মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন:: আমি মূলত ট্যাক্স নিয়ে নিয়মিত লিখে থাকি। ভ্যাট সম্পর্কে গভীর জ্ঞান নেই। তবে ট্যাক্সের সাথে ভ্যাটের একটা মৌলিক মিল থাকায় ট্যাক্সের কাজে বিভিন্ন জনকে পরামর্শ দিতে গেলে প্রসঙ্গক্রমে ভ্যাটের বিষয়টি সামনে চলে আসে। কখনও গুরুত্ব দেই, আবার কখনও তেমন গায়ে লাগাই না। সম্প্রতি একজন বন্ধু খুব অনুরোধ করলেন তার একটি ফার্মের ভ্যাটের কাজে সহযোগিতা করার জন্য। তাঁর ভ্যাট পরিশোধের ইতিবাচক মানসিকতা দেখে আমি সত্যিই অবাক হলাম! কারণ লোকে বলে ব্যবসায়ীরা ভ্যাট পরিশোধ করতে চায় না। কিন্তু তিনি যেভাবে আগ্রহী, তাতে আমি নিজের শোনা তথ্যকে ভুল মনে হলো। একটু গভীরে গেলাম, বন্ধুটির মত এরকম বহু ব্যবসায়ী ঠিকমত ভ্যাট পরিশোধ করতে চায়। তাহলে সমস্যা কোথায়? আরো একটু গভীরে যাই। ভ্যাটের চলমান আইন-কানুন ও পদ্ধতি দেখে আমি নিজে ও রীতিমত আতংকিত হওয়ার অবস্থা।

পাঠক একটু চলুন দেখি আইনে ভ্যাট সম্পর্কে কি আছে? আমাদের দেশে ভ্যাট আইন চালু হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তখন ব্যবসা বাণিজ্য গতি মাত্র শুরু হয়েছিল, তবে এখনকার মত নয়। ভ্যাট পরিশোধ করার আইন থাকলে ও ভ্যাটে অভ্যস্ত করার চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক। কালের পরিক্রমায় এখন ভ্যাট সম্পর্কে ধারণা অনেক! আমাদের দেশে ভ্যাট সম্পর্কিত আইনটির নামই হচ্ছে-মূল্য সংযোজন আইন-১৯৯১, বর্তমানে মূল্য সংযোজন ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২। আইন দু’টোতে সরাসরি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এর সংজ্ঞা খোঁজ করলাম- পেলাম না। তবে কর বা মূল্য সংযোজন সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। যার সারমর্ম হলো এই -মূসক হলো স্বনির্ধারণী পরোক্ষ কর। সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবার ওপর প্রদেয় করের বিপরীতে উপকরণ কর সমন্বয় করে পণ্য বা সেবার মূল্যস্তরের প্রকৃত সেবা স্তরের মূল্য সংযোজনের ওপর আরোপিত করই হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর বা মূসক। [এখানে সংযোজনের কথা পাঠকগণ মনে রাখবেন]

ভ্যাট নির্ধারণ বিষয়ে এনবিআর এর দেয়া ব্যাখ্যাটি এরূপ: ধরা যাক কোন একটি পণ্য ১,০০০ টাকা ক্রয় করে ১,৫০০ টাকায় বিক্রি করলে ঐ পণ্যটির ক্রয়ে ১,০০০ টাকায় ১৩০.৪৩ টাকা ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত ছিল (১,০০০ * ১১৫*১০০)। আবার ১৫০০ টাকায় বিক্রি করায় মূসক দাঁড়ায় ১৯৫.৬৫ টাকা-(১৫০০*১৫/১১৫)। পণ্যটি ১৫০০ টাকা বিক্রি করায় এখানে মূল্য সংযোজন করা হয়েছে ৫০০ টাকা। পণ্যটি ক্রয়কালে ভ্যাট/মূসক পরিশোধ করা হয়েছিল। তাই প্রকৃত সংযোজন হবে ৫০০ টাকা এবং বিক্রেতা ক্রয়স্তরের মূসক ফেরত নিয়ে বিক্রয়স্তরের প্রকৃত সংযোজনের উপর অর্থাৎ ৫০০ টাকার উপর মূসক পরিশোধ করবেন।

অর্থাৎ ১৫০০ টাকার উপর পরিশোধযোগ্য মূসক ১৯৫.৯৬ টাক থেকে ১০০০ টাকার উপর পরিশোধিত ১৩০.৪৩ টাকা বাদ দিয়ে পরিশোধযোগ্য মূসক হবে ৬৫.৬২ টাকা (৫০০ * ১৫*১১৫)(সূত্র: https://nbr.gov.bd/faq/vat-faq/ban)
উপরের উদাহরণটি ব্যাখ্যা করলে দেখা যাবে (১০০০-১৩০.৪৩)=৮৬৯.৫৭ টাকা পণ্যে সর্বশেষ ক্রেতা/ভোক্তাকে ভ্যাট দিতে হলো (১৩০.৪৩+১৯৫.৯৬) টাকা=৩২৬.০৮৭ টাকা। বিক্রেতা লাভ করলেন =(১৫০০-৮৬৯.৫৭-৬৫.৬২)=৫৬৫.২১২ টাকা যা বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীর ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্যের ৬৫% লাভ করলেন। এটা একটা উদাহরণ। প্রকৃত পক্ষে অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তাদের ক্রয়কৃত পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য প্রকাশ না করেই ইচ্ছাকৃত লাভ ধরে বাজারে পণ্য বিক্রি করে থাকেন। ফলে ভোক্তাকে অতিরিক্ত ভ্যাটের বোঝা বহন করতে হচ্ছে। বিপণনযোগ্য খাদ্যশস্য, জীবন রক্ষাকারী বিভিন্ন মেডিক্যাল সামগ্রী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সহায়ক যন্ত্র ইত্যাদি ভ্যাটের অন্যায্যতা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না।

এনবিআর কর্তৃক দেয়া এব্যাখ্যাকে আরো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় একজন ব্যবসায়ী শুধুমাত্র ভ্যাট আদায়কারী। সকল স্তরে যুক্ত হওয়া ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে সর্বশেষ ভোক্তাকে। পণ্যটি যত বার হাত বদল হবে ততবারই ভ্যাট যোগ হবে এবং ব্যবসায়ীগণ তাদের পূর্বে পরিশোধিত ভ্যাট সমন্বয় করার সুযোগ পাবেন। কিন্তু শেষ ভোক্তাকে সকল স্তরে যোগ হওয়া ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। আমাদের অকিাংশ ব্যবসায়ী তাঁর ক্রয়মূল্য প্রকাশ করতে আগ্রহী নয়। আবার কত টাকা লাভ করবেন তা মনিটরিং করা যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাকেই ভ্যাটের উপর ভ্যাট দিতে হচ্ছে। শুধু তা নয়-ভ্যাটের উপর ভ্যাট যোগ হতে থাকে। অনেকটা সুদের চক্রবৃদ্ধির মত। এটা বড় অন্যায্যতা! এ দিকটা গভীরভাবে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

কিন্তু যদি ব্যবসায়কে নির্দিষ্টভাবে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা যেত তাহলে লাভবান হতেন উভয়পক্ষ। অযাচিতভাবে ভ্যাটের পরিমাণ বৃদ্ধি হতো না, যার ফলে সকল স্তরের ভোক্তা পণ্যের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পেতেন। অন্য দিকে ব্যবসায়ীদের আয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে তারা সরকার পরিচালনায় ট্যাক্স পরিশোধ করে কি পরিমাণ অবদান রাখছেন তা স্পষ্টভাবে দেখা যেত, যা তাঁরা দাবী করতে পারতেন। উল্টো এখন ব্যবসায়ীরা অভিযোগের শিকার হন, তারা জনগণ থেকে ভ্যাট আদায় করেন, কিন্তু সরকারকে দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে ব্যবসায়ী যেহেতু পণ্যের প্রকৃত ক্রয়মূল্য গোপন রাখেন সেহেতু পুরো বিক্রয়মূল্যের উপর ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়, যার ভার পড়ে শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ ক্রেতার ওপর বা ভোক্তার ওপর। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির এটাও একটা বড় কারণ। ভ্যাট আইনেও এমনটা সমর্থন করেন। যা সরাসরি অন্যায্য। ভ্যাট আদায়ে বা পরিশোধে এ যে অন্যায্যতা বিরাজমান এটা অনেকে জানেন, কিন্তু মুখ খুলছেন না কেউ-ই।

ভ্যাটের গড়মিল আদায় খোদ একটা কেক উৎপাদনকারী সুমিস নামনীয় একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ৭ কোটি ১৩ লাখ ১৪৩ টাকা যার উপর সুদ আসে ৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। ঐ প্রতিষ্ঠানের মালিক বলছেন এনবিআর এর লোকজন কারাখানা পরিদর্শন করে ৫% ভ্যাট নির্ধারণ করেছেন। এখন ভ্যাট গোয়েন্দা এসে বলে ১৫% ভ্যাট দেয়া প্রয়োজন। সূত্র দৈনিক প্রথম আলো অনলাইন-২৬ জুন ২০২১।

প্রশ্ন হলো ক্রিম যুক্ত কেক যা শিশুদের প্রিয় খাদ্য, সেখানেও ১৫% ভ্যাট বা ৫% ভ্যাট আছে। কিন্তু ক্রেতাদের কোন অবস্থায় পরিষ্কার করা হচ্ছে না, কেকের দামের মধ্যে কত % ভ্যাট প্রকৃত পক্ষে দোকানী আদায় করছেন। এটাও ভ্যাট আদায়ে অন্যায্যাতা-যার অবসান হওয়া দরকার।
ভ্যাটের এ অন্যায্যতা শুধু ম্যানুয়াল ব্যবসায় ক্ষেত্রেই বিরাজমান তা নয়। একইভাবে আমরা দেখি অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রেও। যেমন: বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রচলিত ম্যানুয়াল ব্যবসা ও অনলাইন শপ/ ই-কমার্স এর ক্ষেত্রে ভ্যাট এর অন্যায্যতার একটি তুলনামূলক চিত্র:
অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা: বার্ষিক টার্নওভার যাই হোক না কেন ধারা ৬ অনুযায়ী নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আছে। (সুত্রঃ সাধারণ আদেশ নং ১৭/মূসক/২০১৯)

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে : বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত নিবন্ধনের প্রয়োজন নাই। বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত তালিকা ভুক্তিরও প্রয়োজন নাই। বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত হলে টার্নওভার করদাতা হিসেবে তালিকা ভুক্তির বাধ্যবাধকতা আছে।
অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে সেলস কমিশনের উপর ৫% ভ্যাট পরিশোধযোগ্য সুত্রঃ ব্যাখ্যা পত্র ০২/মূসক/২০১৯ এবং মূসক আইন ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২ এর তৃতীয় তফসিল।

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট ০%। বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লক্ষ টাকা থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত হলে ভ্যাট হার হবে ৪%। কিন্তু এখানে বিক্রেতা কত টাকা লাভ করলেন তার কোন তথ্য মনিটরিং ব্যবস্থা নাই। যার ফলে ভোক্তা থেকে বিভিন্ন হারে হারে ভ্যাট আদায় করলে ও সরকার পাচ্ছে মাত্র ৪%।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে বিক্রয়কৃত পণ্যের ক্রয় মূল্যের উপর ভ্যাট: পণ্য ক্রয় পর্যায়ে ক্রয় মূল্যের উপর ভ্যাট পরিশোধ থাকার বাধ্যবাধকতা আছে। সুত্রঃ ১৮৬- আইন/২০১৯/৪৩-মূসক, ব্যাখ্যা পত্র ০২/মূসক/২০১৯ এবং এস আর ও নং ২৩৪-আইন/২০১৯/৭০ মূসক সেবা কোড ঝ০৯৯.৬০। ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য নয়।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তন: পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট/ভেন্ডরকে তার পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা থাকায় মার্চেন্টরা ৩% – ৭% অতিরিক্ত দাম দাবি করে। ফলে পণ্যের দাম বেড়ে যায় (সূত্র আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২ এর উপধারা (২) এর আইটেম ১৫ এবং বিধি ১৬)।

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট/ভেন্ডর কে পাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় মার্চেন্ট/ ভেন্ডরগন ৩% – ৭% কম দামে পণ্য সরবরাহ করে। ফলে পণ্যের দাম কম থাকে।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে শিপিং চার্জ/পার্সেল ডেলিভারি চার্জ (আয়): ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলি পণ্যের দামের পাশাপাশি পণ্য কাস্টমারের কাছে পৌছানো খরচও (কুরিয়ার সার্ভিস চার্জ ) ইনভয়েসে যোগ করে থাকে। পার্সেল পৌছানো এই সেবাটি এস আর ও নং- ১৮৬- আইন/২০১৯/৪৩- মূসক অনুযায়ী সেবার কোড ঝ০২৮.০০ কুরিয়ার ও এক্সপ্রেস মেইল সার্ভিস এর অন্তর্ভুক্ত। এই সেবা মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য। যার কারণে অনলাইন পণ্য ক্রয় করে অতিরিক্ত ভ্যাট দিতে হচ্ছে ভোক্তাকে।

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে কাস্টমার দোকানে এসে পণ্য নিজেই নিয়ে যায় বিধায় প্রযোজ্য নয়।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট খরচের ভ্যাট/উৎসে আয়কর কর্তন: ক্লাউড সার্ভিসের উপর প্রযোজ্য মূসক ৫%। সুত্রঃ এস আর ও নং- ১৪৯-আইন/২০২০/১১০-মূসক, সার্ভিস কোড ঝ ০৯৯.১০। আয়কর ২০% বিদেশি কোম্পানি থেকে পণ্য বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে । সূত্র-আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫৬।

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে উৎসে কর্তনকারি সত্তা না হলে তা হওয়ায় প্রযোজ্য নয়।
অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর ভ্যাট ১৫%। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর নথি নং- ০৮.০১.০০০০.০৬৮.০৯.০০৩.১২/৩২, দেশি/বিদেশি এবং পণ্য /সেবা ভেদে উৎসে আয়কর হার ০.৬৫% থেকে ২০% পর্যন্ত। সূত্র: আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২ এএ এবং ধারা ৫৬।
ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে যে সকল সেবা বা পণ্য ক্রয়ের উপর ভ্যাট প্রযোজ্য সে সকল পণ্য বা সেবা ক্রয়ের উপর উৎসে মূসক কর্তনে বাধ্যবাধকতা আছে । এস আর ও নং- ১৪৯-আইন/২০২০/১১০-মূসক। একইরকম ভাবে উৎসে আয়কর কর্তনে ও পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আছে।
রেফারেন্স: আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২ থেকে ধারা ৫৬ এবং বিধি -১৬।
ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা নাই।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে কালেকশন এর জন্য এম এফ এস/ পেমেন্ট গ্যাটওয়ে এর উপর অনেক বেশী নির্ভরশীলতা থাকায় আর্থিক ব্যয় বাড়ে এবং এই খরচের উপর ১৫% ভ্যাট পরিশোধযোগ্য। সাধারণ আদেশ নং -০৩/মূসক/২০২০ ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে সরাসরি ক্যাশ টাকা গ্রহণ করায় এই খরচ নাই।

অনলাইনে/ই-কমার্সের ক্ষেত্রে ফুড ডেলিভারী সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আছে। বর্তমানে ফুড ডেলিভারী সেবার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। যা শুধুমাত্র অনলাইন ও এ্যাপভিত্তিক সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

ম্যানুয়্যাল ব্যবসার ক্ষেত্রে সরাসরি হোটেল বা রেস্তোরা থেকে অফলাইন ডেলিভারী হলে এই ভ্যাট প্রযোজ্য হয়না। বর্তমান করোনা মহারীতে ব্যবসা বাণিজ্য চলমান রেখে আর্থিক প্রবাহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে ই-কর্মাস বা অনলাইন ব্যবসার গুরুত্ব অনেক। কিন্তু ভ্যাটের অন্যায্যতার ফলে যেন এ সেবাখাতটি ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে নজর রাখা জরুরী।

যে কোন দেশের সরকারের সকল অঙ্গ প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত পরিচালনার জন্য দেশের নাগরিকদের দেয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের উপর নির্ভর করতে হয়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভুল নীতি বা আইনের ভুলের কারণে যেন জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় বা অতিরিক্ত ট্যাক্সের ভার বহন করতে না হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। নতুবা সমাজে অন্যায় বাড়বে, রাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পাবে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারের ভ্যাটের দোহাই দিয়ে অর্থনৈতিক অসমতা তৈরি করবে। ফলে একটা বৈষ্যমের অর্থনীতি তৈরি হবে। এক শ্রেণীর লোক ব্যাপক ধনী হবে। অধিকাংশ নাগরিক তাদের ক্রয় ক্ষমতা হারাবে। যে কোন সরকারের পক্ষে তা সামাল দেয়া কঠিন হবে। আমরা এখন মধ্যম উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। তাই ভ্যাট আদায়ে ন্যায্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

লেখক: আয়কর আইনজীবী, ঢাকা।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here