ডেস্ক রিপোর্ট ::বর্তমানে আলাদা সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর। তবে একীভূত হয়ে নতুন একটি দল বা জোট করার চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা। তাদের এই প্রক্রিয়ায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ‘রাষ্ট্র চিন্তা’ নামে একটি সংগঠনের দায়িত্বশীলরাও যুক্ত রয়েছেন।

উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গেছে, চূড়ান্তভাবে দল করার আগে যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করবেন তারা। ইতোমধ্যে গত ২৮ নভেম্বর জাতীয় শহীদ মিনারে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে তারা একটি যৌথ সমাবেশ করেছেন। সে সমাবেশে মওলানা ভাসানী অনুসারী পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র চিন্তা একসঙ্গে অংশ নেয়।

প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত নেতারা বলছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও রাজপথে কর্মসূচি নির্ভর এবং আরও নিরীক্ষার ভেতর দিয়ে যাবে। সেদিক থেকে সমমনা অপরাপর কোনও দল যুক্ত হলে উদ্যোগটি জোটগত রূপ নিতে পারে।

অন্য একটি সূত্রের দাবি, নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

গণসংহতি আন্দোলনের একাধিক নেতা জানান, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি কেন্দ্রিক ঐক্য করতে বরাবরই আগ্রহী গণসংহতি। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নে দলটির কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের অন্যতম একজন সদস্য বলেন, ‘একসঙ্গে অনেক কর্মসূচি দেওয়ার ইচ্ছা আছে, এমনকি একটা জোট তৈরির সম্ভাবনাও আছে।’ তবে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক মিলে নতুন দল করার বিষয়ে কোনও নেতাই স্বনামে উদ্ধৃত হতে রাজি হননি।

এর আগে প্রয়াত রাজনীতিক আবদুস সালামের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি ২০১০ সালে গণসংহতি আন্দোলনের সঙ্গে একীভূত হয়। গণসংহতি নেতা দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ২০১০ এ গণসংহতি আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আগে ২০০৯ সালে কৃষক ফেডারেশন নামে একটি সংগঠন মজদুর পার্টির সঙ্গে যূথবদ্ধ হয়। পরের বছর আবদুস সালাম ও দেওয়ান আবদুর রশিদ মিলে গণসংহতি আন্দোলনে তাদের পার্টি একীভূত করেন।

গণসংহতি আন্দোলনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার পক্ষে গণসংহতি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী জামায়াতে ইসলামী ছাড়া অন্য সব দলের সঙ্গেই ন্যূনতম রাজনৈতিক ঐক্য করার পক্ষে দলটির নেতারা। আর একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী সংগঠনের মূল শক্তি, নেতৃত্ব ও যৌথ কর্মসূচিতে তাদের নেতাকর্মীদের আচরণ ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবস্থান পরিষ্কার হওয়ার পরই নতুন দল বা জোট করার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

সংহতির রাজনৈতিক পরিষদের আরেক সদস্য মনে করছেন, ‘প্রক্রিয়াটি এখনও নিশ্চিত কিছু নয়। দল হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। তবে রাজনৈতিক ঐক্য-প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here