জামায়াত নেতা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অংশ নেয়ায়

জামায়াত নেতা জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অংশ নেয়ায়গাজী হানিফ মাহমুদ, নরসিংদী প্রতিনিধি :: নরসিংদীর শিবপুরে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে জামায়াত দলীয় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অংশ নেয়ায় অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা।

মঙ্গলবার সকালে শিবপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে শিবপুর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক উপজেলা পরিষদ মাঠে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

যথারীতি ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয় উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাসহ সুধী সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে। আমন্ত্রণ পেয়ে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দসহ সুধী সমাজ হাজির হন উক্ত অনুষ্ঠানে।

সকাল নয়টায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শুরু হলে নিয়ম অনুযায়ী যৌথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে অংশ নেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আফসার ও শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ইমাম হোসেন।

এরই মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে উপস্থিত না থাকলেও আকস্মিকভাবে হাজির হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসির সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনে হাত দেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুর রহমান।

এঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন উপরিস্থত মুক্তিযোদ্ধারা। তারা জামায়াত নেতা কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাৎক্ষনিক উপজেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠান বয়কট করে চলে যান।

এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে শিবপুর থেকে অপসারণের দাবী জানান।

এ ব্যাপারে শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার আবদুল মোতালিব খান বলেন, ওই জামায়াত দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান যাতে মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রন না পান, সে বিষয়ে আগেই উপজেলা প্রশাসনের নিকট দাবী জানিয়েছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধারা। সে সময় বিষয়টি দেখা হবে বলে জানিয়েছিলেন ইউএনও সাহেব।

কিন্তু আজকের মহান অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতার নাম ঘোষণা করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য বলা হয়েছে যা আমরা মুক্তিযোদ্ধারা মেনে নিতে পারিনি, তাই অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।

শিবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সৈয়দ সিরাজ উদ্দিন বলেন, জামায়াত নেতা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবে আর মুক্তিযোদ্ধারা তা বসে উপভোগ করতে পারেনা। তাই আমরা অনুষ্ঠান বর্জন করেছি এবং বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দেয়া হবে। যদি এই উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তাকে এখান থেকে না সরানো হয় তাহলে উপজেলা প্রশাসন ঘেরাও করবে মুক্তিযোদ্ধারা।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম মৃধা বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এলে মুক্তিযোদ্ধাদের আপত্তির মুখে আবার চলে যান, তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেননি। এরপরও যদি উনারা (মুক্তিযোদ্ধারা) অনুষ্ঠান বর্জনের কথা বা ইউএনও’র অপসারণ চান তা যুক্তি সংঘত নয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আফসার বলেন, আপত্তির মুখে ভাইস চেয়ারম্যান সাহেবকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রন জানানো হয়নি, এমন কী আমন্ত্রণপত্রে বা আজ মাইকেও তার নাম ঘোষণা হয়নি। কিন্তু আমরা যখন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছিলাম এবং জাতীয় সংগীত চলছিল তখন পেছন দিক থেকে অগত্যা এসে তিনি দাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক সে মুহুর্তে তো আর তাকে আমরা বের করে দিতে পারিনা, যেহেতু তিনি একজন জনপ্রতিনিধি।

Print Friendly, PDF & Email
0Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় দু’দিনের রিমান্ডে তিন ছাত্রনেতা

ডেস্ক রিপোর্ট:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীর করা ধর্ষণ মামলায় ছাত্র অধিকার ...