ব্রেকিং নিউজ

‘ঢাকার ৮২ শতাংশ এলাকা কংক্রিটে আবৃত’

স্টাফ রিপোর্টার :: বাসযোগ্য শহরের জন্য ন্যূনতম ৩০-৩৫ শতাংশ জায়গা উন্মুক্ত, সবুজ ও জলাভূমি রাখতে হয়। কিন্তু গত ২০ বছরে রাজধানীর ১৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার জলাভূমি ও উন্মুক্ত স্থান অনেকাংশে কমেছে, বেড়েছে কংক্রিট।

বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গবেষণায় উঠে এসেছে, বর্তমানে রাজধানীর ৮২ ভাগ এলাকা কংক্রিটে আবৃত হয়ে গেছে। আর জলাভূমির পরিমাণ রয়েছে ৪ দশমিক ৩৮ ভাগ। বাকি এলাকার কিছু অংশ উন্মুক্ত, সবুজ ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯৯ সালে ঢাকার জলাভূমি ছিল ১৯ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার; ২০ বছরে জলাভূমির পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮৭ ভাগ। কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৮৭ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটার; যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯ দশমিক ৬৩ বর্গকিলোমিটার। উন্মুক্ত স্থান ছিল ১৮ দশমিক ৮৫ বর্গকিলোমিটার, সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৭ বর্গকিলোমিটারে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিআইপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। আলোচনায় অংশ নেন বিআইপির সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ, বিআইপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. একেএম আবুল কালাম প্রমুখ।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, ১৯৯৯ সালে উত্তরা, খিলক্ষেত এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৪৩ দশমিক ৮২ ভাগ; যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫৯ ভাগ। জলাভূমি ছিল ২২ দশমিক ৮৭ ভাগ; যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ১২ ভাগ। মিরপুরে কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৪৪ দশমিক ৫৫ ভাগ; যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৩৬ ভাগ। জলাভূমি ছিল ২২ দশমিক ১৪ ভাগ; যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৬৫ ভাগ। বারিধারা, বনানী, গুলশান, মহাখালী ও বাড্ডা এলাকার কংক্রিটের পরিমাণ ছিল ৭৭ দশমিক ৪১ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ১৬ ভাগ। সবুজ আচ্ছাদন ছিল ১ দশমিক ৫০ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে দশমিক ৮৪ ভাগ।

খিলগাঁও, মগবাজার, পশ্চিম মালিবাগ এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৮১ দশমিক ৮২ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ দশমিক ৬০ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ৫ দশমিক ৫ ভাগ, যেটা কমে শূন্যে নেমেছে। জলাভূমি ছিল ১০ দশমিক ৪৪ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬ ভাগ। গাবতলী ও কল্যাণপুর এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৬৩ দশমিক ৩ ভাগ, কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৮৩ ভাগ। জলাভূমি ছিল ২১ দশমিক ১৭ ভাগ, কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ ভাগ। সবুজ আচ্ছাদন ছিল শূন্য দশমিক ৮৬ ভাগ, কমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ ভাগ। বড়বাগ, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও ইব্রাহীমপুর এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৮৮ দশমিক ৬৪ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ১৪ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ৯ দশমিক ৮১ ভাগ; যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৩৪ ভাগ। জলাভূমি ছিল শূন্য দশমিক ৬৯ ভাগ; যেটা কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ১৭ ভাগ।

কারওয়ান বাজার, রাজাবাজার ও আগারগাঁও এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৬৯ দশমিক ৬৩ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯২ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ১৬ দশমিক ৪৮ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৬১ ভাগ।

শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, বছিলা ও রায়েরবাজার এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৫৪ দশমিক ৯৭ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ৫১ ভাগ। জলাভূমি ছিল ৩৩ দশমিক ৪ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৭৬ ভাগ।

খিলগাঁও, গোড়ান, মেরাদিয়া, বাসাবো ও রাজারবাগ এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৬৭ দশমিক ৫১ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৬০ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ২১ দশমিক ২৬ ভাগ, যা কমে শূন্যে নেমেছে। জলাভূমি ছিল ৯ দশমিক ৪৩ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৫০ ভাগ। সবুজ আচ্ছাদন ছিল ২ দশমিক ৭৯ ভাগ, যা কমে শূন্যে নেমেছে।

মুগদাপাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, আরামবাগ ও মতিঝিল এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৮৮ দশমিক ৮৫ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৮২ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ৫ দশমিক ৯২ ভাগ, যেটা কমে শূন্যে নেমেছে। সবুজ আচ্ছাদন ছিল শূন্য দশমিক ৩৯ ভাগ, যেটা কমে শূন্যে নেমেছে।

মালিবাগ, শাহজাহানপুর, দক্ষিণ খিলগাঁও, চামেলীবাগ, আমিনবাগ, শান্তিনগর এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৯৫ দশমিক ৩৩ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৬৭ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ৩ দশমিক ১১ ভাগ, যেটা কমে শূন্যে নেমেছে।

ধানমণ্ডি, পূর্ব রায়েরবাজার, কাঁঠালবাগান ও নীলক্ষেত এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৮০ দশমিক ৮২ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৬৮ ভাগ।

মগবাজার, ইস্কাটন, সেগুনবাগিচা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক এলাকায় খোলা জায়গা ছিল ৪ দশমিক ২২ ভাগ, যেটা কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ১৭ ভাগ।

হাজারীবাগ, জিগাতলা ও লালবাগ এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৪৯ দশমিক ৭ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ দশমিক ৯১ ভাগ। জলাভূমি ছিল ৩১ দশমিক ৪০ ভাগ, কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৭৩ ভাগ।

আজিমপুর, বকশিবাজার ও ইসলামবাগ এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৮৫ ভাগ, বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ দশমিক ৫ ভাগ। খোলা জায়গা ছিল ৬ দশমিক ৫৮ ভাগ, কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২৬ ভাগ।

সোয়ারীঘাট ও বংশাল এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৯৮ দশমিক ৪৫ ভাগ, যেটা বেড়ে শতভাগে উন্নীত হয়েছে। সবুজ আচ্ছাদন, খোলা জায়গা ও জলাভূমি বলতে কিছুই নেই। সিদ্দিক বাজার ও শাঁখারিবাজার এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৯৮ দশমিক ২৭ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ দশমিক ৪২ ভাগ। ওই এলাকায় সবুজ আচ্ছাদন, জলাভূমি ও খেলা জায়গা বলতে কিছুই নেই।

মানিকনগর, স্বামীবাগ, লালমোহন শাহ স্ট্রিট, বানিয়া নগর ও আলমগঞ্জ এলাকায় খোলা জায়গা ও সবুজ আচ্ছাদন বলতে কিছুই নেই।

সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, মীর হাজীরবাগ, মুরাদপুর ও জুরাইন এলাকার কংক্রিট আচ্ছাদিত ছিল ৮২ দশমিক ৭১ ভাগ, যেটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ দশমিক ৭ ভাগ। ওই এলাকায় খোলা জায়গা বলতে কিছু নেই।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ইউনেস্কোর তত্ত্বাবধায়নে সারাবিশ্ব বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবে: প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ::  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারে থেকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী ...