টেকসই ই-ট্যুরিজম

 

মোখলেছুর রহমান

মোখলেছুর রহমান :: শিল্পযুগ পেরিয়ে আমরা ভিন্নতর এক তথ্যযুগে প্রবেশ করেছি। বলা হচ্ছে, অর্থের চেয়েও তথ্যের শক্তি বেশি এবং তথ্য ব্যবসার প্রধান চালিকা শক্তি। পর্যটনে এর শক্তিশালী প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়। গত ৩ দশকে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সর্বত্রই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। তাই তথ্য প্রযুক্তি আমাদের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় বিশেষত পর্যটনে অনেক বড় স্থান দখল করে আছে। ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ইন্টারনেট পদ্ধতি ও উদ্ভাবিত সফটওয়ারের মাধ্যমে পর্যটন প্রতিষ্ঠানের সাথে পর্যটকদের যোগাযোগের নিবিড়তা পর্যটন ব্যবসায়ে সময় সাশ্রয় ও ব্যয় হ্রাস করেছে। ফলে ব্যবসায়ের পরিমাণ বেড়েছে এবং প্রশাসনিক ব্যয় হ্রাসের জন্য সেবামূল্য খানিকটা কমেছে। আবার বর্তমানে অনাকাঙ্খিত করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কার্যকর প্রয়োগ পর্যটন ব্যবসায় সম্প্রসারণে বিশেষ অত্যাবশ্যকীয়। পর্যটন খাতের পেশাগত অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও সফলতা অর্জনে ই-ট্যুরিজম খুবই প্রায়োগিক। যোগাযোগ, ব্যবসায়, সেবা ও অনলাইন ইত্যাদির প্রেক্ষিতে ট্যুরিজম ইলেকট্রনিক ডিভাইস দ্বারা প্রভাবান্বিত হওয়ায় লেনদেন বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষত ইলেট্রনিক মাধ্যমে দ্রæত তথ্য আদান প্রদান এবং কম খরচে পর্যটন ব্যবসায়ের লেনদেন সম্প্রতিকালের একটি সাধারণ ঘটনা।

যেহেতু আগামী দিনের পর্যটন শিল্প ব্যাপক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, তাই তাকে প্রযুক্তি দিয়েই মোকাবেলা করতে হবে। ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং কৃত্রিম বৃদ্ধিমত্তারসহ বহুবিধ প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটাতে হবে আগামী দিনের পর্যটনে। নতুন ব্যবস্থাপনা কৌশল দিয়ে সেবা উদ্ভাবন করতে হবে মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য। বিশ^ পর্যটনের অন্যতম কারিগরি অংশীদার ফাস্ট ফিউচার এবং এমাডিউস্ এক গবেষণায় বলছে, ৯২% মানুষ মনে করে যে আগামী দিনের হোটেলগুলিকে প্রত্যেক গ্রাহককে তার ব্যক্তিগত চাহিদা পূরণ করে সেবা প্রদান করতে হবে। তারা আরো বলছে যে, প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে অতিথিদেরকে দ্রæত সাড়া দেওয়ার ও সন্তুষ্ট করার সক্ষমতা সৃষ্টির জন্য সার্ভিস রোবট যুক্ত করতে হতে পারে। এতদোদ্দেশ্যে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে সেখান থেকে তার চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। এই সকল তথ্য থেকে গ্রাহকের ব্যক্তিগত পছন্দ, অপছন্দ, আচরণের ধরণ ইত্যাদি আগাম জেনে তাকে সেবা দানের প্রস্তুতি নিতে হবে।

ই-কমার্স ও ই-ট্যুরিজম:
ই-কমার্স বলতে সাধারণত ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রয়-বিক্রয়কে বুঝায়। যদিও কেউ কেউ ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে ইলেকট্রনিক পেমেন্টকেও যুক্ত করেন। যাই হোক, ই-কমার্স মূলত ক্রয়, বিক্রয় ও মূল্য পরিশোধ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অথচ ই-ট্যুরিজমের কর্মএলাকা অনেক বিস্তৃত। ই-ট্যুরিজম অনেকগুলি কাজের সংমিশ্রণে অর্থাৎ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল কনটেন্ট ডেলিভারি, বাণিজ্যিক নিলাম, অনলাইন সোর্সিং, গণক্রয়, কনজ্যুমার মার্কেটিং, ইলেকট্রনিক ট্রেডিং, ইলেকট্রনিক বিলিং এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার ইত্যাদির যোগফল। এ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ই-কমার্স ই-ট্যুরিজমের একটি অংশমাত্র। ই-ট্যুরিজমের প্রধান প্রধান কার্যক্রম নিচে উল্লেখ করা হলো-

ক. তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ, ডিজাইন, বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের সমস্যা সমাধান ই-ট্যুরিজমের প্রধান কাজ। অধিকন্তু ই-ট্যুরিজম বাজার অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ, গ্রাহক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক অবদান নিরূপণে সহযোগিতা করে।
খ. পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলিকে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাদের প্রডাক্ট বিতরণের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনার পথ সুগম করে।
গ. ই-ট্যুরিজম ভ্রমণ, আতিথেয়তা ও ক্যাটারিংয়ে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে ভ্যালু চেইনের প্রয়োগ সহজ করে।

ই-ট্যুরিজমে ব্যবহৃত প্রযুক্তি:
গত একযুগে এয়ারলাইন্স বিজার্ভেশন ও হোটেলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগতকৃত চাহিদার (Personalized Services) প্রেক্ষিতে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে। নিচে এসবের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো।

ক. এয়ারলাইন্স রিজার্ভেশন
ট্রাভেল এজেন্সিগুলির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব বিমানের টিকেট ইস্যু করা। তাই টিকেট রিজার্ভেশন সম্বন্ধে তাদের সবচেয়ে বেশি পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা থাকতে হয়। নিচের ২ ধরণের রিজার্ভেশন সিস্টেম ব্যবহার করে তারা বিমানের টিকেট ইস্যু করে:

ক) এয়ারলাইন রিজার্ভেশন সিস্টেম (ARS): Arco, Alpha3, Corda – এই সিস্টেমগুলি সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের নিজস্ব।
খ) সেন্ট্রাল রিজার্ভেশন সিস্টেম (CRS): Amadeus, Galileo, Worldspan – এই সিস্টেমগুলির উপর এয়ারলাইন্স নির্ভরশীল।

– টিকেটিং: টিকেটিংয়ের জন্য ট্রাভেল এজেন্ট প্রথমে ARS-এর সাথে যোগাযোগ করে এবং এয়ারলাইনের নিজস্ব তথ্য ভান্ডার থেকে ফøাইটের সময়, ভাড়া ইত্যাদি জেনে নেয়। অতপর ফøাইটের সময় ও ভাড়া নিয়ে ভ্রমণকারীর সাথে আলোচনা হয়। ভ্রমণকারী মত দিলে উক্ত ট্রাভেল এজেন্ট CRS-এ গিয়ে রিজার্ভেশন সম্পন্ন করে এবং টিকেট ক্রয় করে। অতপর ভ্রমণকারীরা এজেন্টের কাছ থেকে টিকেট বুঝে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করেন। তবে প্রথমে ARS-এর সাথে যোগাযোগ করে প্রাপ্ত ফøাইটের সময় ও ভাড়া ভ্রমণকারীর পছন্দ না হলে ট্রাভেল এজেন্ট অন্য কোন ARS-এর সাথে যোগাযোগ করে। এভাবে ক্রেতার পছন্দ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভিন্ন ভিন্ন ARS-এর সাথে যোগাযোগ করতে হয়।

– ই-টিকেটিং: ট্রাভেল এজেন্ট CRS-এ গিয়ে রিজার্ভেশন সম্পন্ন করলে যে ইলেক্ট্রনিক টিকেট অটোমেটিক্যালি উৎপন্ন হয়, তাকে ই-টিকেট বলে। প্রত্যেকটি টিকেটের গায়ে ই-টিকেট নম্বর ছাপানো থাকে। এই ধরণের টিকেটের সুবিধা হল টিকেটটি ইমেইলের মাধ্যমে ভ্রমণকারীর কাছে পাঠানো যায়। ভ্রমণকারী বিমানের বোর্ডিং গ্রহণকালে নিজ মোবাইলে করে কাউন্টারে শুধু PNR (Passenger Name Record) দেখালেই চলে। বোর্ডিংয়ের সময় সংশ্লিষ্ট বিমান কর্তৃপক্ষ ঈজঝ থেকে রিজার্ভেশনের পুরো তথ্য বের করে ফেলতে পারে। তথ্য প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের জন্য ট্রাভেল এজেন্ট ও যাত্রী উভয়েরই যথেষ্ট সুবিধা হয়েছে।

খ. আগামী দিনের হোটেল:
পর্যটন প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, THOFU-Technology for Hotels of the Future হবে আগামী দিনের অন্যতম হোটেল প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির হোটেলগুলি ঠিক কেমন হবে তা এক্ষুণি নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে ইন্টারনেট অব থিংস্ (Internet of Things-IOT), Block Chain, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স এবং ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি – এই ৪ ধরণের প্রযুক্তির সমন্বয়ে সেবাশিল্প আগামী দিনে ব্যক্তিগতকৃত সেবাকে (Personalized Services) নিশ্চিত করবে। এসব ছাড়াও অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প বা অন্য কোন দূর্ঘটনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তার জন্য তৈরি হবে বুদ্ধিমান হোটেল ভবন।

– ইন্টারনেট অব থিংস্ (Internet of Things-IOT)
ইন্টারনেট অব থিংস্ এমন এক প্রযুক্তি যার মাধ্যমে হোটেলের সকল অসম পদ্ধতি বা যন্ত্রপাতিকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযুক্ত করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই প্রযুক্তি হোটেল শিল্পে অত্যন্ত দ্রæততার সাথে স্থান করে নিচ্ছে। হিলটন এবং মেরিয়ট চেইন হোটেল সর্বপ্রথম এই প্রযুক্তির ব্যরহার করে লাইটিং, টিভি এবং অন্যান্য কিছু ডিভাইস্ নিয়ন্ত্রণ করছে। ধীরে ধীরে তারা এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে হোটেলে সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করার জন্য চেষ্টা করছে।

– বøকচেইন (Block Chain)
এই প্রযুক্তিতে রেকর্ডের অবিরাম তালিকা তৈরি হওয়াকে বøক বলে। ক্রিপটোগ্রাফির মাধ্যমে সমস্ত বøকগুলি একে অন্যের সাথে সংযুক্ত হয়ে নিজেদেরকে নিরাপদ করে। ফলে একটি বøক নষ্ট হলে তার ডাটা নষ্ট হয় না, বরং অন্য বøকগুলি সতর্ক হয়ে যায়। কোন হ্যাকার ডাটা হ্যাক করতে চাইলে বøকগুলি নিজ থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলে। হোটেল শিল্পে বøকচেইন প্রযুক্তি বিশাল ডাটাবেসকে সহজ ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে তা থেকে সহজে, দ্রæত ও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। অতিথিরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে হোটেলের ডাটাবেস থেকে যে কোন তথ্য সহজে সংগ্রহ করতে পারবেন। বøকচেইনকে বিকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কও বলে।

– কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিক্স
একটি মেশিনকে বুদ্ধিমত্তা দান করলে উক্ত মেশিন তা প্রয়োগ করে সহজেই বড় ও জটিল কাজ সম্পাদন করতে পারে। যন্ত্র কর্তৃক অর্জিত বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে কাজ করার এই সক্ষমতাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে। অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হল মেশিনকে দেওয়া বৃদ্ধিমত্তা, যার মাধ্যমে মেশিন নিজেই তা প্রয়োগ করে মানুষের মতো সমস্যা সমাধান করতে পারে। পর্যটন প্রযুক্তিবিদরা আগামী দিনের হোটেলগুলিতে অতিথিদের চাহিদামত দ্রæত সেবাদানের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহারের চিন্তা করছেন। ইতোমধ্যেই অনেক দেশে হিলটন ও রেডিসন বøু হোটেল দ্রæত ও নির্ভুলভাবে তাদের কনসিয়ার্জ (Concierge) সার্ভিস দেওয়ার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালু করেছে। কোন কোন হোটেল চেক-ইন ডেস্কে Connie নামক রোবট বসিয়েছে। অতিথিরা কনির নিকট থেকে হোটেল এবং সাইট সিয়িং সম্বন্ধে যে কোন প্রশ্ন করলে সে সঠিক উত্তর দিতে পারে। আমেরিকার লস্ ভেগাসের Wynn হোটেলে Amazon Echo নামক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি ব্যক্তিগত সহকারী কাজ করছে। সে কনির মত হোটেলের অতিথিদেরকে ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য এবং ভ্রমণ পরামর্শ দেয়।

– ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি
ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি একটি খেলার সামগ্রীর মত মনে হলেও হোটেল শিল্পে আগামী দিনে এর ব্যবহার হবে অত্যন্ত ব্যাপক। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একজন অতিথি হোটেল বুকিংয়ের পূর্বে হোটেলের অবস্থান, ভবন, রুম, লবি, এবং সেবার ধরণ সম্বন্ধে দেখে নিতে পারবেন। মেরিয়ট চেইন হোটেল ইতোমধ্যে তাদের নিউইয়র্ক ও লন্ডনে পরীক্ষামূলকভাবে ভার্চুয়্যাল রিয়েলিটি প্রযুক্তি চালু করেছে।

বাংলাদেশে ই-ট্যুরিজমের একটি কল্পচিত্র:
পর্যটনের সেবার মান ধরে রেখে প্রতিযোগতামূলক বাজারে টিকে থাকা, পণ্যের প্রসার ঘটানো, গ্রাহকদের চাহিদা পূরণের জন্য নিত্যদিন নতুন প্রডাক্ট তৈরি করা, হ্রাসকৃত মূল্যে বর্ধিত সেবাদানের সক্ষমতা ইত্যাদি নানাবিধ জটিলতা নিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশের পর্যটনকে টিকে থাকতে হলে দরকার এমন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ই-ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার। যেখানে ক্রেতা (পর্যটন), সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারী সকলেই মুক্তভাবে উপস্থিত হয়ে তাদের চাহিদাপূরণের চেষ্টা করতে পারেন। এইজাতীয় একটি প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য বায়োমিমিক্রি ব্যবহারের কোন বিকল্প নাই। নিচে এর একটি কল্পচিত্রভিত্তিক সমাধানের বিষয় উপস্থাপন করা হলো।

ক. ল্যাটিন শব্দ TORNARE যার অর্থ ভ্রমণ। এই নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর একটি সামাজিক-বাণিজ্যিক ওপেন মার্কেট ট্যুরিজম প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যেতে পারে। প্ল্যাটফর্মটি একটি খেলার মাঠের মতো খোলা। এখানে পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সকল স্টেকহোল্ডার বিক্রেতারা নিজেদের মতো করে পণ্য ও সেবার তথ্য উপস্থাপন করবেন। অন্যদিকে তথ্য সংগ্রহকারী ও ক্রেতারা উপস্থিত হয়ে এই মার্কেটপ্লেস থেকে নিজেদের পণ্য ও সেবা ক্রয় করবেন, যেভাবে বাজার থেকে ক্রয় করেন।
খ. এই প্ল্যাটফর্মে সরবরাহকারী, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্ট, ট্যুরিস্ট গাইড, কার রেন্টাল, স্যুভেনির প্রস্তুতকারী ইত্যাদি তাদের প্রডাক্ট নিয়ে ২৪ ঘন্টা হাজির থাকবেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট পর্যটনের সকল সম্পদের তথ্যভান্ডার উপস্থাপন করবে। সম্ভাব্য পর্যটক, ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকগণ তাদের চাহিদা পূরণের জন্য পণ্য ও সেবার অনুসন্ধান করবেন। কেউ পর্যটন বিষয়ক তথ্য জানবেন, কেউ ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ হবেন, আবার কেউবা ক্রয় করবেন। কোন কোন পর্যটক এই ওপেন প্ল্যাটফর্মে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন ছবি বা লেখা দিয়ে। তবে অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় পরিহার করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রত্যেকটি বিষয় পরীক্ষা করে তথ্য গ্রহণ করবে।
গ. এই প্ল্যাটফর্ম ক্রেতা-বিক্রেতাদেরকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি Big Data দিয়ে পর্যটন ব্যবসায়ীদেরকে ব্যবসায় পরিকল্পনা গ্রহণে ও নীতি নির্ধারকদেরকে নতুন নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা করবে।
ঘ. নতুন নতুন প্রডাক্ট লাইন তৈরিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে অনুপ্রাণিত করবে।
ঙ. বাংলাদেশে পর্যটনের অবদান নির্ণয় এবং এর সম্প্রসারণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণে পথ দেখাবে।

উল্লেখ্য যে, এমন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারলে করোনাকালে অর্থাৎ আগামী ৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের পর্যটন এক ভিন্ন উচ্চতায় স্থাপিত হবে। আধুনিক রীতিতে প্রমিত সেবাদানের পথ সহজ হবে এবং দেশি ও বিদেশি পর্যটনকরা সহজে তাদের সেবা ক্রয় করে অনায়াসে পাবেন তাদের কাঙ্খিত সেবা।

সারকথা:
সবশেষে বলতে চাই যে, আগামীর পর্যটনকে অধ্যয়ন করে সে মতো মেধাবী তরুণদেরকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা অত্যাবশ্যক। প্রবীণের অভিজ্ঞতার সাথে নবীণের কারিগরি জ্ঞানকে যুক্ত করে চাহিদামতো পর্যটন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নাই। এই মূলমন্ত্রকে কাজে লাগানোর উদ্দেশ্যে আমাদের বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত ও সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে ই-ট্যুরিজমের সার্বিক অগ্রগতিকে নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ এখন বহমাত্রিক সংকটে নিমজ্জিত। এর উত্তরণের জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে একযোগে এগিয়ে এসে আমাদের পর্যটনকে রক্ষা করতে হবে। না হলে আগামী দিনের পর্যটন বিশ^ প্রতিযোগিতায় কোনভাবেই টিকে থাকতে পারবে না। তাতে করে দেশের অগ্রগতিতে স্থবিরতা আসবে।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

৬ মাসে বিরাটের সঙ্গে মাত্র ২১ দিন কাটিয়েছি: আনুশকা শর্মা

ডেস্ক নিউজ :: ভারতীয় ক্রিকেট ও বলিউডে বরাবরের মতোই আলোচনায় বিরাট ও ...

0Shares