নূরে আলম বাবু, নীলফামারী থেকে ::

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাকে ‘তামাক চাষ মুক্ত’ উপজেলা হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে তিস্তা নদী বেষ্টিত এই উপজেলাটিতে। ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বেলায়েত হোসেনের উদ্যোগে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ঠদের সাথে মতবিনিময় সভা হয়েছে নীলফামারী- ০১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের উপস্থিতিতে।

কৃষি বিভাগ সুত্র জানায়, উপজেলার দশটি ইউনিয়নের মধ্যে পুর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, গয়বাড়ি, নাউতারা, খালিশা চাপানি ও টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে তামাক চাষ করে থাকেন ২৫৮জন কৃষক। স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করতে কৃষকদের সচেতন করে তোলা, বিকল্প ফসল চাষে আগ্রহ তৈরি করা, প্রণোদনা প্রদান, সরকারী নানা সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন ভাবে কৃষকের সহযোগীতা করা হবে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, নদী বেষ্টিত হওয়ায় বালু মাটির কারণে কয়েকটি ইউনিয়নে তামাক চাষ করেন প্রায় তিন’শ কৃষক। কিন্তু তারা শারীরীক মানসিক ভাবে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন তেমনি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হতে পারেন না শুধু হিসেবে তারা বলে থাকেন তামাকে লাভ বেশি। মুলত তারা লাভ করতে পারছেন না।

তামাকের পরিবর্তে ভুট্টা আবাদ করলে বিঘা প্রতি ৪০ হাজার টাকা পেতে পারেন তারা। আমরা মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক মাঠ স্কুল এবং সরাসরি কৃষকদের সাথে তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করতে কাজ শুরু করেছি। আগাম ভুট্টা করতে পারলে এক জমিতে তারা তিনটি ফসল ফলাতে পারবেন কৃষকরা। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি এবং কৃষির যত সুবিধা রয়েছে সেগুলো তাদের দেয়ার চেষ্টা করছি। যাতে তামাক আবাদ পরিহার করতে পারেন। নীলফামারী জেলা তামাক চাষী সমিতির সভাপতি ও জলঢাকা উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক বলেন, বালু মাটিতে অন্যকোন ফসল হয় না। সে কারণে তামাক বেশি করেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। সরকার এখোনো ধুমপান বন্ধ ঘোষনা করেনি। সেকারণে
তামাকের চাষও রয়েছে।

তবে কৃষকদের যদি বিকল্প কিছু দিয়ে লাভের আওতায় নিয়ে আসা যায় তাহলে তামাক চাষ করতে আপত্তি থাকবে না তাদের। নিঃসন্দেহে আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

তামাক চাষ মুক্ত উপজেলা ঘোষণার উদ্যোক্তা ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) বেলায়েত হোসেন জানান, বাংলাদেশের মধ্যে ডিমলা হবে প্রথম কোন উপজেলা ‘যেখানে কোন তামাক চাষ হয় না’। আমরা এনিয়ে কাজ শুরু করেছি। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এই ঘোষণা দিতে চাই আমরা। তিনি বলেন, তামাক চাষের সাথে জড়িত প্রত্যেকটি কৃষককের সাথে কথা বলা হবে, তাদের সুবিধা অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হবে এবং তাদের বিকল্প পদ্ধতি দিয়ে আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই।

মাননীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের নেতৃত্বে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি আমরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জনের মাঝে মতবিনিময়, পরামর্শ গ্রহণ শুরু করেছি এবং ব্যাপক সাড়া পেয়েছি এবং আমরা সফল হবো মনে করছি।

নীলফামারী-০১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, তামাক চাষ বন্ধের ব্যাপারে আমি মহান জাতীয় সংসদে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম। তামাকের ক্ষতি নিয়ে কথা বলেছি। আমি আমার নিজ এলাকায় এটি এখন করতে যাচ্ছি। সচেতনতা মুলক নানা কাজ, সভা সমাবেশ ছাড়াও সরকারী ভাবে তামাক চাষীদের সুবিধা দিয়ে ক্ষতিকর তামাক চাষ
শুণ্যের কোটায় আসবে ডিমলা উপজেলায় এটি আমি নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আমি সবার সহযোগীতা চাই এবং বড় একটি
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে ডিমলাকে পরিচিত করতে চাই।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here