‘জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন’ এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার গড়ে তুলতে চায় জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন

স্টাফ রিপোর্টার :: বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর প্রতি দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হয়েছিল আয়োজনটি। জনাকীর্ণ আর জ্যামের শহর ঢাকা যখন গোধুলির আঁধারে ঢেকে যাচ্ছে, ঠিক তখন বই পড়ি পাঠাগার গড়ি’ স্লোগানে-বইয়ের আলো জ্বলে উঠল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট মন্ডল অডিটরিয়ামে। সময়ের সাথে সাথে পাঠাগার ও বইপ্রেমিদের সংখ্যা বাড়তে লাগলো। ঘড়ির কাটায় যখন প্রায় ৫ টা ১০ মিনিট বাজে, তখন এক এক করে মঞ্চে উঠলেন প্রফেসর এমিরেটাস ও বিজ্ঞানী গবেষক ড. এম ফিরোজ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মোশতাক গাউসুল হক (পিএইচডি), বাংলাদেশ লাইব্রেরি এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব কাশেম মাসুদ, কবি ও গবেষক ইমরান মাহফুজ, শিক্ষক ও বিশ্ব পরিব্রাজক এলিজা বিনতে এলাহী, গাজী বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী কামাল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর সহসভাপতি (ভিপি) নুরুলহক নুর।

এঁরা সবাই ‘জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ’কে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছেন। অনুষ্ঠান শুরুর ঠিক আগ মুহুর্তে শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর এমিরেটাস ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

আরিফ চৌধুরী শুভ এর সঞ্চালনায় এই আয়োজনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছে বুয়েটের সাবেক ডীন এবং জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের অন্যতম উপদেষ্টা ড. এম ফিরোজ আহমেদ এবং সভাপতিত্ব করেছেন গাজী বাংলাদেশ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী কামাল।

২২ জানুয়ারির ছিল ‘জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ’ এর ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এবার নতুন পাঠাগার উদ্বোধনের মাধ্যমে ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেছে সংগঠনটি। লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরে অবস্থিত ‘আবর্তন পাঠাগা’ নামে একটি নতুন পাঠাগারের উদ্বোধন করেন প্রফেসর এমিরেটাস ড. এম ফিরোজ আহমেদ। এছাড়াও ৩য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রথম বারের মতো ‘পাঠাগার ডায়েরি-২০২০’ এর মোড়ক উন্মোচন করেছে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন।

একেবারে সাদামাঠা কিন্তু পুরো আয়োজনে প্রাণবন্ত ছিল বই ও পাঠকদের হৃদ্যতার মেলবন্ধনে। উপস্থিতিদের বেশিরভাগই ছিল বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বই নিয়ে কাজ করছেন এমন অনেক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত হয়েছেন জাপাআ কে শুভেচ্ছা জানাতে।

শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন-জাপাআ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভপতি আরিফ চৌধুরী শুভ বলেন, জাপাআ এর হাত ধরে একদিন বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার গড়ে ওঠবে। এই জন্য সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আমাদের একান্ত দরকার। আমাদের বিশ্বাস সহযোগিতা পেলে আমরা বিদ্যুত গতিতে এই কাজ এগিয়ে নিতে পারবো। আজকের বাংলাদেশে দরকার সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ও পড়ুয়া তারুণ্য। কারণ সংস্কৃতিমনা ব্যক্তি ও পড়ুয়া তারুণ্য কখনো বিপথগামী হতে পারেন না। পাঠাগার আন্দোলন পাঠাগার গড়ার মাধ্যমে সেই পড়ুয়া ও সংস্কৃতমনা সমাজ গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ডাকসুর ভিপি নুরুলহক নুর বলেন, আমি ইংরেজি লিটারেচারের শিক্ষার্থী কিন্তু আমিও সাহস করিনি এমন একটি আন্দোলন করার। অথচ আরিফ ভাই শুধু পাঠাগার আন্দোলই করছেন না অন্যান্য সামাজিক কাজের মাধ্যমে তিনি দেশের জন্য আদর্শ তারুণ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অথচ আজ আমাদের সবারই সমাজের জন্য দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এই সকল আন্দোলন করা দরকার। কিন্তু আমরা এইসব না করে লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতির পিছে ছুটে বেড়াচ্ছি। আমি সরকার ও  এই মঞ্চে উপস্থিত আজকের অতিথিদের বলবো আপনারা জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনকে সহযোগিতা করেন। আর্থিক স্বচ্চলতা ছাড়া কোন সংগঠনই সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে না। তাই এই কাজে সবার আগে সরকারকেই এগিয়ে আসা উচিত বলে আমি মনে করি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সাইন্স এন্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান মোশতাক গাউসুল হক (পিএইচডি) বলেন, আমি বই রিলেটেড একটা ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান। আমাদের কাজই হচ্ছে বই, পাঠক ও শিক্ষার প্রসার কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করা। গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরও বই নিয়ে কাজ করে। আরো কিছু সংগঠন আছে যারা চেষ্টা করে যাচ্ছে বিচ্ছিন্নভাবে। তবে জাপাআ এর কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে। জাপাআ এর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমরা সবাই মিলে একসাথে সমন্বয় করে যেন কাজ করতে পারি। যেহেতু সবার উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন, সেহেতু এটা করতে পারলে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগবে না আমাদের।

প্রধান অতিথি ড. এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, লেগে থাকার মধ্যে সফলতা আছে। জাপাআ লেগে ছিল বলে এতগুলো পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করতে পারলো এই অল্প সময়ে। আজকেও আমি নতুন পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করলাম। এই সময়ের জন্য জাতীয় পাঠাগার আন্দোলন আলোকবর্তিকা। এই লেগে থাকাই একদিন আরিফের যে স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে পাঠাগার গড়ে তোলা, সেটি সফল হবে। সেদিন হয়তো বিরাট একটা এচিভমেন্ট হবে আমাদের দেশের  জন্য। রাষ্ট্রের অর্থের যোগানাদাতারা যদি মনে করে তাদের এই এচিভমেন্ট দরকার, তাহলে জাপাআকে সবারই প্রমোট করা দরকার। পকেটের পয়সা দিয়ে টিউশানির টাকা দিয়ে আরিফ আর কতদিন পাঠাগার গড়বে? তারওতো টিকে থাকা দরকার। আশা করি এই পথচলা আরো মসৃণ হবে খুব শিগ্রই।

অনুষ্ঠানের শেষ প্রান্তে মনমুগ্ধকর গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

 

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

x

Check Also

কক্সবাজারে পরিবেশ বান্ধব গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ

ঢাকা :: কক্সবাজারে বৃক্ষ উজাড় হওয়া রোধ করা ও এই অঞ্চলে জীবিকার ...