আফ্রিকার উগান্ডা থেকে আমদানী করা নেরিকা জাতের ধান চাষে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। তিন বছর আগে ৬০ গ্রাম নেরিকা ধান বীজ দিয়ে আবাদ শুরু করলেও বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের হাতে মজুদ রয়েছে পাঁচশ টনের উপরে। অপরদিকে চলতি মৌসুমে আবাদও হয়েছে ৯০ একরে। ফলনেও সন্তুষ্ট বিএডিসি।

দেশের খাদ্য সংকট মোকাবেলা আর খরা বন্যার পরবর্তী আপদকালীন ফসল উদ্ভাবনে সর্বসময় ব্যস্ত রয়েছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। তারপরও স্বল্প সময়, অধিক ফলন আর যে কোন সময়ে আবাদযোগ্য ফসল উদ্ভাবনে সফলতা দেখাতে পারেনি ধানগবেষণা কেন্দ্র । আর তাই নানামুখি বৈশিষ্ট সম্বলিত নেরিকা জাতের ধান বীজ আনায় হয় সুদূর আফ্রিকা থেকে। গবেষণা শুরু হয় টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিএডিসির খামারে।

অকাল বর্ষণে  বিনষ্ট হয়ে যাওয়া ফসলী মাঠেও এই ধান আবাদ করে পাওয়া গেছে ব্যাপক সফলতা জানালেন বিএডিসির কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিএডিসির খামারে অনুষ্ঠিত শষ্য কর্তণ উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে বিএডিসি’র চেয়ারম্যান ড. এসএম নাজমুল ইসলাম, কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান, বিএডিসি’র পরিচালক (উদ্যান উইং) নুরুজ্জামান, পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে কৃষিবিদরা জানান, আফ্রিকার উগান্ডা থেকে আমদানী করা নেরিকা-১ ও নেরিকা-১০ জাতের ধান পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়। এই জাতের ধান খরা মৌসুমে চাষ যোগ্য এবং অনেক বেশি ফলনশীল। এই ধান বপন ও ছিটিয়ে উভয় পদ্ধতিতে চাষ করা যায় এবং সার কম লাগে। ফলে উৎপাদন ব্যয় হয় কম। চাষীরা খুব সহজেই এই ধান চাষ করতে পারে। এজন্য চাষীদের প্রশিক্ষন ও বীজ দিয়ে সহযোগিতা করবে বিএডিসি।

সমাবেশে টাঙ্গাইল সহ চারটি জেলার বিএডিসি ও কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সহ সফল চাষীরা উপস্থিত ছিলেন।

দিগন্ত জোড়া মাঠে নেরিকা-১ ও নেরিকা-১০ ধানের সোনালি ঝিলিক দেখে আনন্দিত কৃষক। মাঠ দিবসে আগত কৃষকরা আগামীতে এই ধান চাষ করবেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

বহুমাত্রিক সুবিধা সম্বলিত এই নেরিকা ধানকে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পাড়লে অবশ্যই বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে বলে আশা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মহ-পরিচালকের।

নেরিকা ধানের সফলতার মধ্য দিয়ে লাভবান হবে দেশ, কৃষি ও কৃষক। কমবে আমদানি নির্ভরতা। আর খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ । এটাই সকলের কামনা।

ইউনাইটেড নিউজ ২৪ ডট কম/শাহরিয়ার সিফাত/টাঙ্গাইল

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here