ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম

ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম

স্টাফ রিপোর্টার :: ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো : আতিকুল ইসলাম। উত্তর সিটির ১ হাজার ২৯৫ ভোটকেন্দ্রের বেশিরভাগ কেন্দ্রের বেশিরভাগ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের পক্ষে রায় দিয়েছেন ভোটাররা।

তবে বৃহস্পতিবার রাত ১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ১১১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আতিকুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ লাখ ৯৪ হাজার ৫৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পাটি-জাপার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে শাফিন আহমেদ পেয়েছেন ৩২ হাজার ৭৬৩ ভোট।

বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্থাপিত নির্বাচন কমিশনের ‘ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র’ থেকে উত্তর সিটি নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল কাসেম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ডিএনসিসির মেয়র পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অপর প্রার্থীদের মধ্যে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আনিসুর রহমান দেওয়ান (আম) পেয়েছেন ৬১৫১ভাট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টির (বাঘ)-শাহিন খান ৫৮২১, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহিম (টেবিল ঘড়ি) ৮৪০৪ ভোট পেয়েছেন। মেয়র পদে ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৫৮ হাজার ৭০টি। এর মধ্যে বৈধ ভোট পড়েছে ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭২৫ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১০ হাজার ৩৪৫ ভোট।

মেয়র পদে ২৯ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পড়েছে।

ভোট শান্তিপূর্ণ হলেও উপ-নির্বাচন, বৈরি আবহাওয়া ও বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ৪টা পর্যন্ত উত্তর সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে এবং দক্ষিণ সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে উত্তর সিটির ২১নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দুই সিটিতে ৫০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন ইসির সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। উত্তর সিটিতে মোট ভোটার ছিল ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন। ৫৪টি ওয়ার্ডে মেয়র পদে ভোট দেন ভোটাররা। নির্বাচন উপলক্ষে প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৩ জন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিল। কোথাও কোন সহিংসতার খবর পাওয়া যায় নি। ভোটের কারণে দুই সিটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। যানচলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নির্বাচনে সবখানেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল। তবে দিনভর অপেক্ষা করেছেন ভোটারের জন্য। ভোটার উপস্থিতি কম দেখে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে মেয়র পদের প্রার্থীদের কণ্ঠেও ঝরেছে হতাশা। কেউ বলেছেন বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জন, নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের আস্থার সংকট, আবার কেউ বলেছেন বৈরী আবহাওয়ার কথা।

নৌকার মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বলেন, দুটি কারণে ভোটার উপস্থিতি কম। একটি হচ্ছে স্বল্প সময়ের জন্য এই নির্বাচন আর সব রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে না ভেবে ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। তিনি সকাল ৯টার দিকে উত্তরার আজমপুর এলাকার নওয়াব হাবিবুল্লাহ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভোট দেন। সকাল ১০টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে মোট ৫০টি ভোট পড়ে বলে প্রিজাইডিং অফিসার ডা. প্রদীপ কুমার বিশ্বাস জানান। এই কেন্দ্রে বেলা ১২টায় দেখা যায় ভোটারদের কোনো লাইন নাই। একই চিত্র দেখা যায় উত্তরার আইইএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেন্দ্রে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা এখানেই ভোট দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার না আসার দায় নির্বাচন কমিশনের নয়। এ দায় রাজনৈতিক দলগুলোর এবং প্রার্থীদের। প্রথম দুই ঘণ্টায় প্রায় ৩ হাজার ভোটারের মধ্যে এখানে ভোট পড়ে মাত্র ১৫টি। কমবেশি একই চিত্র ছিল উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় সব কেন্দ্রেই।

সকাল থেকে বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটারই দেখা যায়নি। উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের মহানগর কলেজ, সিরাজনগর উচ্চ বিদ্যালয়, মে ফ্লাওয়ার টিউটোরিয়াল, আনন্দ নগর স্কুলে দেখা গেছে ভোটারদের উপস্থিতি নেই। ভোটারদের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী শাফিন আহমেদ বলেন, গত বেশ কয়েকটা নির্বাচনে এত অনিয়ম হয়েছে যে ভোটাররা নির্বাচন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তিনি গুলশানের মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ কেন্দ্রে সাড়ে ১২ টায় ভোটদান করেন। তার এই কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০ট পর্যন্ত একটি ভোট পড়ে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সকাল ১১টার দিকে এক সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন মন্ডল বলেন, ওই কর্মকর্তা আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। ভোটকেন্দ্রে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে জাপার পোলিং এজেন্ট মো. বাদলের মৃত্যু হয়েছে। বিকেল ৫টার দিকে কড়াইল বস্তি এলাকার মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট গণনাকালে তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হন। বাদলকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয়।

কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন যারা

ঢাকা উত্তর সিটির ২১ নম্বর ওয়ার্ডে উপ-নির্বাচনে সাবেক প্যানেল মেয়র ওসমান গনির ছেলে মাসুম গনি তাপস কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন গঠিত ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে বাড্ডা থানা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচিত হয়েছেন। ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে বাড্ডা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সেলিম, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম বাছেক, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ভাটারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ঢালি, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম এবং ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে হাজী ফারুক আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর টিম চালু

স্টাফ রিপোর্টার :: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক মেরামতসহ নানা সমস্যার ...