তাজহাট জমিদার বাড়ি ভ্রমনের অভিজ্ঞতা

 গাজি সানজিদা :: কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে – কবিগুরু রবিন্দ্রনাথের এই গানের মতো মনে মনে হারানোর পাশাপাশি বাস্তবেও আমি হারাতে চাই এই অপরূপ বাংলার শোভিত সৌন্দর্যে । ঠিক এমনই একটি স্থান  রংপুরের তাজহাট জমিদার বাড়ি । অপরূপ প্রকৃতির মাঝে প্রত্নতত্ত ও ট্যারাকোটায় মন ছুয়ে যায় । কিছুদিন আগে তাজহাট জমিদার বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল ,সেই গল্প আজ জানাবো ।

 

কথিত আছে, মনোমুগ্ধকর তাজ বা মুকুটের কারনেই এই এলাকার নাম তাজহাট ।অনেকদিন থেকে আমার ইচ্ছে ছিল তাজহাট জমিদারবাড়ি ভ্রমণ করার। তাজহাট রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়ি বাংলাদেশের রংপুর শহরের অদুরে তাজহাটে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রাসাদ যা এখন একটি জাদুঘর হিসাবে ব্যবহৃত হচেছ ।

রংপুরের পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয়স্থান। রাজ বাড়িটি রংপুর শহর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ৩ কিঃমিদূরে অবস্থিত । এক সময় বাংলাদেশের মধ্যে রাজা বা জমিদারদের বেশ প্রভাবছিল । তারা নিজের শাসনকাজ পরিচালনা ও বসবাসের জন্য নির্মাণ করেছিলেন দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন স্থাপনা । তেমনি একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা  রংপুরে তাজহাট জমিদার বাড়ি।প্রাসাদটি নির্মাণ করেছিলেন তৎকালিন জমিদার মহারাজা কুমার গোপাল রায় । বিংশ শতাব্দীর শুরুতে প্রাসাদটি নির্মাণে প্রায় ১০ বছর সময় লেগেছিল। এই জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মান্নান লাল রায় ।

তিনি স্বর্ণ ব্যবসা করতে পান্জাব থেকে রংপুর এসেছিলেন । তারপর ১৮১৯ সালে তারই উত্তরাধিকারী গোবিন্দ লাল জমিদারির মালিক হন । গোবিন্দ লাল তার কর্মের জন্য রাজা,রাজাবাহাদুর ও মহারাজা উপাধি অর্জন করেছিলেন । তিনিও এখানে হীরা-মানিক জহরত ও  টুপির ব্যবসা করতেন । সেখান থেকে এই এলাকার নাম হয়ে ওঠে তাজহাট । ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত প্রাসাদটি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সর্বমোট ৩১ টি সিঁড়ি আছে যার প্রতিটাই ইতালীয় ঘরানার মার্বেল পাথরে দিয়ে তৈরি । সিঁড়ি থেকে উঠে জাদুঘর পর্যন্ত মেঝের পুরোটাও একই পাথরে মোড়া  । প্রসাদ চত্বরে রয়েছে বিশাল খালি মাঠ ,গাছের সারি এবং প্রাসাদের দুইপাশে রয়েছে দুইটি পুকুর।

এছাড়াও জাদুঘরে  রাজা-বাদশাদের ব্যবহৃত অনেক নিদর্শন রয়েছে  , তার মধ্যে শিলালিপি , পোড়ামাটির ফলক ,হস্তলিপি সহ অজস্র নিদর্শন। জাদুঘরে প্রবেশের জন্য প্রদান করতে হয় নির্দিষ্ট  ফি । মনমুগ্ধকর পরিবেশ ও অনেক আরামদায়কতার পরেও রয়েছে কিছুস্বল্পতা ।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী আসেন এখানে । একজন দর্শনার্থী বলেন , জমিদার বাড়িটির সৌন্দর্য যে কাউকে মুগ্ধ করার মতো । সরকার সঠিক পরিচর্যা করলে রাজ বাড়িটির সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে ।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

One comment

  1. তাজহাট জমিদার বাড়ি অনেক সুন্দর একটি স্থাপনা। গিয়েছিলাম ঘুরতে কিন্তু ইতিহাস টা জানা হয় নি ধন্যবাদ এতো মূল্যবান তথ্য গুলো জানানোর জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ডিআইইউ তে হাল্ট প্রাইজ চ্যাম্পিয়ন “টিম প্রিহিম”।

স্টাফ রিপোর্টার:: ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে হাল্ট প্রাইজ ২০২১ এর অনক্যাম্পাস প্রোগ্রাম সম্পন্ন ...