনো ক্ষতি হয়নি। তাছাড়া প্রতিদিন পানি বদল করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কৃষি অফিস থেকে সব রকম সহযোগিতা করা হচ্ছে। এখন আবহাওয়া বোরো আবাদের জন্য পুরাপুরি অনুকূলে রয়েছে।

এসময় চারা রোপন করলে বোরোর আবাদ ভালো হবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here