ব্রেকিং নিউজ

তীব্র শীতে লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি :: গত কয়েক দিন থেকে দেশে ঝেকে বসেছে শীত। চলছে বৈরী আবহাওয়া। এতে তীব্র শীতে ঠান্ডা জনিত কারনে লক্ষ্মীপুরে বেড়ে চলছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫‘শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। ২ শতাধিকের বেশি ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোর চিত্র একই। রোগীর অনুপাতে হাসপাতালে বেড না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে হাসপাতালের মেঝেতে অবস্থান নিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রোগীরা। ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে জরুরী বিভাগে দৈনিক ৮০-৯০ জন শিশু চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে ৩০-৪০জন ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে।

এছাড়া প্রতিবেডে এক শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বেড না থাকায় ২/৩ শিশুকে এক বেডে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে নতুন নতুন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স না থাকায় এসব রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একই অবস্থা জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১৫টি বেড রয়েছে। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ জন শিশুকে ভর্তি করা হচ্ছেন। এতে নতুন রোগীদের বেডে দেয়া যাচ্ছেনা। অধিকাংশকেই বেড শেয়ার করতে হচ্ছে। আবার অনেককেই মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে বেড শেয়ার করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয় রোগীর স্বজনদের।

সদর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর স্বজন হারুন, ইয়াকুব, পারুল ও জেসমিন আক্তার বলেন, ভর্তির পর হাসপাতাল থেকে তাদের খাবার স্যালাইন ও সামান্য কিছু ঔষধ দেয়া হয়। বাকী ঔষধ বাহির থেকে কিনতে হয়। এছাড়া অতিরিক্ত রোগীর ভিড়ে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন তারা। প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে। তবে প্রতিবেডে এক শিশুকে চিকিৎসা দেয়ার কথা থাকলেও বেড না থাকায় দুই তিন জন শিশুকে এক বেডে এবং মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে করে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালের শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোরশেদ আলম হিরু বলেন, গত কয়েকদিন লক্ষ্মীপুরে প্রচন্ড শীত পড়ছে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে ভাইরাসের আক্রমণ বেড়ে যায়। শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। এজন্যই শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিনই ৫০-৬০ জন শিশুকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তবে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৪-৫ দিনে ঠান্ডা জনিত কারণে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছেন। রোগীকে সুস্থ করে তুলতে আমাদের চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এর মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে জনবল সংকটের কারণে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট। কিন্তু শয্যা অনুযায়ী বাড়েনি চিকিৎসকসহ লোকবল। ৫০ শয্যার লোকবল দিয়েই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবাসহ কার্যক্রম। এদিকে হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

টর্নেডোর কয়েক মিনিটের তান্ডবে ক্ষতচিহ্ন

শিপুফরাজী, চরফ্যাশন প্রতিনিধি :: ভোলার চরফ্যাশনে আকর্ষিক টর্নেডোতে ঘরবাড়ি হারা পরিবারগুলোর কেউ ...