নিজস্ব প্রতিবেদক:: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরবিরোধী বিক্ষোভে হামলায় হতাহত হওয়ার ঘটনায় আজ রোববার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। পাশাপাশি তাদের ঠেকাতে সরব ছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

কেন্দ্রীয় কার্যক্রমের অংশ নিয়ে মহাখালী ও পাশবর্তী এলাকায় সরব ছিলো তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগ। সকাল থেকে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো.রিপন মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল মোড়লের নেতৃত্বে মহাখালীর বিভিন্ন সড়কে দফায় দফায় মিছিল, সমাবেশ সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা। দিনভর রাজপথ সরব রেখেছিলো।

বিক্ষোভ মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশ করে যেকোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজপথে সক্রিয় দেখা গেছে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের। এদিকে মহাখালী ও বনানী এলাকাজুড়ে পুলিশের কঠোর অবস্থানের মধ্যে পরিস্থিতি সারাদিনই নিয়ন্ত্রণে ছিলো।

তিতুমীর কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক জুয়েল মোড়ল বলেন, সকাল থেকেই সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সকল নেতা-কর্মীকে নিয়ে কলেজের মূল ফটক ও আখি ছাত্রাবাসের মূল ফটক সহ তিতুমীর কলেজের আশপাশের এলাকায় তিতুমীর কলেজ ছাত্রীকে প্রত্যেকটি নেতাকর্মী কঠোর অবস্থানে ছিল যাতে করে সাধারন মানুষের উপর জামায়াত-বিএনপিও হেফাজত ইসলাম সাধারণ মানুষের উপর বর্বরতা ও আগুন সন্ত্রাস না চালাতে পারে। যাতে করে আমরা তাদেরকে শক্ত হাতে দমন করতে পারি, যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় তারা সত্যিকার অর্থেই স্বাধীনতাবিরোধী কারণ বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ এখন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়নকে মেনে নিয়েছে এবং তারা উন্নয়নের অগ্রযাত্রা সারথি, বাংলাদেশের মানুষ অগ্নি সন্ত্রাস এবং হরতালকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যারা তরুণ প্রজন্ম রয়েছি আমরা চাই তাদের এই অপরাজনীতি এবং অযৌক্তিক হরতালের মুল উদ্দেশ্য হলো ধর্মকে ব্যবহার করে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সেই স্বপ্নও তারা কখনোই বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

এদিকে, ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার অংশ টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে অচল করে রেখেছেন হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

দিনভর সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বলছেন, পুলিশ দুষ্কৃতকারীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হেফাজতের হরতাল সমর্থকেরা ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের (মৌচাক এলাকায়) প্রথম টায়ারে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এরপর সানারপাড়, শিমরাইল ও সাইন বোর্ডে সড়কে টায়ারে আগুন ধরান তাঁরা।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here