জাপানে প্রথম মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত

ডেস্ক রিপোর্টঃঃ  জাপানে মাঙ্কিপক্স ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম একজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিদেশ ঘুরে আসা ওই ব্যক্তির বয়স ৩০-এর কোঠায়। সোমবার দেশটির রাজধানী টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কোইকে জাপানে এই মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কোইকে বলেছেন, ৩০-এর কোঠায় থাকা এক ব্যক্তির মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়েছে। যার বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস রয়েছে। সম্প্রতি তিনি ইউরোপ থেকে ফিরেছেন। জাপানে এটাই প্রথম মাঙ্কিপক্স সংক্রমণের ঘটনা।

তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি বর্তমানে টোকিওর একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তবে তার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেননি টোকিওর এই গভর্নর। তথ্য সংগ্রহ, ক্লিনিকে রোগীদের পরীক্ষা ও ভর্তির জন্য জাপানের সরকার টাস্কফোর্সের এক বৈঠক ডাকার করার কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটিতে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে, ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের কারণে মাঙ্কিপক্স ভাইরাস নিয়ে শনিবার বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মাঙ্কিপক্স ভাইরাস নিয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সতর্কতা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭৪টি দেশে ১৬ হাজার ৮০০ জনের বেশি মাঙ্কিপক্স রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

ভাইরাল সংক্রমণজনিত এই রোগটি পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকায় সাধারণত সবচেয়ে বেশি দেখা গেলেও চলতি বছর সেই গণ্ডি পেরিয়েছে। গত ৭ মে প্রথম একজন ইউরোপীয় নাগরিকের দেহে মাঙ্কিপক্স শনাক্ত হয়। নাইজেরিয়া থেকে ওই ব্যক্তি ইংল্যান্ডে ফিরে এসেছিলেন।

সিডিসি কারও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে আইসোলেশনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। তবে বর্তমানে মাঙ্কিপক্সের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হওয়া লোকজনের মাঝে— এমন অনেক পুরুষ আছেন, যারা পুরুষদের সাথে যৌন সম্পর্ক করেছেন। স্পেনের মাদ্রিদ অঞ্চলের সাউনার কয়েকটি ঘটনায় এ ধরনের শারীরিক সম্পর্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নালে প্রকাশিত বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫২৮ জন মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ রোগীর শরীরে যৌন কার্যকলাপের মাধ্যমে মাঙ্কিপক্স সংক্রমণ ঘটেছে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে এটাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বৃহৎ পরিসরের গবেষণা।

সূত্র: রয়টার্স।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here