ঝিনাইদহে আমনের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা হতাশ

শাহারিয়ার রহমান রকি, ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের ৬টি উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ। জেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোতে এখন আমন ধান কাটার মহা উৎসব চলছে। আর ঘরে ঘরে চলছে নতুন ধানের পিঠা পায়েস আর নবান্নের প্রস’তি।

এবার জেলার ৬টি উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। গৃহিণীদের পিঠা পায়েশের আয়োজন থাকলেও মৌসুমের শুরুতেই ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষকরা চরম হতাশায় রয়েছে। শুরুতেই ধানের বাজার একটু বেশি থাকলেও দিনের পর দিন তা নিম্নমুখি হচ্ছে। এখন চাষের খরচ উঠবে কিনা তানিয়ে দেখা দিয়েছে সঙ্কা।

সরজমিনে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের চেয়ে মনপ্রতি ১০০টাকা করে ধানের দাম কমে গেছে। বর্তমানে ৪০০টাকা থেকে ৫০০ টাকা মন ধান বিক্রয় হচ্ছে।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঝিনাইদহ জেলায় ৯২,২০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় ২১,৯৬০ হেক্টর, কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৭,৬৩৫ হেক্টর, হরিণাকুন্ড উপজেলায় ১০,৩২০ হেক্টর, শৈলকুপা উপজেলায় ১৭,৭৫০ হেক্টর, মহেশপুর উপজেলায় ১৭,৩৬৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুর ্‌উপজেলায় ৭,১৭০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকুল, চাহিদা অনুযায় বৃষ্টিপাত ও সার কীটনাশকের সরবরাহ ভাল থাকায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজার পরিসি’তি সনে-াষজনক না হওয়ায় সব আশা নিরাশার সাগরে ভেসে যেতে বসেছে।

বর্তমানে জেলার প্রায় শতকরা ৮০% জমিতে ধান কাটা প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এমনই একজন কৃষক জব্বার আলী অভিযোগ করে বলেন, ১ হাজার টাকা বস-া ইউরিয়া, ৫৬ টাকা লিটার ডিজেল ও বেশি মূল্যে কীটনাশক ক্রয় করে প্রতি কেজি ধানের মূল্য কমপক্ষে ১৩ টাকা সেই হিসাবে ১ মন ধান উৎপাদনের খরচ পড়ে যাচ্ছে প্রায় ৫৬০ টাকা। এতে উপজেলায় কৃষকরা লোকসান দিয়ে ধান বিক্রয় করে ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন। এ অবস’া চলতে থাকলে আগামীতে কৃষকরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে বলে অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

হঠাৎ করে ধানের দর পতনের কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুরোদমে ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও সরকারীভাবে মূল্য নির্ধারণ ও সংগ্রহ অভিযানের ঘোষনা না দেওয়ায় আমন ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা।

এদিকে বাজারে ধানের মূল্য না থাকায় এক শ্রেণীর সুদখোর মহাজন কোমর বেধে বাকি টাকা আদায়ের মাঠে নেমেছে। মহাজনের চাপে কৃষকরা কম মুল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে কৃষকরা চোখে শস্যের ফুল দেখতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের ডেপুটি ডাইরেকটর খন্দকার সিরাজুল করিম জানান, আবহাওয়া অনুকূলে, সময়মত সার কীটনাশক এর সংকট সৃষ্টি না হওয়ায় এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করি আগামী ইরি, বোরো মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হবে আশা করা যাচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা আলুর বাম্পার ফলনের স্বপ্ন

সুজন। মুন্সীগঞ্জ: মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায়  চলতি মৌসুমে আলু আবাদে বাম্পার ...