বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক থেকে :: আজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে থ্যাঙ্কস গিভিং ডে। ধনী-গরীব সকলেই মেতে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী টার্কি ভোজে। পারিবারিকভাবে প্রতিটি ঘরেই চলছে টার্কির মধ্যাহ্নভোজ আর নৈশ্যভোজ।
ন্যাশনাল টার্কি ফেডারেশনের মতে প্রতি বছর আমেরিকানরা ৮৭ মিলিয়ন টার্কি খেয়ে থাকেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র থ্যাঙ্কস গিভিং ডে টার্কি খাওয়া হয় ৪৬ মিনিয়ন। বড়দিনে বা খ্রিষ্টমাসে ২২ মিলিয়ন এবং ইস্টার সানডে’তে ১৯ মলিয়ন।
গত দু’সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০ মিলিয়ন টার্কির বেচাকেনা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আয়ের মানুষ অর্থাৎ যাদের টার্কি কেনার সাধ্য নেই, তারাও টার্কি সংগ্রহ করেছে ফুড শেয়ার নামক একটি সংস্থা থেকে। থ্যাঙ্কস গিভিংয়ে যেন টার্কি না খেলেই নয়। তাই টানা চার দিনের ছুটি পেয়ে সকলেই ছুটছে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিকটজনের সাথে দেখা করতে। আকাশ ও সড়ক পথে যাত্রীদের প্রচন্ড ভিড়।
গত তিন দিন ধরে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর সবচেয়ে বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন থ্যাঙ্কস গিভিংয়ের ছুটিতে। বিশেষ করে আকাশ পথে আভ্যন্তরিন বিমানের টিকেট বিক্রি হয় দ্বিগুন। প্রতি বছর বিমান যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার ফলে গত বছর থেকে ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিশট্রেশন (টিএসএ) নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে ১২ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোর ও বয়স্কদের বিমানে ভ্রমনকালে সিকিউরিটি চেকিংয়ে জুতা খুলতে হবে না। গত বছর দেয়া এ ঘোষনায় এখনও বলবৎ রয়েছে, তা শুনে বিমানবন্দর গুলোতে আগত যাত্রীরা কিছুটা খুশি হয়ে উঠেন। এ আইন আর কতদিন বলবত থাকবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও ঘরে বসে নেই। হালাল টার্কির খোঁজে তারাও ছুটছেন স্থানীয় গ্রোসারির দোকানগুলোর। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও গ্রোসারি দোকানগুলো হালাল টার্কি সংগ্রহে ভিড় জমেছে। নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস,ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ম্যারিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলিনা, সাউথ ক্যারোলিনাসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি ও মুসলমান মালিকানাধীন গ্রোসারির দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমানে হালাল টার্কি বিক্রি করেছে। গত তিন দিন ধরে উক্ত দোকানগুলোতে দেদারছে চলছে হালাল টার্কির বেচাকেনা।
Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here