ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম কাজে লাগাতে হবে: জাহিদুল ইসলাম

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করেছে। মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও এনেছে আমূল পরিবর্তন। অতিদ্রুত মানুষ এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় পৌঁছাতে পারছে। উন্নত দেশ গুলোতে  রাস্তায় ট্রাফিক  জ্যাম বলে কিছু নেই। কিন্তু আমাদের দেশে ট্রাফিক জ্যাম যেন সকলেরই চিরচেনা। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে ট্রাফিক  জ্যামের কথা মাথায় নিয়ে বের হতে হয়।এতে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়।এটি মানুষের মস্তিষ্কের উপরও ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এই সমস্যার বিকল্প সমাধান নিয়ে ভেবেছেন মোঃ জাহিদুল ইসলাম। “Design of an Intelligent Transport System for Dhaka City” এর ব্যবহার, সুবিধা, অসুবিধা ও রক্ষনাবেক্ষন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ইউনাইটেড নিউজের সাথে কথা বলেছেন ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনির্ভাসিটির সিএসই বিভাগের প্রভাষক মোঃ জাহিদুল ইসলাম। কথোপকথোনে ছিলেন ইউনাইটেড নিউজের ডিআইইউ প্রতিনিধি মোঃ শাহীন
ইউনাইটেড নিউজঃ আসসালামু ওয়ালাইকুম। কেমন আছেন?
জাহিদুল ইসলামঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি কেমন আছেন?
ইউনাইটেড নিউজঃ আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আমরা জানতে পেরেছি, আপনি “The  Design of an Intelligent Transport System for Dhaka City” এই শিরোনামে একটি থিসিস করেছেন। এই সিস্টেম সম্পর্কে  কি বলবেন?
জাহিদুল ইসলামঃ দেখুন, বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঢাকা আসে। এই মানুষ গুলো প্রায়ই তাদের যাতায়াতের রুট সম্পর্কে জানে না। তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে কোন বাস ব্যবহার করতে হবে তা জানে না। তাই তাদের কথা চিন্তা করে আমরা এমন একটি পদ্ধতি নিয়ে এসেছি যা তাদের নিদিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। তাদের হয়রানির শিকার হতে হবে না। তারা কোন রুট, কোন বাস ব্যবহার করতে হবে, বাসের ভাড়া সবকিছু এখানে জানতে পারবে।
ইউনাইটেড নিউজঃ এই সিস্টেম ব্যবহারের সুবিধা কি কি?
জাহিদুল ইসলামঃ এই সিস্টেমের অনেক সুবিধা রয়েছে। যেমন– ধরুন, আমাদের দেশে কোন ভিআইপি আসবে, সব রাস্তা গুলো দীর্ঘ সময় ব্লক হয়ে থাকে। এতে মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এই ইনটেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম ব্যবহারে- ব্লক হয়ে যাওয়া রাস্তার পরিবর্তে স্বল্প দূরত্বের বিকল্প রাস্তার ব্যাবস্থা পেয়ে যাবে, যার কারণে মানুষের সময়ের অপচয় হবে না, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হবে না বা বাসের কন্ডাকটর ভাড়া বেশি নিতে পারবে না। অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। তাছাড়া যারা চাকুরী করেন তাদের নিয়মিত বাসে যাতায়াত করতে হয়। এই সিস্টেম ব্যবহার করে তারা দ্রুত অফিসে পৌঁছাতে পারবেন। এতে তারা সময়কে বেশি কাজে লাগাতে পারবেন।
ইউনাইটেড নিউজঃ এটি কি কোন অ্যাপ ভিত্তিক সেবা?
জাহিদুল ইসলামঃ জি। এটি একটি অ্যাপ ভিত্তিক সেবা। এ ধরনের সিস্টেম বাংলাদেশে এখনও কেউ নিয়ে আসতে পারেনি। অ্যাপেই সবকিছু জানা যাবে। ভাড়া, রুট, গন্তব্যে পৌছানোর সময় সবকিছুই জানা যায়। তাছাড়া কোন রাস্তায় জ্যামে আটকে গেলে এটি বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের নির্দেশনা দিবে। কোন রাস্তা ফ্রী তা অ্যাপ নির্দেশ করবে।
ইউনাইটেড নিউজঃ এই সিস্টেমে কোন অসুবিধা আছে কিনা?  তার সমাধান কি?
জাহিদুল ইসলামঃ এই সিস্টেমে তেমন বেশি অসুবিধা নেই।তবে এ্যানড্রয়েড মোবাইল ও অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে। আমরা অলরেডি অ্যাপও তৈরি করে ফেলেছি। এ্যানড্রয়েড মোবাইল ছাড়া ব্যবহার করা যায় না। তবে আমরা এটাকে আরও উন্নত করবো।
ইউনাইটেড নিউজঃ এটি ব্যবহারে আমাদের দেশ কি লাভবান হবে?
জাহিদুল ইসলামঃ এটি ব্যবহারে আমাদের দেশ যথেষ্ট লাভবান হবে। এই সিস্টেম ব্যবহারে মানুষের সময়ের অপচয় কমবে।  ফলে তারা বেশি কাজ করার সুযোগ পাবে এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং শুধু তাই না বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো যাবে। যেমন– বাংলাদেশে বর্তমানে বাসে নারীরা ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এই সিস্টেম ব্যবহার করে অতিসহজেই অপরাধীকে চিহ্নিত করা যাবে । ফলে ধর্ষণের মতো ঘটনা প্রতিরোধ সম্ভব হবে।
ইউনাইটেড নিউজঃ এই সিস্টেম কারা গ্রহণ করেছে?
জাহিদুল ইসলামঃ এই সিস্টেম বিআরটিএ  কে দেয়ার পরিকল্পনা আছে। তাদের সাথে এ বিষয়ে এখনও আলোচনা হয়নি। তবে আমরা ক্যানটেম নামক একটি কনফারেন্স সেন্টারে এটি সাবমিট করেছি। তারা এটি গ্রহণ করেছে।
ইউনাইটেড নিউজঃ এটার কি অনুমোদন হয়েছে?
জাহিদুল ইসলামঃ আমরা কনফারেন্সে অনুমোদন পেয়েছি। কোন সংস্থার অনুমোদন এখনও পাইনি। তবে বিআরটিএ কে দেয়ার প্রস্তাবনা চলছে।
ইউনাইটেড নিউজঃ এটি কি আর্টিকেল নাকি পরিকল্পনা প্রকল্প?
জাহিদুল ইসলামঃ এটা কোন পরিকল্পনা প্রকল্প নয়। এটি আমরা আর্টিকেল আকারে যাবতীয় রিসার্চ শেষ করেছি এবং রিসার্চের যাবতীয় পদ্ধতি তুলে ধরেছি।
ইউনাইটেড নিউজঃ এটা কত দিন পর অথরিটিকে দিবেন?
জাহিদুল ইসলামঃ যেহেতু কনফারেন্সে দিয়েছি। তারা এক মাস সময় দিয়েছে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য। এক দেড় মাসের মধ্যে আমরা কনফারেন্সে যাবো।
ইউনাইটেড নিউজঃ এই গবেষণায় আপনাকে কেউ সহায়তা করেছে?
জাহিদুল ইসলামঃ জি। আমাকে গবেষণায় সহায়তা করেছে আমার ছাত্র ৩৯তম ব্যাচের মোঃ মোস্তফা কামাল। যিনি গতবার এখান থেকে পাশ করে গেছেন। আমাকে আরও যিনি সহযোগিতা করেছেন তিনি হলেন ইইটিই বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক বাসেত আবদুল।
ইউনাইটেড নিউজঃ আমাদেরকে সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
জাহিদুল ইসলামঃ ইউনাইটেড নিউজকেও ধন্যবাদ।
Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

করোনাকালীন বাজেটে তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

ড. সায়মা হক বিদিশা :: বাংলাদেশ বর্তমানে জনমিতির একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে ...