ডেস্ক রিপোর্ট::  খুব ঘটা করে বাংলাদেশ থেকে গতবার দিল্লি ক্যাপিটালস উড়িয়ে নিয়েছিল মুস্তাফিজুর রহমানকে। মাঠের বাইরে, সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিজকে নিয়ে চর্চাও হয়েছিল বেশ। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটেই মুস্তাফিজ ছিলেন উপেক্ষিত। খুব একটা সুযোগ মেলেনি। মুস্তাফিজও যে খুব একটা নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছেন, এমনটাও না।

মুস্তাফিজের সমস্যাও সেবার ধরতে পেরেছিলেন দিল্লির মেন্টর সৌরভ গাঙ্গুলি। ফিজের বলে আলাদা ফিল্ডিং সাজানোর কথা বলেছিলেন প্রিন্স অব ক্যালকাটা। তবে, সে অনুযায়ী দিল্লি ম্যানেজমেন্ট সময় দেয়নি ফিজকে। অথচ সেই পেসারই এবার চেন্নাইয়ে আলো ছড়াচ্ছেন। সেটাও মহেন্দ্র সিং ধোনি বা রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের সংস্পর্শে এসে।

আইপিএলের চলতি আসরে ডেথ ওভারে (১৬ – ২০) এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন দ্য ফিজ। শেষের চার ওভারে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বাংলাদেশের এই পেসার। পেয়েছেন চার উইকেট। সমান উইকেট পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জেরাল্ড কোয়েটজি ও মোহিত শর্মা। তবে এদের দুজনের তুলনায় ইকোনমিতে অনেকটাই এগিয়ে ফিজ।

আসরে কমপক্ষে ৫ ওভার করেছেন এমন বোলারদের মধ্যে ইকোনমি রেটে মুস্তাফিজ দ্বিতীয়। শেষের চার ওভারে বল করেছেন মোটে ৮ ইকোনমিতে। তারচেয়ে ভাল ইকোনমি কেবল আভেশ খানের। ৭.৩৩ ইকোনমিতে বল করেছেন আভেশ।

সবমিলিয়ে ডেথ ওভারে ফিজ এবারের আসরে ৪৮ বল করে রান দিয়েছেন মোটে ৬৪। পেয়েছেন ৪ উইকেট। ইকোনমি রেট ৮ আর প্রতি ১৬ রানের বিনিময়ে পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

কিন্তু এই মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েই আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটাল ধরে রেখেছিল এনরিখ নরকিয়াকে। এবারের আইপিএলে যিনি সবচে খরুচে বোলারদের একজন। দিল্লির হয়ে এবারে ডেথ ওভারে ৩৬ বল করে রান দিয়েছেন ১২৪। ইকোনমি ২০ এর বেশি। হজম করেছেন ১০ ছক্কা আর ১২ চারের মার। উইকেট ৩টি পেলেও দিল্লির দুরাবস্থায় নরকিয়াকে দায় দিচ্ছেন অনেকেই।

দুই দলের মুখোমুখি দেখায় অবশ্য মুস্তাফিজ খরুচেই ছিলেন। তবে যে কলকাতার কাছে নাস্তানবুদ হয়েছে দিল্লি, সেই দলকেই গতকাল মুস্তাফিজ আটকে দিয়েছেন নিজের কার্যকরী বোলিং দিয়ে। কে জানে, দিল্লির ম্যানেজমেন্ট হয়ত নিজেদের দুরাবস্থায় আক্ষেপ করছে ফিজের এমন বোলিং দেখে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here