ব্রেকিং নিউজ

ট্রাম্প-বাইডেনের শেষ বিতর্কেও করোনা প্রসঙ্গ

বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক থেকে :: প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তৃতীয় বা শেষ দফা প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কেও প্রাধান্য পেয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৯টায় শুরু হয় এই বিতর্ক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনা মোকাবিলায় তার গৃহীত পদক্ষেপের উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এসব পদক্ষেপের ফলে রক্ষা করা গেছে অনেক জীবন। কিন্তু মাইক জ্বলে উঠার সঙ্গে সঙ্গে জো বাইডেন তা খন্ডন করলেন। ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করলেন। বললেন, তিনি করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিকে ছোট করে দেখেছেন। এর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। এ ছাড়া বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের ইউক্রেনে ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে দুই নেতা তীব্র বিতর্ক করেন।

বিতর্কে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেন বলেছেন, যার সময়কালে করোনাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে দুই লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে তাকে আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচিত করা উচিত হবে না। শেষ বিতর্কের শুরুতেই রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়ে এ মন্তব্য করেন বাইডেন।

এসময় করোনা সমস্যা নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ব্যর্থতার কঠোর সমালোচনা করে বাইডেন বলেন, যে মানুষটি এত বেশি বেশি মৃত্যুর জন্য দায়ী তার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে থাকা উচিত না। বিষয়টি নিয়ে তার বিস্তৃত কোনো পরিকল্পনাই নেই।
উল্লেখ্য, করোনা মহামারিতে পর্যুদস্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। এই ভাইরাসে দেশটিতে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৮৬ লাখ।

রিপাবলিকান দল থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও বিরোধী ডেমোক্রেট দল থেকে আগামী ৩রা নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জো বাইডেন। তাদের মধ্যে নির্বাচনের আগে মুখোমুখি আর কোনো বিতর্ক হবে না। প্রথম বিতর্কে তাদের মধ্যে অনভিপ্রেত ঘটনার অবতারণা হওয়ায় এবার নেয়া হয়েছিল ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা। প্রথম বিতর্কে জো বাইডেনের কথার মাঝে বার বার বিঘ্ন সৃষ্টি করছিলেন ট্রাম্প। এ জন্য তাকে মারাত্মক সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। দ্বিতীয় দফা বিতর্ক বাতিল হয়েছে। নিয়ম পাল্টে তৃতীয় দফা বিতর্ক হলো। এতে একজন প্রার্থী যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন অন্যজনের মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, যাতে তিনি বক্তব্যের মাঝে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারেন। এতে মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাংবাদিক ক্রিশ্চেন ওয়েলকার।

এদিন বিতর্কে উঠে আছে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ইস্যু। এ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি পরিবেশ ভালবাসেন। প্রত্যাশা করেন পরিষ্কার পানি ও বাতাস। তার ভাষায়, আমাদের আছে সবচেয়ে ভাল, সর্বনিম্ন কার্বন নির্গমন। কিন্তু চীন ও রাশিয়াকে এক্ষেত্রে ‘নোংরা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। জবাবে বাইডেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করতে নৈতিক বাধ্যবাধকতা আছে আমাদের। ট্রাম্পকে আরো চার বছর রাখা হলে দূষণ নির্মূল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সমস্যায় ফেলবে। বাইডেন দাবি করেন, তিনি জলবায়ু বিষয়ক যে পরিকল্পনা নিয়েছেন তাতে লাখ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা ৮ ডিসেম্বর

ডেস্ক নিউজ :: ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবস উপলক্ষ্যে আগামী ৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা থেকে ...