গবেষণার জন্য আহসান মঞ্জিল, আবদুল্লাহপুর, মতিঝিল, শাহবাগ, ধানমন্ডি-৩২, আগারগাঁও, জাতীয় সংসদ এলাকা, তেজগাঁও, মিরপুর-১০ ও গুলশান-২ এলাকা থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এই ১০টি স্থানের প্রতিটিতে দিনে-রাতে চার ঘণ্টা করে বায়ু ও শব্দের মান যন্ত্র দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে মোট ৫২০টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়।

প্রতিবেদন তুলে ধরে বলা হয়, ঢাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২.৫-এর উপস্থিতি আদর্শ মানের (১৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আর পিএম ১০ বস্তুকণার উপস্থিতি আদর্শ মানের চেয়ে দুই গুণ বেশি।

শাহবাগ এলাকায় বাতাসে পিএম-২.৫-এর উপস্থিতি প্রতি ঘনমিটারে ৮৫ মাইক্রোগ্রাম। পিএম-২.৫-এর উপস্থিতি সবচেয়ে কম জাতীয় সংসদ এলাকায়, যার পরিমাণ ৭০ মাইক্রোগ্রাম।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো, নির্মল বায়ু আইন ২০১৯ এর খসড়া চূড়ান্ত করা, পরিবেশ বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ দেওয়া, ২০০৬ সালের শব্দদূষণ নীতিমালা অনুযায়ী জনসাধারণকে সচেতন করা, শব্দদূষণ রোধে নিয়মিত মনিটর করা, বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন ক্যাপসের প্রতিষ্ঠিতা পরিচালক অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার। এছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, আগে নির্মাণকাজের জন্য ঢাকায় এত বায়ুদূষণ ছিল না। কিন্তু এখন তা বেশি। নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, একটা দেশের উন্নয়ন যদি করতে হয়, অর্থনৈতিক কাঠামো যদি এগিয়ে নিতে হয়, তাহলে তার প্রভাব পরিবেশের ওপর পড়বে। শব্দ-বায়ুদূষণ একটা মাত্রায় বাড়বে। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এসব এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here